leadT1ad

উত্তরায় ‘নিরাপত্তাকর্মী’র ওপর হামলা চালিয়ে শটগানসহ একজনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে

রাজধানীর উত্তরায় এক নিরাপত্তাকর্মীর ওপর হামলার চালিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় মোহাম্মদ মাহবুব (৫৫) নামে ওই নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে লাইসেন্সকৃত একটি শটগানও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় মোহাম্মদ মাহবুব গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ বলছে, আহত মাহবুব কথা বলার অবস্থায় নেই। তাই অপহৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এখনও তথ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অপহৃত ব্যক্তি ও ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে উত্তরা ১৪ নং সেক্টরের ১২ নং রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাইক্রোবাসে আসা একাধিক দুর্বৃত্ত মাহবুবের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে মাহবুব গুরুতর আহত হন। তারপর তার কাছ থেকে শট গানটি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরো এক ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ মাহবুব (৫৫) এলিট ফোর্স নামে নিরাপত্তা সেবাদানকারী একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় মাহবুবের ছেলে বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে মাহবুব বাসাবাড়ির নিরাপত্তাকর্মী নাকি অপহৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় আমরাও পাচ্ছি না। শুধু জানতে পেরেছি অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মিসিং। যিনি আহত হয়েছেন তিনি কথা বলতে পারেন না। তাঁর ছেলে থানায় মামলা করেছেন। তবে তিনিও (মাহবুবের ছেলে) অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় জানেন না। ওই ব্যক্তির পরিবারের খোঁজও এখনও পাওয়া যায়নি, কেউ এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। বিষয়টি রহস্যজনক। আমরা সবাই কাজ করছি।’

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান ওসি কাজী রফিক। তিনি বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনাকারী অভিযানিক যৌথবাহিনীও এই অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই ঘটনায় ছায়াতদন্তও করছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, ‘নিরাপত্তাকর্মী মাহবুবের মাথা ও মুখে গুরুতর জখম হওয়ায় তার সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছে না। কারা, কেন হামলা করে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, কাকে তুলে নিয়ে গেছে; সেসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া দুর্বৃত্তদের শনাক্তের জন্য ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আজকের (রোববার) মধ্যে একটি ভালো ফলাফল দিতে পারবো।’

মামলার বিবরণ প্রসঙ্গে উত্তরা পশ্চিম থানার এক কর্মকর্তা জানায়, শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষ করে মাহবুব উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোড এলাকায় বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ একটি গাড়ি তার সামনে থামে। কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়ি থেকে নেমে মাহবুবকে মারধর করে তার কাছে থাকা লাইসেন্স করা শর্টগানটি ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। একই দুর্বৃত্তের দল আরো একজন ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

তবে মাহবুব ওই ব্যক্তির সঙ্গেই ছিলেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাহবুবকে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত