পথ হারানো নারীকে শিশুসন্তানের সামনেই দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নান্দাইল (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ১৪
ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় পথ হারানো এক নারীকে (২৮) দুই দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের গাতীপাড়া গ্রামে ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আশ্রয়দাতা পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী ওই নারীর বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদি হয়ে নান্দাইলের কান্দিউড়া আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি ভালুকায় যাওয়ার পথে রাস্তা হারিয়ে নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকার চলে আসেন ওই গৃহবধূ। এ সময় সন্ধ্যায় কয়েকজন লোক তাঁকে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়কের শিমুলতলা এলাকার একটি বিলে নিয়ে যান। সেখানে চারজন তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আরও দুজন ওই এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আরেক দফা ধর্ষণ করে।

পরে ওই নারীকে বাড়িটি থেকে বের করে এনে রাস্তায় রেখে যায় তারা। শিমুলতলা এলাকার ইজিবাইকচালক সুজন মিয়া জানান, ঘটনার দিন রাতে শিমুলতলা এলাকায় ওই নারী একটি শিশুকে কোলে নিয়ে বসে কাঁদছিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনা খুলে বলেন।

তিনি বলেন, এমনকি বিলে ধর্ষণের সময় শিশুটি কান্না করলে ধর্ষণকারীরা তাকে মেরে আহত করে। এতে করে শিশুটির চোখের নিচে ফুলে গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত শোনার পর ইজিবাইকচালক সুজন ওই নারীকে তাঁর বাড়িতে এনে আশ্রয় দেন। এদিকে খবর পেয়ে গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) গভীর রাতে কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে তাঁকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। পরে আশ্রয়দাতাসহ বাড়ির অন্যদের হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বাশারত মিয়া আরেকদফা আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে ওই নারীকে সরানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুজন মিয়া। তিনি জানান, কেন ওই নারীকে আশ্রয় দিয়েছি, তা নিয়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওই নারীকে উদ্ধারের পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে শনিবার সুজন মিয়ার বাড়ি থেকে ওই নারীকে তাঁর শিশুসহ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নান্দাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খবর পেয়ে ওই নারীর বাবা এসে মামলা করলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত