একদিনেই আবদ্ধ লালন স্মরণোৎসব, হবে না মেলা-আসর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের মাজার। স্ট্রিম ছবি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব এবারও মাত্র একদিনেই শেষ হচ্ছে। প্রতি বছর তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসলেও এবার পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে এই পরিসর সীমিত করা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে এই উৎসব। তবে এতে গ্রামীণ মেলা ও বাউল গানের আসর থাকছে না বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসন। সময় কমিয়ে আনায় আক্ষেপ করেছেন লালন ভক্ত-অনুসারীরা।

জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাধু যারা আছেন, তাঁদের করণীয় প্রত্যেকটি কাজই তাঁরা করবেন তাদের মতো করে। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা দিব। লালন স্মরণোৎসব এবার পবিত্র রমজান হওয়ায় অনুষ্ঠান কমিয়ে আনা হয়েছে।’

স্মরণোৎসবে ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়াবাড়ির অডিটোরিয়ামে যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। এছাড়া আগত লালন ভক্ত-অনুসারীদের আপ্যায়নের মধ্যে অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা। এতে বাদ পড়ছে গ্রামীণ মেলা ও বাউল গানের আসর।

ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসবে এসেছেন তাঁর অনুসারীরা। স্ট্রিম ছবি
ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসবে এসেছেন তাঁর অনুসারীরা। স্ট্রিম ছবি

লালন আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান রিপন জানিয়েছেন, আগামী সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এ সময় মুড়ি দিয়ে আগত ভক্তদের ‘রাখাল সেবা’ দেওয়া হবে। রাত ১২টা ১ মিনিটে খিচুড়ি দিয়ে করা হবে ‘অধিবাস সেবা’। পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পায়েস দিয়ে বাল্য সেবা ও দুপুরে ভাত, মাছ, সবজি, ডাল, দইসহ পাঁচ পদের খাবার দিয়ে পূর্ণ্য সেবা দেওয়া হবে আগত সাধু ভক্তদের মাঝে।

এবারের অনুষ্ঠান রমজানের কারণে সংক্ষিপ্ত করায় আক্ষেপ আছে ভক্তানুরাগীদের। মনে কষ্ট রেখেই তিন দিনের মিলন মেলা এক দিনে শেষ করে বিদায় নিতে হবে তাঁদের। তবে বড় পরিসরে আয়োজন না হলেও খুব একটা আক্ষেপ নেই সাধু-ভক্তদের। সাধুসঙ্গের আয়োজনটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁরা।

লালন অনুসারী ফকির রেজা শাহ্ বলেন, ‘আমাদের অরিজিনাল যে সাধু সঙ্গ, আমাদের পালন করতে খুব কষ্ট হয়। বাইরের মানুষ এসে আমাদের বিরক্ত করে। এখানে সাধারণ মানুষের কোনো কাজ নেই। আমরা লালন সাঁইয়ের মতবাদ চর্চা করি। এখানে ভাবনার ব্যাপার আছে, চিন্তার ব্যাপার আছে। সেজন্য আমরা এখানে নিরিবিলি পরিবেশ চাই।’

রেজা শাহ্ বলেন, ‘এবারের আমাদের উৎসবটা ভালো হবে। কোলাহল ও বিক্ষিপ্ত মানুষ মুক্ত পরিবেশে আমরা চর্চা করতে পারব। চিন্তা করতে পারব। ভাবনায় ডুবতে পারব। জ্ঞান অর্জন করতে পারব।’

ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসবে এসেছেন তাঁর অনুসারীরা। স্ট্রিম ছবি
ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসবে এসেছেন তাঁর অনুসারীরা। স্ট্রিম ছবি

লালন অনুসারী সীমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান তিনদিন হলে পরিপূর্ণ হয়। ধরেন, আমি পেট ভরে খেতে পারব, কিন্তু আমাকে তিন ভাগের একভাগ খেতে দিলে কি ক্ষুধা মিটবে? মিটবে না। তেমনই সঙ্গটাও অনেকখানি কম হবে আমাদের। তারপরও যতটুকু পারব আমরা সঙ্গটা নিতে, কিন্তু আমাদের আফসোস থেকে যাবে। চেষ্টা করব যতটুকু পারি তিনদিনের সাধ একদিনে মিটাতে। কিন্তু কমতি থেকেই যাবে। আমাদের কষ্ট থেকেই যাবে।’

জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।’

সাধক লালন সাঁই তার জীবদ্দশায় দোল পূর্ণিমার রাতে শিষ্যদের নিয়ে কালীগঙ্গার ধারে সাধুসঙ্গে বসতেন। তাঁর তিরোধানের পরও আঁখড়াবাড়িতে প্রতি বছর দিবসটি ঘিরে এ উৎসব পালিত হয়। গত বছর ১৩ মার্চ ছেঁউড়িয়ায় বাউল সাধক লালন শাহের আখড়াবাড়িতে এক দিন লালন স্মরণোৎসব হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত