স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন এবং সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সব ধরনের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা, পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহ এবং শিল্প স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিনিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবাকে সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা।
তাঁর ভাষায়, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ব্যয় কমবে, ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।
দ্রুততম সময়ে কোম্পানি নিবন্ধন ও লাইসেন্স
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স গ্রহণে অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম বাধ্যতামুলক করা হবে। আবেদন জমা থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
কোনো অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা মতামত, অনাপত্তি, ছাড়পত্র বা দাবি না জানালে তা সম্মতি হিসেবে গণ্য করে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও একাধিক সুবিধা দেওয়া রয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট ৭ দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর মাধ্যমে দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করার সুযোগ তৈরি করা হবে।
কর ব্যবস্থায় ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তর
আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতাদের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর জন্যও করপোরেট আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হবে। করদাতারা সারা বছর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। যাঁরা বছরের শুরুতে রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁরা কর প্রণোদনা পাবেন।
উৎসে কর্তিত কর প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত কর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ‘ফেসলেস’ পদ্ধতিতে ফেরত দেওয়া হবে। আয়কর ও ভ্যাট অডিটের ক্ষেত্রে ঝুঁকিভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে, যেখানে মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হবে।
অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও ইরিটার্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃসংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া—উৎসে কর কর্তন না হলে ব্যবসায়িক খরচ অনুমোদন না করার বিধান বাতিল করা হবে; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অর্জিত ভিত্তিতে সুদ ব্যয় অনুমোদন করা হবে; আপ্যায়ন ব্যয়, ফ্রি স্যাম্পল, প্রচারণা ব্যয়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা বাড়ানো হবে; আয়কর সংক্রান্ত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বা এডিআর-এর আওতা সম্প্রসারণ করা হবে।
কাস্টমস ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস বন্ড আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পকেও বন্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। শতভাগ রপ্তানিমুখী কমপ্লায়েন্ট পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হবে।
লেদারগুডস, ফুটওয়্যার, টাওয়েল, লিনেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্পের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর করা হবে। বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কাঁচামাল মজুদের সীমাও প্রত্যাহার করা হবে। ইউটিলাইজেশন পারমিশন বা ইউপি নেওয়ার সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হবে।
জুয়েলারি শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধাসহ নতুন বন্ডেড ওয়্যারহাউস নীতিমালা আনা হবে। নতুন ১০টি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে রপ্তানি করলে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হবে।
অনুমোদিত ইকোনমিক অপারেটর বা এইও প্রতিষ্ঠানের জন্য স্ব-মূল্যায়নভিত্তিক পণ্য ছাড়ের হার দ্বিগুণ করা হবে। সরকারি পরীক্ষাগারের পাশাপাশি স্বীকৃত বেসরকারি পরীক্ষাগারেও আমদানি পণ্যের মান পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন
ভ্যাট রিফান্ড সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। আইবাস++ এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে রিফান্ডের অর্থ জমা হবে। আগামী অর্থবছর থেকে ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ভ্যাট রিটার্ন ফরম চালু হবে।
ই-ভ্যাটে আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিআইএন পাওয়া যাবে। মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব সফটওয়্যার থেকেই এক ক্লিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আপিল, ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে করসংক্রান্ত আপিলের ক্ষেত্রে জমা করের পরিমাণ কমানো এবং কর কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক বা ডিসক্রিশনারি পাওয়ার সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থ প্রত্যাবাসন সহজ হবে
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবাসনের নিয়ম আরও সহজ করা হচ্ছে। এক কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আর মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগবে না। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিল ভ্যালু বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই প্রত্যাবাসন করা যাবে। বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মূল্যায়ন সংস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
কম ঝুঁকির আমদানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক এলসি ব্যবহারের নিয়ম ধীরে ধীরে শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস-এর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ই-লোন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ মাস মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহ আরও সহজ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে দীর্ঘসূত্রতা ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো হবে। আইপিও প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
পেনশন তহবিল, বিমা কোম্পানি, এএমসি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। কোম্পানি বন্ড বাজার সম্প্রসারণ এবং পৌর বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্ড, সুকুক এবং অবকাঠামো তহবিলের ব্যবহার বাড়ানো হবে। পেশাগত দায় বিমা চালু করা হবে। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় টি+২ থেকে ধাপে ধাপে টি+০-তে নামিয়ে আনা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এক কর্মদিবসের মধ্যেই মুনাফা ও শেয়ার বিক্রির অর্থ প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।
শিল্প স্থাপন ও পরিচালনাতেও একক প্ল্যাটফর্ম
শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও নকশা অনুমোদনসহ সব সেবা একীভূত করে সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম চালু করা হবে। অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হবে। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনতে লাইসেন্স, নবায়ন ও প্রতিপালনের শর্ত সহজ করা হবে।
গঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স
অর্থমন্ত্রী জানান, এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। একই সঙ্গে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে সেবাগ্রহীতারা সরাসরি অভিযোগ জানাতে এবং তাঁর প্রতিকারের অগ্রগতি জানতে পারবেন।
অর্থমন্ত্রীর মতে, এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দেশের ব্যবসা পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত মোড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন এবং সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সব ধরনের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা, পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহ এবং শিল্প স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিনিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবাকে সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা।
