দুর্যোগ মোকাবিলায় বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবার এই খাতে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের চেয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো বা প্রশমনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম কেনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং বহুতল ভবনে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ‘এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার’ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আধুনিকায়নে উপকূলীয় এলাকায় শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার অতিদরিদ্র মানুষের জন্য বড় কর্মসংস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কাজ নিশ্চিত করা হবে।

এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অন্তত এক-তৃতীয়াংশই হবেন নারী শ্রমিক। মূলত দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে কাজের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

অবকাঠামো সংস্কারে গুরুত্ব

গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখতে সরকার পুরোনো ও কার্যকর প্রকল্পগুলোকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) এবং ‘টিআর’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সংস্কারের কাজ চলবে। এর ফলে দুর্যোগের সময় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সহজ হবে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয় মানুষের শ্রমের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দুর্যোগ-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত