বেকারি ও রেস্তোরাঁয় দাম বৃদ্ধির চাপ

বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি এর বিপুল ভোক্তাসাধারণের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করে, তা সহজেই অনুমেয়। সম্প্রতি স্ট্রিমের প্রতিবেদনে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট খাত থেকে বলা হয়, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের সামনে এর বিকল্প নেই। মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে তারা দাম বাড়াতে চান বলে জানা গিয়েছিল।
বেকারি পণ্যের দাম কম ছিল, তা নয়। প্রকৃতপক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আটা-ময়দাসহ খাদ্য উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে বেকারি পণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়েছে। কখনো কখনো দাম না বাড়িয়ে প্যাকেটে সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াটাও খবর হয়। উৎপাদন ব্যয় বেশি বাড়লে দুই ঘটনা একযোগে ঘটার প্রবণতাও লক্ষণীয়। তাতে ওইসব পণ্যের নিয়মিত ক্রেতা, বিশেষত শ্রমজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দাম বাড়ানোর সময় উৎপাদকদের দুশ্চিন্তা থাকে পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ার। বাজার সংকোচনের এমন ঘটনাও ঘটছে কিনা, কে জানে। দেশে সাত হাজারের মতো ক্ষুদ্র বেকারি আছে বলে স্ট্রিমের প্রতিবেদক জানিয়েছিলেন। এর একাংশ নাকি উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কিছু বিজনেস গ্রুপও এ খাতে ভালো ব্যবসা করছিল। কিছু বেকারি পণ্য রপ্তানিও হয়ে থাকে। এ খাতের বিকাশে খাদ্য উপকরণের আমদানিও বেড়েছিল। পরিশোধনকারী কলকারখানা গড়ে উঠেছিল। এখন এক গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেই এগুলোর অবস্থা খারাপ। পূর্ণ ক্ষমতা ও মাত্রায় কারখানা চালু রাখতে না পারাতেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। হালে আটা-ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার আগে এগুলোর সরবরাহ কমেছিল। এটাকে অনেকে ‘দাম বাড়ানোর কৌশল’ বলে বর্ণনা করেন। তবে খাদ্যপণ্য শিল্পে সৃষ্ট সংকট অস্বীকার করা যাবে না। এর প্রভাব আবার গিয়ে পড়ছে বেকারি খাতে। তাতে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে কিছু বেকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এ খাতে কাজের সুযোগও কমবে। ২৫ লাখের মতো মানুষ এতে নিয়োজিত বলে জানা যায়।
অতিসম্প্রতি একটি বিজনেস ডেইলি প্রস্তুতকৃত খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যে ১০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাওয়ার খবর দিয়েছে। বেকারির পাশাপাশি একই ধরনের উপকরণ ব্যবহারকারী রেস্তোরাঁয়ও খাবারের দাম বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষণীয়। ফুটপাতের দোকানগুলো এর বাইরে থাকবে না। আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, ডিম, চিনি, দুধের সঙ্গে চা-পাতার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে চায়ের দোকানে ভিড় কমলে এ খাতে ব্যবসা করা মানুষজনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রেস্তোরাঁ খাত চাপে পড়লে সামনে পর্যটন মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল অগণিত ভোক্তার পরিস্থিতি কী দাঁড়াচ্ছে, সেটা তো সহজেই অনুমেয়। এদের সিংহভাগ আবার বেসরকারি খাতে কর্মরত, যাদের মজুরি কিংবা বেতন কোনোটাই সহজে বাড়ে না। বাড়ছে বরং কর্মহীনতার চাপ।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সংকেত মিলছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এতে কৃষিপণ্যের বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাপ। জ্বালানির পাশাপাশি অনেক কৃষিপণ্যও আমরা বিপুলভাবে আমদানি করি বলে এ খাতে প্রতিকূলতা বাড়ার শংকা এসে উপস্থিত। এ অবস্থায় দেশে চালসহ খাদ্যশস্যের উৎপাদন কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। বিশেষত সার সংকট যেন কৃষকদের দমিয়ে না দেয়। তাদের জন্য সরকারের সহায়তা কার্যক্রম প্রশংসনীয়। ঘরে-বাইরে খাদ্যপণ্যের কোটি কোটি ভোক্তাকে রক্ষায়ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বেকারি ও রেস্তোরাঁয় অধিক খরচের চাপ তারা কীভাবে সামলাবে, তা এক বিরাট প্রশ্ন। সরকার এ ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকর সহায়তা জোগাতে পারে, সেটাও জরুরি ভিত্তিতে আলোচনার বিষয়। অংশীজনদের সঙ্গে বসে ধরে ধরে এসব খাতের সমস্যা যতটা সম্ভব ‘অ্যাড্রেস’ করার কোনো বিকল্প এখন নেই।
বিষয়:
সম্পাদকীয়.png)
-028855-256x144.webp)


