leadT1ad

জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্ত দাবি: ‘যমুনা’র প্রবেশমুখে ছাত্র-জনতার অবস্থান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৭
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ। স্ট্রিম ছবি

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্র-জনতা। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে যমুনার সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় অবস্থানকারীদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা-৮ আসনের ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রবেশমুখগুলো বন্ধ করে দেয়। এরপর অবস্থান নিতে আসা ছাত্র-জনতা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গিয়ে বসেন। এ সময় সাংবাদিকদেরও যমুনার দিকে যেতে দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে ছাত্র-জনতা নানা প্রতিবাদী প্লাকার্ড তুলে ধরেছেন। এ সময় তাঁরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস’, ‘হাদি ভাইয়ের স্মরণে, ভয় করি না মরণে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘আমার ভাই মরল কেন, অন্তর্বর্তী জবাব চাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

অবস্থানকারীরা জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর তাঁরা এখানে এসেছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ পাটোয়ারী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আজকে হাদি ভাইকে হত্যার বিচারহীনতার ৫০তম দিন। আমরা এখানে হাদি ভাইয়ের বিচারের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি। কিন্তু তদন্তের কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জানানো হয়েছে যে আমাদের জাবের ভাইসহ অন্যরা যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। আমরাও তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য এসেছি।’

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা-৮ আসনের ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। স্ট্রিম গ্রাফিক
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা-৮ আসনের ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। স্ট্রিম গ্রাফিক

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তাই আমরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনেই আছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি হাদি ভাইয়ের বিচারের বিষয়ে কোনো জোরালো পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আসা অন্য সরকারগুলো এর দায় এই সরকারের ওপর চাপানোর রাজনীতি করতে পারে। তাই আমরা চাচ্ছি এই সরকারই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিক। আমাদের প্রধান দাবি হলো—জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে।’

শাহেদ নামে আরেক আন্দোলনকারী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর থেকে আমি হাদি ভাইয়ের সাথে ছিলাম। তিনি যখন ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আমরা তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। হাদি ভাই চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিটি কর্মসূচিতে আমরা রাজপথে থাকছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যেন হাদি হত্যার বিচার হয়, সে জন্য প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা গিয়েছিলেন। কিন্তু বিকেল চারটা পর্যন্ত অবস্থান করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তাই আমরা ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নিয়েছি।’

রাকিব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী নায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচারে প্রশাসন ছিটেফোঁটাও অগ্রগতি করতে পারেনি। সন্ধ্যা থেকে আমরা এখানে অবস্থান করছি। শরীফ ওসমান বিন হাদি এবং তাঁর স্ত্রীসহ ইনকিলাব মঞ্চের যারা ভেতরে আছেন, আমরা তাঁদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের আটকে দিয়েছে।’

পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি কতক্ষণ চলবে তা ইনকিলাব মঞ্চ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। যতক্ষণ অবস্থান করতে বলা হবে, আমরা ততক্ষণই এখানে থাকব।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত