হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে শিরীন শারমিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় আশরাফুল ওরফে ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়। এরপর থেকে পলাতক সাবেক স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

এরপর দুপুর ২টার দিকে শিরীন শারমিনকে আদালতে হাজির করে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।

ডিবির রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা, ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে সশস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিন রিমান্ডে নেওয়ার আরজি জানানো হয় ওই আবেদনে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।

২০২৪ সালের ৫ আগাস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরদিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরে স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাঁকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকার ছিলেন।

সম্পর্কিত