বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা, আদালত চত্বরেই গ্রেপ্তার বাদী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৪৪
যশোর জেলা দায়রা জজ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার (১৬ এপ্রিল) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা শরিফুল আলম।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন আদেশের জন্য আবেদন অপেক্ষমাণ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।

এদিকে, মামলার পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় বাদী শরিফুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।

আদালত সূত্র জানায়, আইনবহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ৪ মার্চ যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরপর আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলছে। শরিফুল আলমের একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল।

গত ৩০ মার্চ আইনজীবীদের কর্মবিরতির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে সময়ের আবেদন করেন। বিচারক রাশেদুর রহমান সেটি নামঞ্জুর করে বাদীর বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ করেন এবং আইনবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন। মামলার আরজিতে বলা হয়, বিচারক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।

এর আগে বাদী এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিলেও তা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন।

শরিফুল আলম ‘মেসার্স এস আলম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসা-সংক্রান্ত ঋণের ব্যাপারে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখা তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছিল। এটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন।

সম্প্রতি এ মামলার রায়ে শরিফুল আলমকে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। তিনি পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আর এটিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ আজ শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ‘ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক এটি বিচারাধীন রেখেছেন; আমরা প্রত্যাশা করি, বিচারক এই মামলার আবেদন গ্রহণ ও বিচারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে যশোরের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। যশোরের আদালতে আইনের শাসন ও বিচারিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করায় তিনি প্রতিহিংসার শিকার।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে পারবেন।

সম্পর্কিত