প্রত্যেক অধিবেশনে জুলাই হত্যার বিচারের আপডেট চান শহীদের মা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২২: ২৭
সংসদে কথা বলেন শহীদ জননী ও ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের হালনাগাদ তথ্য জানানোর দাবি জানিয়েছেন শহীদ মাতা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই কথা বলেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘একজন বাবা-মা সকল সুযোগ-সুবিধার ঊর্ধ্বে তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার চান। দৃশ্যমান বিচার ছাড়া ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলুপ্তি সম্ভব নয়। সরকারের কাছে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’

বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে তিনি জানান, জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৮০টি মামলা হয়েছে। গত প্রায় দুই বছরে মাত্র ৭টি মামলার রায় হয়েছে, ২২টি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং ৫১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন।

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই মামলাগুলোর মোট আসামি ৪৬৩ জন হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ১৭৪ জন এবং ২৮৮ জন এখন পলাতক। এই পলাতকদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি আসলে কী? আইনমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, সংসদের প্রতি সেশনে শহীদ সন্তানদের বিচারিক কাজের আপডেট জানিয়ে বাবা-মাদের আশ্বস্ত করুন।’

শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে শহীদের সংখ্যা হাজারের বেশি হলেও গেজেটভুক্ত মাত্র ৮৩৪ জন। তদন্ত সাপেক্ষে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের গেজেটভুক্ত করার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হোক। এছাড়া অঙ্গ হারানো আন্দোলনকারীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাদের সঠিক ক্যাটাগরি হচ্ছে না এবং চিকিৎসাসেবাও পাচ্ছেন না। আন্দোলনে হাত হারানো একজন যোদ্ধা কীভাবে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকতে পারে? এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখছি।’

শহীদ ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের’ আর্থিক সংকট তুলে ধরে তিনি জানান, শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের পাশে শুরু থেকেই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৩১ শহীদ পরিবার এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত যোদ্ধাকে ১২০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। অথচ গত তিন মাস ধরে এই ফাউন্ডেশনের কর্মীরা বেতন বা ঈদ বোনাস পাননি।

সংকট নিরসনে রোকেয়া বেগম তিন দাবি উত্থাপন করেন। প্রথমত, নির্দিষ্ট আর্থিক কোডের মাধ্যমে এই ফাউন্ডেশনকে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, অবশিষ্ট শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সরকারের প্রতিশ্রুত বাকি ২৬৩ কোটি টাকা দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া। তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যেন এই ফাউন্ডেশনকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত