সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আশা সিইসির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫৬
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংগৃহীত ছবি
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংগৃহীত ছবি

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিলে এ বছরের শেষে কিছু নির্বাচন এবং ধাপে ধাপে আগামী বছরের শুরুতে বাকি নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, হয়তো আমরা সেপ্টেম্বরে শিডিউলটা ঘোষণা করতে পারব। ফেব্রুয়ারিতে রমজান এসে যাবে, তখন নির্বাচন করতে পারব না। ফলে আমাদের যে সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে হবে, সেই সুযোগ খুবই সংক্ষিপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘রমজানের পর ঈদুল আজহা ও বর্ষাকাল রয়েছে। এ ধরনের নানাবিধ জটিলতা রয়েছে। পরীক্ষা, বর্ষাকাল, ঈদ ও দুর্গাপূজা বিবেচনা না করলে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা দ্রুত শেষ করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও অনুরোধ জানাবে ইসি। পরীক্ষা এগিয়ে আনা সম্ভব হলে নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ধাপের ভোট শুরু করা যেতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের বড় একটি অংশের মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে, তাই এসব নির্বাচন এ বছরের মধ্যেই করতে হবে।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে অনেক সময় এমন কিছু বিষয় চলে আসে যা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যেমন হঠাৎ বন্যা হলে সংকট তৈরি হয়। আবার দুর্গাপূজার আগে-পরে ছুটি থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকে, ফলে মাঝে কিছুটা বিরতি রাখতে হয়। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। স্কুলগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার করা হয়। পরীক্ষা থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সময় মানানসই করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে হবে। এ বছরের মধ্যে নির্বাচন শুরু করতে গেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে সম্পাদন করতে হবে। যেন নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ বা জটিলতা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করেই এগোতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সাক্ষাতে স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করার বিষয়ে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধন হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে আমরা ভোটারের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হবে, আমাদের অঙ্গীকারের কোনো ঘাটতি নেই। রাষ্ট্রপতিকে বলেছি—জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যে মানদণ্ডে করেছি, তার চেয়ে ভালো বৈ খারাপ কিছু হবে না। আমরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কাজ করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছি, তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের প্রসঙ্গ টেনে সর্বশেষ নির্বাচন সাত ধাপে হয়েছিল উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘২০২১ সালে প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউপিতে ভোট হয়েছিল জুন মাসে। নির্বাচন কমিশনের প্রথম লক্ষ্য থাকবে প্রথম ধাপে ওই ৩৭১টি ইউপিকে বিবেচনায় আনা। কোনোভাবেই প্রতিকূল বা খারাপ আবহাওয়ার মৌসুমে ভোট করা যাবে না, শুষ্ক মৌসুমেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। পার্বত্য এলাকার ভোটও শুষ্ক মৌসুমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়েই এগোতে হবে। শীতকাল নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মৌসুম। ইতোমধ্যে আচরণবিধি, আইন সংশোধন ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইন সংশোধনের খসড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে তা সংসদে পাস হতে হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত