জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ

সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন শাস্তিযোগ্য

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর কথা বলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি : পিআইডি

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘ গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, বহুল আলোচিত আয়নাঘর বা গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে এই তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, নতুন এই অধ্যাদেশে গুমকে সংজ্ঞায়নের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী-সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, আইনগত সহায়তা, বিশেষ তহবিল গঠন এবং তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য একটা আইন নিয়ে অনেকদিন যথেষ্ট ডিবেট হয়েছে। এরপর আজকে এটা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়েছে।’

প্রেস সচিব জানান, এই অধ্যাদেশটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সনদের আলোকেই তৈরি করা হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, ‘গুমসংক্রান্ত একটি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন আছে, যেটার নাম হচ্ছে, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোরস ডিসএপিয়ারেন্স। গত বছর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদ এটার এপ্রুভ করেছেন। বাংলাদেশ এটার অংশীদার হয়েছে। অংশীদারের এই কনভেনশনকে ফলো করে অধ্যাদেশটা তৈরি করা হয়েছে।’

বিফ্রিংয়ে প্রেস সচিব আগের সরকারের শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে হাজার-হাজার ছেলেমেয়ে গুম হয়েছে। গুমবিষয়ক যে কমিশন করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার এবং ওই কমিশনে যারা মেম্বার আছেন, তাঁরা তাঁদের রিপোর্টে বারবার বলছেন যে এটার সংখ্যা চার শর ওপরে হবে।’

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘দেশে শতশত আয়নাঘর ছিল, সেখানে তাঁদের রাখা হতো। অনেকে যাঁরা গুম হয়েছেন, কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, আবার অনেকে ফিরে আসেননি। আপনি জানেন বিএনপির অনেক কর্মী এখনো ফিরে আসেননি।’

এই আইনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘এর ফলে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার এসে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। দেশে কোনো আয়নাঘর তৈরি হবে না।’

সম্পর্কিত