leadT1ad

১৩ বছর পর ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আত্মসমর্পণ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আবুল কালাম আযাদ। সংগৃহীত ছবি

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম আসামি আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘ পলাতক জীবন শেষে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি ‘বাচ্চু রাজাকার’ নামেও পরিচিত। কাকতালীয়ভাবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি যেদিন তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছিল, ঠিক ১৩ বছর পর সেই একই তারিখে (২১ জানুয়ারি) তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আত্মসমর্পণ করার আবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন’।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সকাল পৌনে ১১টা) তিনি ট্রাইব্যুনালেই অবস্থান করছেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত প্রথম রায়।

২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল।

সে সময় আবুল কালাম আযাদ পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি দেশত্যাগ করে প্রথমে ভারত এবং পরে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

প্রসিকিউশন মুক্তিযুদ্ধকালে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় এবং একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেটি খারিজ করে দেন আদালত।

প্রমাণিত সাতটি অভিযোগের মধ্যে অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার আইনগত সুযোগ থাকলেও তাকে সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) প্রদান করায় ওই অভিযোগগুলোতে আলাদা করে কোনো দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ১৪ জনকে হত্যা, তিনজন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ এবং ১০ জনকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের মতো গুরুতর অপরাধে তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের প্রমাণ পেয়েছিলেন আদালত।

Ad 300x250

সম্পর্কিত