প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করতে ঢাকা-বেইজিং ঐকমত্য

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রক্রিয়া যাচাই করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। একই সঙ্গে বিনিময়, সফর এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ১৫ দফার যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারে এসব কথা বলা হয়েছে।

যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সমর্থন জানিয়েছে চীন। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চীন কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সফরে ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করেন তারেক রহমান। ২২ জুন তিনি চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে যোগ দিতে যান। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে ২৪ জুন বেইজিং পৌঁছান তারেক রহমান। আজ তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের পর প্রকাশিত ইশতেহারে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে জানানো হয়েছে, উভয় দেশ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি ‘কৌশলগত সংলাপ’ মেকানিজম প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে ঢাকা ও বেইজিং। এর পাশাপাশি কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ মেকানিজম খতিয়ে দেখতেও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিনিময়, সফর এবং প্রশিক্ষণসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়াবলিতে ঢাকা ও বেইজিং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়টিও ইশতেহারে উঠে এসেছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন জানিয়েছে চীন। চীন তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনা পক্ষ সামর্থ্য অনুযায়ী সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও আনুষঙ্গিক কাজ ত্বরান্বিত করতে বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করবেন।

উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকস (বিআরআইসিএস - ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও - সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা) অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদনকেও চীন সমর্থন জানিয়েছে।

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এগিয়ে নিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষ উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি সহযোগিতামূলক নথিতে স্বাক্ষর করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীন সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি চীনা নেতৃত্বকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে বেইজিংয়ে তারেক রহমান ও সি চিনপিংয়ের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের নানা দিক তুলে ধরেন তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে একটি ত্রিদেশীয় ‘অর্থনৈতিক করিডোর’ স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা, বাংলাদেশে চীনা কারখানার স্থানান্তর, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও দলীয় পর্যায়ে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত