বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ২১: ০১
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রস্তাবিত করিডর বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীনের করিডর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি।’ সংবাদ সম্মেলনে করিডরের সপক্ষে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, করিডর হলে বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন করিডর রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো দ্রুত ও কম খরচে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

করিডর নিয়ে তিনি আরও বলেন, চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের একাধিক বন্দরের যোগাযোগ রয়েছে। ইয়াঙ্গুন কিংবা আরাকানের চ্যুকফুর সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। কারণ, সেখানে কুনমিংয়ের সঙ্গে সড়ক ও স্থলপথের যোগাযোগ রয়েছে। আমরা যদি এই পথ ব্যবহার করতে পারি এবং চীনের যে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে কাঁচামাল বা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারি, তাহলে সময় ও খরচ অনেক কমে যাবে এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বাড়বে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই পক্ষকেই সহযোগিতা করবে বলে চীন আমাদের জানিয়েছে। যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়। এখানে তিনটি পক্ষ রয়েছে—মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গারা।

তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, তখন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান— দুজনেই আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার যে শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আমরা আগামী দিনগুলোতে এই সমস্যার সমাধানের একটি পথ দেখতে পাব।

গত বছরের চীন সফরের সঙ্গে এবারের সফরের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের সফরও ছিল সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব। এখন সেটি থেকে আমরা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বে চলে গেছি, যেটি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এটি গ্রহণ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চীন সফর ছিল দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার। আগের সরকারগুলোর চীন সফরের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা কূটনৈতিক বৈঠকে যাই, তখন দেখি আমাদের বিপরীতে কারা বসে আছেন। সেটা দেখলেই বোঝা যায়, তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, একই সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। এরা এত বড় একটি অর্থনীতি পরিচালনা করেন। এত বড় অর্থনীতির প্রতিনিধিরা আমাদের জন্য ঘণ্টাখানেক সময় দিয়েছেন—এ থেকেই বোঝা যায় এই সফরের গুরুত্ব। আগের সফরগুলোর তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সফর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছি, এটা বিশ্বাস করুন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত