leadT1ad

ঢাকা-১৭: তারেক রহমানে চিত্র বদল দাঁড়িপাল্লার

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ০৭
তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। স্ট্রিম গ্রাফিক

অট্টালিকা ঘেঁষে টিনের বস্তি– সমাজের দুই প্রান্তের মানুষের বসবাস ঢাকা-১৭ (গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট) আসনে। এখানে লড়ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

শুরুতে এই আসনে বিএনপি জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে মনোনয়ন দেয়। তবে তারেক রহমান দেশে আসার পর এখানে ভোটার হন। পরে বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি এখানে প্রার্থী হন তিনি। ভোলা-১ আসনে লড়ছেন পার্থ।

স্থানীয়রা বলছেন, জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী বেশ আগে থেকেই প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। খালিদুজ্জামান বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। তাঁর বিপরীতে আন্দালিব রহমান পার্থকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। তৃণমূল বিএনপির সমর্থন তেমন পাচ্ছিলেন না তিনি। তবে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ার পর এখানে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী জোর প্রচার চালাচ্ছেন।

‘বিএনপি মাঠে নামার পর মোড় ঘুরে গেছে। জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামানের দাঁড়িপাল্লা এখন আর আগের মতো ভারী মনে হচ্ছে না’– কথাগুলো মহাখালীর ওয়ারলেস গেট এলাকায় বলছিলেন রিকশাচালক আবদুল মজিদ (৪০)। জামালপুরের সরিষাবাড়ীর এই বাসিন্দা ২০২০ সাল থেকে ঢাকায়। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে থাকেন কড়াইল বস্তিতে।

আবদুল মজিদ বলেন, মানুষ কাকে ভোট দেয় সেটা বলা যায় না। সব জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতের নাম শুনছি। প্রথম দিকে জামায়াতের প্রচার ছিল বেশি। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির অবস্থানও এখন ভালো। যেই জিতুক, আমরা চাই নিরাপদে, শান্তিতে থাকতে।

ঢাকা-১৭ আসন উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা নিয়ে। এর আওতায় রয়েছে গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের কিছু অংশ। আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৭। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩০, নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আটজন। আসনটিতে ভোটকেন্দ্র ১২৪টি, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৫ হাজার ৯১৬ জন।

অভিজাত এলাকার তকমা থাকলেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। আসনটিতে ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম কড়াইল ও সাততলা বস্তির অবস্থান। দুই বস্তিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বস্তির বাসিন্দারা জানান, গ্যাস, সুপেয় পানির মতো সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। মাদকের সমস্যাও রয়েছে।

২৭ থেকে ২৮ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কড়াইল বস্তিতে আসেন ষাটোর্ধ্ব কহিনুর বেগম। গত ২৫ নভেম্বর আগুনে তাঁর ঘর পুড়ে যায়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বস্তির পাশে টিঅ্যান্ডটি বয়েজ স্কুলে ওই আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা জড়ো হন। সেখানে কহিনুর বলেন, সরকার থেকে আমাদের সহায়তা দেওয়া হবে বলে ডেকে এনেছে। মাঝেমধ্যেই বস্তিতে আগুন লাগে, আগুন তো লাগবেই, কেউ তো আর থামাতে পারবে না। কিন্তু এখানে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হয়। গ্যাস-পানি ঠিকমতো পাওয়া যায় না। যারা ভোটে জিতবে, এগুলোর সমাধান করবে– সেটি চাই।

বনানী ২ নম্বর রোডের একটি ভবনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম স্ট্রিমকে বলেন, প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগে বাস্তবায়ন তেমন একটা দেখিনি। আমরা সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চাই।

ভাষানটেক বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসলাম রেন্ট এ কারের ব্যবসা করেন। বলছিলেন, ‘তারেক রহমানের প্রার্থিতা এখানে বিএনপির রাজনীতিতে শক্তি এনে দিয়েছে। খালিদুজ্জামানও ভালো করবে। কারণ দীর্ঘদিন মাঠে থেকে তিনি ভোটারের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।’

প্রধান দুই প্রার্থীসহ ঢাকা-১৭ আসনে লড়ছেন মোট ১১ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন– মোরগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ, কাঁঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কামরুল হাসান নাসিম ও জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে তপু রায়হান।

ভাষানটেক, বনানী, গুলশান, মহাখালী এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার বাইরে কাঁঠাল এবং মোরগ প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা গেছে।

তারেক রহমান নির্বাচনে বড় জয় পাবেন– এমনটাই মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মী। দলীয় প্রধান প্রার্থী হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। দেশে আসার পর আসনের দলীয় নেতাকর্মী, ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তারেক রহমান। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে গত ২০ জানুয়ারি কড়াইল বস্তির পাশে টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কড়াইল বস্তিবাসীর কাছে দোয়া চান তারেক রহমান। সরকারে গেলে বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট, তাদের সন্তানকে শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি। পরে ২৩ জানুয়ারি ভাষানটেকের বিআরবি মাঠেও জনসভা করেন তারেক রহমান।

বিএনপির ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম আশা প্রকাশ করেন, বিপুল ভোটে তারেক রহমান নির্বাচিত হবেন এবং আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

জামায়াত নেতাদের দাবি, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হলেও কোনো চিন্তা নেই। তিনি তাঁর মতো কাজ করছেন। আমরা আমাদের মতো কাজ করব। তারেক রহমান এলেও ভোটের সমীকরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাদের।

বনানী থানার ২০ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি রবিউল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হলে ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লা এই আসনে বিজয়ী হবে।’ জামায়াতের প্রার্থী খালিদুজ্জামান বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। আশা করছি, মানুষ আমাদের পাশে থাকবে। এই আসনের একেক এলাকায় একেক সমস্যা। এগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। আমি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত