জ্বালানি সংকট: বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫৮
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লোগো।

সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ স্থগিত করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিদ্যমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা এবং বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য এই ভোটগ্রহণ স্থগিত করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বার কাউন্সিলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী বিদ্যমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সাধারণ আসনের সাতটি ও আঞ্চলিক আসনের সাতটি পদে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন বার থেকে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়। সার্বিক পরিস্থিতি ও অনুরোধগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে গত ২ এপ্রিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯ মে অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ এপ্রিল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ মে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওই সভায় ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এ.এস.এম. বখতিয়ার আনোয়ার, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল আল মামুন, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম এবং রোল ও পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজ আহসানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে গত ৭ এপ্রিল বার কাউন্সিলের ১৪ জন সদস্য নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই তফসিল অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১৬ এপ্রিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই, ৩০ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ১৯ মে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের কথা ছিল।

বার কাউন্সিলের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এর মধ্যে বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেটদের মধ্য থেকে সাধারণ আসনে (জেনারেল সিট) সাতজন এবং সাতটি আঞ্চলিক (গ্রুপ) আসনের প্রতিটির আওতাধীন স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাত জন সদস্য নির্বাচিত হন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির প্রত্যেক ভোটার সাধারণ আসনের জন্য সাতটি ভোট দিতে পারেন। অন্যদিকে স্থানীয় আইনজীবী সমিতির ভোটাররা সাধারণ আসনের জন্য সাতটি এবং নিজ নিজ আঞ্চলিক আসনের জন্য একটি করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

ঘোষিত তফসিলে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন, দেশের সকল জেলা সদরের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণ এবং বাজিতপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, দুর্গাপুর, ভাঙ্গা, চিকন্দি, পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নবীনগর ও পাইকগাছা দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সম্পর্কিত