তাঁর ভাষায়, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ব্যয় কমবে, ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।
দ্রুততম সময়ে কোম্পানি নিবন্ধন ও লাইসেন্স
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স গ্রহণে অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম বাধ্যতামুলক করা হবে। আবেদন জমা থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
কোনো অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা মতামত, অনাপত্তি, ছাড়পত্র বা দাবি না জানালে তা সম্মতি হিসেবে গণ্য করে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও একাধিক সুবিধা দেওয়া রয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট ৭ দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর মাধ্যমে দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করার সুযোগ তৈরি করা হবে।
কর ব্যবস্থায় ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তর
আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতাদের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর জন্যও করপোরেট আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হবে। করদাতারা সারা বছর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। যাঁরা বছরের শুরুতে রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁরা কর প্রণোদনা পাবেন।
উৎসে কর্তিত কর প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত কর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ‘ফেসলেস’ পদ্ধতিতে ফেরত দেওয়া হবে। আয়কর ও ভ্যাট অডিটের ক্ষেত্রে ঝুঁকিভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে, যেখানে মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হবে।
অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও ইরিটার্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃসংযোগও স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া—উৎসে কর কর্তন না হলে ব্যবসায়িক খরচ অনুমোদন না করার বিধান বাতিল করা হবে; আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অর্জিত ভিত্তিতে সুদ ব্যয় অনুমোদন করা হবে; আপ্যায়ন ব্যয়, ফ্রি স্যাম্পল, প্রচারণা ব্যয়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা বাড়ানো হবে; আয়কর সংক্রান্ত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বা এডিআর-এর আওতা সম্প্রসারণ করা হবে।
কাস্টমস ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস বন্ড আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পকেও বন্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। শতভাগ রপ্তানিমুখী কমপ্লায়েন্ট পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বন্ড অডিটের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হবে।
লেদারগুডস, ফুটওয়্যার, টাওয়েল, লিনেন ও হোমটেক্সটাইল শিল্পের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর করা হবে। বন্ডেড ওয়্যারহাউসে কাঁচামাল মজুদের সীমাও প্রত্যাহার করা হবে। ইউটিলাইজেশন পারমিশন বা ইউপি নেওয়ার সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হবে।
জুয়েলারি শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধাসহ নতুন বন্ডেড ওয়্যারহাউস নীতিমালা আনা হবে। নতুন ১০টি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে রপ্তানি করলে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হবে।
অনুমোদিত ইকোনমিক অপারেটর বা এইও প্রতিষ্ঠানের জন্য স্ব-মূল্যায়নভিত্তিক পণ্য ছাড়ের হার দ্বিগুণ করা হবে। সরকারি পরীক্ষাগারের পাশাপাশি স্বীকৃত বেসরকারি পরীক্ষাগারেও আমদানি পণ্যের মান পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন
ভ্যাট রিফান্ড সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। আইবাস++ এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে রিফান্ডের অর্থ জমা হবে। আগামী অর্থবছর থেকে ই-ভ্যাট সিস্টেমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ভ্যাট রিটার্ন ফরম চালু হবে।
ই-ভ্যাটে আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিআইএন পাওয়া যাবে। মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব সফটওয়্যার থেকেই এক ক্লিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আপিল, ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে করসংক্রান্ত আপিলের ক্ষেত্রে জমা করের পরিমাণ কমানো এবং কর কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক বা ডিসক্রিশনারি পাওয়ার সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থ প্রত্যাবাসন সহজ হবে
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবাসনের নিয়ম আরও সহজ করা হচ্ছে। এক কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আর মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগবে না। ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিল ভ্যালু বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই প্রত্যাবাসন করা যাবে। বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মূল্যায়ন সংস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
কম ঝুঁকির আমদানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক এলসি ব্যবহারের নিয়ম ধীরে ধীরে শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস-এর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ই-লোন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ মাস মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহ আরও সহজ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে দীর্ঘসূত্রতা ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো হবে। আইপিও প্রক্রিয়ার সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
পেনশন তহবিল, বিমা কোম্পানি, এএমসি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। কোম্পানি বন্ড বাজার সম্প্রসারণ এবং পৌর বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্ড, সুকুক এবং অবকাঠামো তহবিলের ব্যবহার বাড়ানো হবে। পেশাগত দায় বিমা চালু করা হবে। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় টি+২ থেকে ধাপে ধাপে টি+০-তে নামিয়ে আনা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এক কর্মদিবসের মধ্যেই মুনাফা ও শেয়ার বিক্রির অর্থ প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।
শিল্প স্থাপন ও পরিচালনাতেও একক প্ল্যাটফর্ম
শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও নকশা অনুমোদনসহ সব সেবা একীভূত করে সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম চালু করা হবে। অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হবে। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আনতে লাইসেন্স, নবায়ন ও প্রতিপালনের শর্ত সহজ করা হবে।
গঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স
অর্থমন্ত্রী জানান, এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। একই সঙ্গে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে সেবাগ্রহীতারা সরাসরি অভিযোগ জানাতে এবং তাঁর প্রতিকারের অগ্রগতি জানতে পারবেন।
অর্থমন্ত্রীর মতে, এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি সঞ্চার হবে। দেশের ব্যবসা পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত মোড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।
১৪ মিনিট আগে
২০২৬-২৭ বাজেটে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ট্রেনে যাতায়াতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, মেট্রোরেলে এসব নাগরিকদের ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩১ মিনিট আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পর আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীতে পৃথক সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর জামায়াত।
৩৮ মিনিট আগে
স্বর্ণালংকার কেনার খরচ কমাতে বাজেটে বড় ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তিনি সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় ভ্যাট এবং উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দেন।
৩৯ মিনিট আগে