leadT1ad

চিনি ছাড়লে শরীরে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চিনি বা ‘অ্যাডেড সুগার’ এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যে, একে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান চিনিকে আখ্যায়িত করছে ‘সাদা বিষ’ বা হোয়াইট পয়জন হিসেবে।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ১১
স্ট্রিম গ্রাফিক

সকালের এক কাপ গরম চায়ে চিনি না থাকলে অনেকের দিনই শুরু হয় না। কিংবা দুপুরের খাবারের পর একটু মিষ্টিমুখ না করলে মনে হয় কী যেন একটা কমতি রয়ে গেল।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চিনি বা ‘অ্যাডেড সুগার’ এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে যে, একে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান চিনিকে আখ্যায়িত করছে ‘সাদা বিষ’ বা হোয়াইট পয়জন হিসেবে।

গবেষকরা বলছেন, চিনি খাওয়া বন্ধ করলে মানুষের শরীরে এমন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে, যা শুধু শরীর নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেগুলো কী? চিনি ছাড়লে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসে সবই জানবো আজকের লেখায়-

উইথড্রয়াল সিম্পটম

চিনি খাওয়া বন্ধ করার প্রথম কয়েকটা দিন কারো কারো জন্য একটু কঠিন হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, চিনি খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনসহ কিছু নিউরোকেমিক্যালের সংযোগ ঘটে, তাই মিষ্টির প্রতি টান তৈরি হতে পারে। এটি একধরনের আসক্তি তৈরি করে।

তাই হঠাৎ চিনি ছেড়ে দিলে শরীরে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ বা প্রত্যাহারের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথম কয়েক দিন মিষ্টি-ক্রেভিং, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা ইত্যাদি হতে পারে, সবার ক্ষেত্রে যে হবে, এমন না। তবে সাধারণত কয়েক দিন থেকে ১–২ সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে সমস্যা কমে যায়। এই সময়টুকু পার করতে পারলে শরীর ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং চিনির ওপর নির্ভরতা কমতে শুরু করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য ফিরে পাওয়া

চিনি বর্জনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এর গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শরীরে ‘গ্লাইকেশন’ নামে একটি প্রক্রিয়া ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় রক্তের অতিরিক্ত চিনি কোলাজেন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে ধ্বংস করে দেয়। কোলাজেন আমাদের ত্বককে টানটান ও সজীব রাখে। তাই চিনি বেশি খেলে অকালেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে এবং ত্বক বুড়িয়ে যেতে পারে।

চিনি খাওয়া বন্ধ করলে এই গ্লাইকেশন প্রক্রিয়া থেমে যায়, শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমে এবং কোলাজেন উৎপাদন স্বাভাবিক হয়। ফলে ত্বকের ব্রণ কিংবা তৈলাক্ত ভাব দূর হতে পারে এবং চেহারায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে পারে। একে অনেকেই ‘সুগার ফেস’ থেকে মুক্তি পাওয়া বলে থাকেন।

স্থায়ী শক্তি ও কর্মচঞ্চলতা

অনেকে ভাবেন চিনি বা মিষ্টি খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। কথাটি সত্য, তবে এটি একটি ফাঁদ। চিনি খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়, যাকে বলা হয় ‘সুগার রাশ’। এর ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা আবার দ্রুত কমে যায়, যাকে বলা হয় ‘সুগার ক্রাশ’।

এই ওঠানামার কারণে কিছুক্ষণ পরেই শরীর ক্লান্ত ও ঝিমিয়ে পড়ে। চিনি বাদ দিলে রক্তে শর্করার এই দোলচাল বা রোলার-কোস্টার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারাদিন শরীরে একটি স্থিতিশীল শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে। দুপুরের খাবারের পর যে অলসতা বা ঘুম ঘুম ভাব আসে, তা কেটে যায় এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে।

ওজন ও পেটের চর্বি হ্রাস

ওজন কমানোর যাত্রায় চিনি হলো অন্যতম বড় শত্রু। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ইনসুলিন হলো ‘ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন’ বা চর্বি জমিয়ে রাখার হরমোন। যখনই আমরা চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাই, ইনসুলিন আমাদের শরীরকে নির্দেশ দেয় বাড়তি ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমা করতে। বিশেষ করে তলপেটের চর্বি বা ‘ভিসেরা ফ্যাট’ জমার কারণ হতে পারে।

চিনি বর্জন করলে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শক্তির জন্য জমে থাকা চর্বি পোড়াতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটে অন্য কোনো পরিবর্তন না এনেও শুধু চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয় বাদ দিলে মাসে কয়েক কেজি ওজন কমানো সম্ভব।

হৃদপিণ্ড ও লিভারের সুরক্ষা

চিনি শুধু ওজন বাড়ায় না, এটি আমাদের লিভার ও হার্টের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। ফ্রুক্টোজের বড় অংশ অন্ত্র ও লিভার মেটাবলাইজ করে; অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে ফ্যাট জমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যখন আমরা বেশি চিনি খাই, লিভার তা ফ্যাটে রূপান্তর করে, যা থেকে ‘ফ্যাটি লিভার’ রোগ হতে পারে। চিনি খাওয়া বন্ধ করলে লিভার তার জমে থাকা চর্বি পরিষ্কার করার সুযোগ পায়।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিনি রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। চিনি বর্জন করলে রক্তনালির প্রদাহ কমে এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও চিনি বর্জন কার্যকরী উপায়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত