জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নিখোঁজের দুদিন পর ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভেসে এল কলেজছাত্রের মরদেহ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ১৩
নুরুল্লাহ শাওন। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর আনন্দমোহন কলেজের ছাত্র শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভেসে আসে মরদেহটি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের সহপাঠীরা জানান, গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত ৭ জনের একটি কিশোরদল ঘিরে ধরে তাঁদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। ৪ জন পিছু নেয় শাওনের এবং ৩ জন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওনের কোনো সন্ধান মিলছিল না।

শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদের চড়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। নিহত নুরুল্লাহ শাওন ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

এ দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবরে নিহতের সহপাঠী ও কলেজের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা ঘটনায় জড়িতের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন। ক্ষোভ জানিয়ে নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোরদলের কবলে পড়ে। একজন সাঁতরে নদ পার হয়ে চলে আসলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সকলের নাম ঠিকানা পুলিশকে দিলেও পুলিশ কিছু করেনি। ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহিদা বেগম বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬-এর মধ্যে। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, লাশ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত