leadT1ad

এই বাজেটে অর্থনীতির সংস্কার সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২২: ৩৮
বক্তব্য রাখছেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করা হলেও এই বাজেটের মাধ্যমে তা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১২ জুন) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে এবং প্রায় ৬ লক্ষ ৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা বর্তমান কর কাঠামো ও প্রশাসনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত রাজস্ব কখনোই আদায় হয়নি এবং সর্বশেষ বাজেটেও যেখানে মাত্র ৩ লক্ষ কোটির কিছু বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, সেখানে এক বছরের মাথায় তা দ্বিগুণ করা অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের পূর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল। যেটি সরকারকে সহায়তা করতে পারত। রাজনৈতিক সংস্কারের পর অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করা হলেও এই বাজেটের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের কর কমানো ইতিবাচক হলেও দেশে নজিরবিহীন দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতি করার সুযোগ তৈরি হওয়া। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে দলীয় এমপিরা বরাদ্দ পেলেও সেখানে কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ঋণ খেলাপিদের টাকা ফেরত নেওয়া, আওয়ামী আমলের লুটেরা ও পাচারকৃত টাকা আদায় এবং বিচারের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়ারা জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে থাকলেও তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বক্তব্য বাজেটে পাওয়া যায়নি, উল্টো ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি দেশের অর্থনীতির তিনটি মৌলিক সমস্যা— ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট উল্লেখ করে বলেন, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, যা থেকে উত্তরণের কোনো উপায় বাজেটে অনুপস্থিত। এই সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো কোনো বাজেট এটি হয়নি।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন। ট্রাইব্যুনালের বিচারের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার করা হবে। সংসদে এটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবং মিডিয়াতে তাদের উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হলে তা আইন লঙ্ঘন হবে এবং সরকার ও প্রশাসন তা দেখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত