জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

জাবি সংবাদদাতা
জাবি সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২০: ০৪
জাকসুর ক্রিড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে খেলা দেখানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

বাকি অভিযুক্তরা হলেন, দর্শন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাহানুর রহমান (সাঞ্জু) ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান ইমন।

ভুক্তভোগী নাঈম আহমদ সানি স্ট্রিমকে বলেন, গতকাল রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচটি দেখানো শুরু হয়। তখন আমিসহ অনেকে মুক্তমঞ্চের সামনে ফাঁকা জায়গায় বসি। সে সময় অনেকেই জায়গা না পেয়ে মুক্তমঞ্চের ওপর উঠে খেলা দেখতে থাকেন।

ভুক্তভোগীর বলেন, এসময় মাহমুদুল হাসান কিরণ খেলা দেখানো বন্ধ করে লোকজন মঞ্চ থেকে না নামা পর্যন্ত খেলা চালানো হবে না বলে জানান। এরপর আমিসহ অনেকেই এর প্রতিবাদ করি।

সানির অভিযোগ, এ সময় কিরণ তাঁর দিকে তেড়ে গিয়ে পরিচয় জানতে চান এবং বলেন, ‘তুই আমারে চিনোস, আমি কি করতে পারি তুই জানোস? আমি খেলা আয়োজন করছি। আমার যখন মন চায় চালাব খেলা। তো খেলা দেখতে চাইলে থাক না হইলে চলে যা।’ তখন সাহানুর রহমান সাঞ্জু ও আসাদুজ্জামান ইমনসহ কয়জন গিয়ে সানির সাথে বাগবিতণ্ডা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সরে যান ও কিরণ মঞ্চে উঠে যান।

সানি জানান, এর কিছুক্ষণ পরই কিরণ আবার তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং গলায় থাকা পতাকা টেনে ধরেন। এতে সানির ঘাড়ে জখম হয়। এ সময় সাঞ্জু, ইমনসহ কয়েকজন তার মুখে ও শরীরে কিল-ঘুষি দেয়। ফলে তার মুখের কিছু জায়গায় কেটে যায়। পতাকা টেনে ধরায় তার দম নিতে কষ্ট হচ্ছিলো বলেও জানান সানি। এই তিনজন ছাড়া বাকিদের শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।

ভুক্তভোগী আরও জানান, ঘটনার একপর্যায়ে জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতীসহ সানির আশেপাশের কয়জন তাকে ধরে সেখান থেকে বের করেন এবং চলে যেতে বলেন। এরপর সানি সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে অন্য কেউ মেরেছে বলে দাবি করছেন জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, 'সানি বেয়াদবি করায় আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর যখন আমি উঠে যাই পিছন থেকে সে গালি দেয়। এসময় আমি মঞ্চ থেকে নামলে সানি তেড়ে আসে। এর মধ্যেই ওকে অনেকে ঘিরে ধরে ও সে গালি দিল কেন জবাবদিহি চায়। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই সানি এ ঘটনার শিকার হয়। আমি মারামারি আটকাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু এর মাঝেই সব হয়ে যায়।'

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাহানুর রহমান সাঞ্জু বলেন, আমি মারামারি থামাতে গিয়েছিলাম। সেখানে অন্যরা ছিল। আমি কাউকে মারিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত