leadT1ad

কাজ না করেই ১০০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পিরোজপুরের মিরাজুল দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১০
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ নিয়ে কোনো কাজ না করেই সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই অভিযোগ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের দায়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করা হয়। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং তদারককারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

৯৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার লেনদেন
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের নামে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি গাড়ি, সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক মূলধনসহ ৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অর্থপাচারের অভিযোগে এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মিরাজুল ইসলাম অপরাধলব্ধ প্রায় ২ হাজার ৬৯১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমা করেছেন। পরবর্তী সময়ে অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্থপাচারের অভিযোগ
মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে করা দ্বিতীয় মামলায় বলা হয়েছে, তিনি এলজিইডির নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। কার্যাদেশ পাওয়ার পর কোনো কাজ না করেই তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, শামীমা আক্তারের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয় বাদে তাঁর বৈধ আয় মাত্র ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, শামীমা আক্তার অপরাধলব্ধ ১২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা করেছেন। এর মধ্য থেকে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি অর্থপাচার করেছেন।

উল্লেখ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কোনো কাজ না করেই সরকারের প্রায় ১০০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এর আগেও এই দম্পতির বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করেছে দুদক।

পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাগুলো করেছিলেন। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

আজকের মামলাগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত