leadT1ad

দুদকের মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহর জামিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৫
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। সংগৃহীত ছবি

দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় আপাতত কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও কাজী আহসান হাবিব। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘আদালত সব পক্ষকে শুনে রুল অ্যাবসলিউট করেছেন। অর্থাৎ চূড়ান্ত শুনানি শেষে উনার জামিন কনফার্ম হয়েছে। উনার একটাই মামলা, যেটি দুদকের। রুল অ্যাবসলিউট হওয়ায় এই জামিনে উনার মুক্তি পেতে আইনগতভাবে আর কোনো বাধা নেই।’

আদালতের শর্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা আছে, উনাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আমরা আদালতের সেই নির্দেশনা পালন করব।’

বেরোবির শেখ হাসিনা ছাত্রী হল ও ড. ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি টাকার অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের জুনে মামলাটি করে দুদক। এজাহারে নকশা পরিবর্তন, অনুমোদন ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি, ঠিকাদারকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা এবং সরকারি ক্রয়বিধির বাইরে গিয়ে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য চার আসামি হলেন—বেরোবির আরেক সাবেক উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।

গত বছরের ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে অধ্যাপক কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে জামিন নাকচ হওয়ার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক এবং জানিপপ চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেরোবির উপাচার্য ছিলেন। উপাচার্য থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে না গিয়ে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস থেকে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’-এর তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বের ১ হাজার ৪৬০ দিনের মধ্যে ১ হাজার ২২০ দিনই তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে নানা অভিযোগ থাকার পরও তিনি পুরো মেয়াদ শেষ করার সুযোগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত