জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিএনপির বাধায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি রুমিন ফারহানা, ক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ২৯
বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি রুমিন ফারহানা। সংগৃহীত ছবি

বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেছেন রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক। পরে এ ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুমিন ফারহানা।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এ সময় পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনক পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, আমরা যথাযথভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে আসেন। ফুল দেওয়া নিয়ে অনাঙ্খিত কিছু ঘটে থাকলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ার রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি যদি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, 'ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমিই সবচেয়ে আগে ফুল দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা গেলো যে বিএনপির কিছু লোক রীতিমতো হামলা চালায় আমার নেতাকর্মীদের ওপর। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। আমি এটুকুই বলব যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতাকর্মীদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করে এখনই, এর পরিণতি ভয়াবহ রকমের হবে।'

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, যেহেতু দীর্ঘ ১৫ বছর একটা লম্বা সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নানানভাবে চাপে ছিল, লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে; তারা যখন এরকম একটা ভয়ঙ্কর হিংস্রতা নিয়ে রাজনৈতিক পদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে, এটা আমার মনে হয় দলের উঁচু পর্যায় থেকে বিষয়টি মনিটর করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, এটা দলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর হবে। সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। সরকার মাত্রই এসেছে। আমি আশা করব বিএনপি সরকার এবং দল হিসেবে এ ধরনের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে।'

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি কী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত