leadT1ad

রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে সাজা স্থগিত: ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির আসামি আজাদের আত্মসমর্পণ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১৭
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আত্মসমর্পণ করেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

পলাতক অবস্থায় ফাঁসির রায় হয়েছিল ঠিক এক যুগ আগে। দীর্ঘ সময় পর সেই দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ছিল নজিরবিহীন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এক বছরের জন্য সাজা স্থগিত থাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অবশেষে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আত্মসমর্পণের পর তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার জন্য রায়ের সত্যায়িত অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাঁর ভিত্তিতে সাজার কার্যকারিতা বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, তা বহাল থাকবে। অর্থাৎ আইনি লড়াই চালানোর সময়টুকুতে তিনি কারাবন্দি বা দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত না হয়ে স্থগিতাদেশের সুবিধাই ভোগ করবেন।

বুধবার বিকেলে মাওলানা আজাদ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁর আইনজীবী মশিউল আলমের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়েরের জন্য রায়ের অনুলিপি ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানিতে আইনজীবী মশিউল আলম আদালতকে জানান, গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাওলানা আজাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশের আওতায় তিনি এখন আপিল প্রক্রিয়ায় যেতে চান।

ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মাওলানা আজাদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় তিনি পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর গত বছর তিনি নিজের সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিশেষ বিধান বা নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত