leadT1ad

জুলাই অভ্যুত্থানে রামপুরায় হত্যা

হাবিবুর রহমানসহ ৫ জনের মামলার রায় ২৮ জুন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৪: ২২
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৮ জুন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। পরে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ দিন শুনানিতে প্রথম আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি খণ্ডন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত মোট পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় সচল হয়। এর ধারাবাহিকতায় মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন এই আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।

জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় ২৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরেকটি আলাদা মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে মোট আসামি চারজন। তারা হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর রাফাত বিন আলম মুন, এবং পূর্বোক্ত মামলার পলাতক দুই পুলিশ কর্মকর্তা এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও ওসি মশিউর রহমান।

এই চার আসামির মধ্যে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর রাফাত বিন আলম গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন, যাদের সোমবার সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাশেদুল ও মশিউর এই মামলায়ও পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পলাতকদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি শেষ করেন তদানীন্তন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এরপর ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং উপস্থিত দুই আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ অব্যাহতির আবেদন জানালে, তা নাকচ করেন ট্রাইবুনাল। শুনানি শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর এই চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত