স্ক্রলের বিশ্লেষণ
স্ট্রিম ডেস্ক

নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন কীভাবে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তার দারুণ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে সদ্য শেষ হওয়া আসামের বিধানসভা নির্বাচন। শুধু সমর্থনের ভিত্তিতে নয়, নতুন এই প্রক্রিয়া বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা আগে ছিল না।
গত ৪ মে নির্বাচনের ভোট গণণা শেষে বিধানসভার ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল। এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ১৯টি আসনে সরাসরি সুবিধা পেয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই পুনর্গঠন এমনভাবে করা হয়েছে, যেন মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে যায় এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনী সুবিধা পায়।
আসামের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের জোটসঙ্গীর বিপুল জয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তেমন অবাক করেনি। ফল প্রকাশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এর অন্যতম কারণ ছিল ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন, যার ফলে মুসলিম ভোটাররা রাজ্যের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা জানতাম অন্তত ১০২-১০৩টি আসন আমরা জিততে পারব।’
স্ক্রল আগেই জানিয়েছিল, আসামে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছিল রাজ্যের ‘আদিবাসী’ বা ‘স্থানীয়’ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার কথা বলে। কিন্তু যেভাবে বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে কার্যত রাজ্যে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মার হিসাব খুব একটা ভুল ছিল না। বিজেপি একাই ৮২টি আসন জিতেছে। তাদের মিত্র বোদো পিপলস ফ্রন্ট এবং আসাম গণ পরিষদ পায় ১০টি করে আসন। ফলে জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১০২। এর আগের দুই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ৬০। এবার তারা সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২২টি অতিরিক্ত আসন পেয়েছে।
স্ক্রলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ১৯টি আসনে এই পুনর্নির্ধারণের সরাসরি সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তৈরি হওয়া পাঁচটি নতুন আসন, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি পুরনো আসনকে তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত করা এবং আরও ১২টি আসন, যেখানে জনসংখ্যার গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে ফেলা হয়েছে।
বিরোধী নেতারা এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে ‘জেরিম্যান্ডারিং’ বলে আখ্যা দিয়েছেন—অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা এমনভাবে পুনর্গঠন করা, যাতে ভোটের সমীকরণ বদলে যায়।
২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের ফলে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোতে বিধানসভা আসনের সংখ্যা কমে যায়। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় আসামের তথাকথিত ‘স্থানীয়’ জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি, সেখানে আসনসংখ্যা বাড়ে।
সাধারণত, আসামে প্রায় ৩০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন রয়েছে, যেখান থেকে মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু ডিলিমিটেশনের পর সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ২৩-এ।
এটি করা হয়েছিল বিভিন্ন উপায়ে। যেমন— একাধিক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন বাতিল করা, মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোকে বেছে বেছে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা, কিছু আসনকে এসসি বা এসটি সংরক্ষিত করা এবং দীর্ঘদিন মুসলিম প্রতিনিধিদের জেতা দুটি আসনকে একত্র করে একটি নতুন আসন গঠন করা।
এর স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট থেকে ৩১ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার বিরোধী শিবির থেকে জিতেছেন মাত্র ২২ জন মুসলিম বিধায়ক। বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে টিকিটই দেয়নি।
ডিলিমিটেশনের প্রভাব বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএর আসন বৃদ্ধিতেও স্পষ্ট। যেসব এলাকায় তাদের ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত ঘাঁটি ছিল না, সেখানে এটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।
আসামের বরপেটা এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিম আসনকে উদাহরণ ধরা যেতে পারে। এই এলাকাগুলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঘনবসতি রয়েছে। এই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছে।
এই দুটি আসনেই দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি-মূলের মুসলিম বিধায়কগণই প্রতিনিধি ছিলেন। এদের অনেককে অবমাননাকরভাবে ‘মিয়া মুসলিম’ বলা হয়। কারণ, এই আসনগুলোতে ওই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বেশি ছিল।
কিন্তু ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসনের সীমানা এমনভাবে বদলানো হয় যে হিন্দু ভোটারের অনুপাত বেড়ে যায়, আর মুসলিম ভোটারদের বিভিন্ন অন্য আসনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, বরপেটা আসনকে তফসিলি জাতির জন্য এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিমকে তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা আর ওই আসনগুলো থেকে প্রার্থী হতে পারেননি।
২০২১ সালে দুটি আসনই কংগ্রেস জিতেছিল। কিন্তু এবার সেগুলো চলে যায় বিজেপি এবং তাদের মিত্র আসাম গণ পরিষদের দখলে।
ডিলিমিটেশনের ফলে রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাতেও পাঁচটি নতুন আসন যোগ হয়—একটি কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ এলাকায় এবং চারটি বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এলাকায়। পাঁচটি আসনই এবার বিজেপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে।
স্ক্রলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আরও অন্তত ১২টি আসনে ডিলিমিটেশন এনডিএ-কে সুবিধা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বরাক উপত্যকার তিনটি আসন, লোয়ার আসামের ছয়টি, মধ্য আসামের দুটি এবং আপার আসামের একটি আসন।
এই সব আসনেই ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে জনসংখ্যার গঠন আমূল বদলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে এই আসনগুলো বিরোধীরা জিতেছিল, কিন্তু ২০২৬-এ সেগুলো এনডিএর দখলে চলে যায়।
এছাড়াও, বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি আসনকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। ১৯৫২ সাল থেকে এই আসনে মাত্র তিনবার ছাড়া সব সময় মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ডিলিমিটেশনের সময় আসনটিকে ভৌগোলিকভাবে চারটি বিচ্ছিন্ন অংশে ভেঙে ফেলা হয়।
এর ফলে হিন্দু ভোটারদের একত্র করা সম্ভব হয় এবং মুসলিম জনসংখ্যা ৫৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশে নেমে আসে বলে পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর অনুমান। আসনের অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা যুক্ত করা হয় অলগাপুর-কাটলিছড়া নামের আরেকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সঙ্গে। এবার হাইলাকান্দি জেতে বিজেপি।
একই ধরনের চিত্র দেখা যায় কাছাড় জেলার কাটিগড়া আসনেও, যা ২০২১ সালে কংগ্রেস জিতেছিল। প্রথমে আসনটির ১২টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম সীমানা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তারপর হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ বদরপুর শহরকে ওই আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে আসনটিতে হিন্দু ভোটারের অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ বলে দাবি করেন পর্যবেক্ষকগণ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাটিগড়াও জেতে বিজেপি।
বরাক উপত্যকার তৃতীয় আসন বরখলাতেও মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কমে যায়। কয়েক দশক ধরে মুসলিম বিধায়কদের প্রতিনিধিত্ব করা এই আসন এবার বিজেপির দখলে যায়।
আসামের ধুবড়ি জেলায় ডিলিমিটেশনের ফলে গোলকগঞ্জ এবং বিলাসিপাড়া আসনে মুসলিম ভোটারের অনুপাত কমে যায়। দুটি আসনই এনডিএ জিতেছে, যদিও বিলাসিপাড়ায় আসাম গণ পরিষদ খুব অল্প ব্যবধানে জেতে।
বরপেটা জেলার ভবানীপুর-সরভোগ আসন তার উদাহরণ। ভবানীপুর এবং সরভোগ—এই দুটি পুরনো আসন একত্র করে নতুন আসনটি তৈরি হয়। আগের নির্বাচনে বিজেপি ও তাদের মিত্ররা দুটি আসনই হেরেছিল।
মূলত সরভোগের প্রতিকূল জনসংখ্যাগত সমীকরণের কারণে সাবেক রাজ্য বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস ২০২১ সালে পাতাচরকুচি আসন থেকে লড়েছিলেন।
কিন্তু ডিলিমিটেশনের সময় হাউলি শহরের মতো হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলকে পাশের বরপেটা আসন থেকে আলাদা করে নতুন আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে মুসলিম ভোটারের অনুপাত কমে যায়। এবার ভবানীপুর-সরভোগ আসনে জয়ী হন রণজিৎ কুমার দাস।
মধ্য আসামে ডিলিমিটেশনের ফলে পুনর্গঠিত হওয়া রাহা এবং নগাঁও-বটদ্রবা আসনেও বিজেপি লাভবান হয়েছে।
আসামের টিটাবর আসনে ডিলিমিটেশনের ফলে চা-জনজাতির জনসংখ্যা বেড়ে যায়, যা কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের সম্প্রদায় ‘আহোম’দের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়। ডিলিমিটেশনের আগে আহোমরাই ছিল আসনটির প্রধান ভোটারগোষ্ঠী। কিন্তু পরে চা-জনজাতিরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারে পরিণত হয়।
টিটাবর ২০০১ সাল থেকে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এই আসন থেকেই গৌরব গগৈয়ের বাবা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই দলই এবার চা-জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রার্থী দেয়। কিন্তু চা-জনজাতিদের দৃঢ় সমর্থনের ভিত্তিতে বিজেপি প্রার্থী ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
(স্ক্রল ডট ইন থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন কীভাবে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তার দারুণ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে সদ্য শেষ হওয়া আসামের বিধানসভা নির্বাচন। শুধু সমর্থনের ভিত্তিতে নয়, নতুন এই প্রক্রিয়া বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা আগে ছিল না।
গত ৪ মে নির্বাচনের ভোট গণণা শেষে বিধানসভার ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল। এতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ১৯টি আসনে সরাসরি সুবিধা পেয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই পুনর্গঠন এমনভাবে করা হয়েছে, যেন মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে যায় এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনী সুবিধা পায়।
আসামের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের জোটসঙ্গীর বিপুল জয় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তেমন অবাক করেনি। ফল প্রকাশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এর অন্যতম কারণ ছিল ২০২৩ সালের ডিলিমিটেশন, যার ফলে মুসলিম ভোটাররা রাজ্যের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা জানতাম অন্তত ১০২-১০৩টি আসন আমরা জিততে পারব।’
স্ক্রল আগেই জানিয়েছিল, আসামে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছিল রাজ্যের ‘আদিবাসী’ বা ‘স্থানীয়’ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার কথা বলে। কিন্তু যেভাবে বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে কার্যত রাজ্যে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মার হিসাব খুব একটা ভুল ছিল না। বিজেপি একাই ৮২টি আসন জিতেছে। তাদের মিত্র বোদো পিপলস ফ্রন্ট এবং আসাম গণ পরিষদ পায় ১০টি করে আসন। ফলে জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১০২। এর আগের দুই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ৬০। এবার তারা সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২২টি অতিরিক্ত আসন পেয়েছে।
স্ক্রলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ১৯টি আসনে এই পুনর্নির্ধারণের সরাসরি সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তৈরি হওয়া পাঁচটি নতুন আসন, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি পুরনো আসনকে তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি জনজাতির (এসটি) জন্য সংরক্ষিত করা এবং আরও ১২টি আসন, যেখানে জনসংখ্যার গঠন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে ফেলা হয়েছে।
বিরোধী নেতারা এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে ‘জেরিম্যান্ডারিং’ বলে আখ্যা দিয়েছেন—অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা এমনভাবে পুনর্গঠন করা, যাতে ভোটের সমীকরণ বদলে যায়।
২০২৩ সালের ডিলিমিটেশনের ফলে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোতে বিধানসভা আসনের সংখ্যা কমে যায়। অন্যদিকে, যেসব এলাকায় আসামের তথাকথিত ‘স্থানীয়’ জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি, সেখানে আসনসংখ্যা বাড়ে।
সাধারণত, আসামে প্রায় ৩০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন রয়েছে, যেখান থেকে মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু ডিলিমিটেশনের পর সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ২৩-এ।
এটি করা হয়েছিল বিভিন্ন উপায়ে। যেমন— একাধিক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন বাতিল করা, মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোকে বেছে বেছে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা, কিছু আসনকে এসসি বা এসটি সংরক্ষিত করা এবং দীর্ঘদিন মুসলিম প্রতিনিধিদের জেতা দুটি আসনকে একত্র করে একটি নতুন আসন গঠন করা।
এর স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট থেকে ৩১ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার বিরোধী শিবির থেকে জিতেছেন মাত্র ২২ জন মুসলিম বিধায়ক। বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে টিকিটই দেয়নি।
ডিলিমিটেশনের প্রভাব বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএর আসন বৃদ্ধিতেও স্পষ্ট। যেসব এলাকায় তাদের ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত ঘাঁটি ছিল না, সেখানে এটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।
আসামের বরপেটা এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিম আসনকে উদাহরণ ধরা যেতে পারে। এই এলাকাগুলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঘনবসতি রয়েছে। এই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছে।
এই দুটি আসনেই দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি-মূলের মুসলিম বিধায়কগণই প্রতিনিধি ছিলেন। এদের অনেককে অবমাননাকরভাবে ‘মিয়া মুসলিম’ বলা হয়। কারণ, এই আসনগুলোতে ওই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বেশি ছিল।
কিন্তু ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসনের সীমানা এমনভাবে বদলানো হয় যে হিন্দু ভোটারের অনুপাত বেড়ে যায়, আর মুসলিম ভোটারদের বিভিন্ন অন্য আসনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, বরপেটা আসনকে তফসিলি জাতির জন্য এবং গোয়ালপাড়া পশ্চিমকে তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা আর ওই আসনগুলো থেকে প্রার্থী হতে পারেননি।
২০২১ সালে দুটি আসনই কংগ্রেস জিতেছিল। কিন্তু এবার সেগুলো চলে যায় বিজেপি এবং তাদের মিত্র আসাম গণ পরিষদের দখলে।
ডিলিমিটেশনের ফলে রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাতেও পাঁচটি নতুন আসন যোগ হয়—একটি কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ এলাকায় এবং চারটি বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এলাকায়। পাঁচটি আসনই এবার বিজেপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে।
স্ক্রলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আরও অন্তত ১২টি আসনে ডিলিমিটেশন এনডিএ-কে সুবিধা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বরাক উপত্যকার তিনটি আসন, লোয়ার আসামের ছয়টি, মধ্য আসামের দুটি এবং আপার আসামের একটি আসন।
এই সব আসনেই ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে জনসংখ্যার গঠন আমূল বদলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে এই আসনগুলো বিরোধীরা জিতেছিল, কিন্তু ২০২৬-এ সেগুলো এনডিএর দখলে চলে যায়।
এছাড়াও, বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি আসনকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। ১৯৫২ সাল থেকে এই আসনে মাত্র তিনবার ছাড়া সব সময় মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ডিলিমিটেশনের সময় আসনটিকে ভৌগোলিকভাবে চারটি বিচ্ছিন্ন অংশে ভেঙে ফেলা হয়।
এর ফলে হিন্দু ভোটারদের একত্র করা সম্ভব হয় এবং মুসলিম জনসংখ্যা ৫৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশে নেমে আসে বলে পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর অনুমান। আসনের অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা যুক্ত করা হয় অলগাপুর-কাটলিছড়া নামের আরেকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সঙ্গে। এবার হাইলাকান্দি জেতে বিজেপি।
একই ধরনের চিত্র দেখা যায় কাছাড় জেলার কাটিগড়া আসনেও, যা ২০২১ সালে কংগ্রেস জিতেছিল। প্রথমে আসনটির ১২টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম সীমানা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তারপর হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ বদরপুর শহরকে ওই আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে আসনটিতে হিন্দু ভোটারের অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ বলে দাবি করেন পর্যবেক্ষকগণ। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কাটিগড়াও জেতে বিজেপি।
বরাক উপত্যকার তৃতীয় আসন বরখলাতেও মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কমে যায়। কয়েক দশক ধরে মুসলিম বিধায়কদের প্রতিনিধিত্ব করা এই আসন এবার বিজেপির দখলে যায়।
আসামের ধুবড়ি জেলায় ডিলিমিটেশনের ফলে গোলকগঞ্জ এবং বিলাসিপাড়া আসনে মুসলিম ভোটারের অনুপাত কমে যায়। দুটি আসনই এনডিএ জিতেছে, যদিও বিলাসিপাড়ায় আসাম গণ পরিষদ খুব অল্প ব্যবধানে জেতে।
বরপেটা জেলার ভবানীপুর-সরভোগ আসন তার উদাহরণ। ভবানীপুর এবং সরভোগ—এই দুটি পুরনো আসন একত্র করে নতুন আসনটি তৈরি হয়। আগের নির্বাচনে বিজেপি ও তাদের মিত্ররা দুটি আসনই হেরেছিল।
মূলত সরভোগের প্রতিকূল জনসংখ্যাগত সমীকরণের কারণে সাবেক রাজ্য বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস ২০২১ সালে পাতাচরকুচি আসন থেকে লড়েছিলেন।
কিন্তু ডিলিমিটেশনের সময় হাউলি শহরের মতো হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলকে পাশের বরপেটা আসন থেকে আলাদা করে নতুন আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে মুসলিম ভোটারের অনুপাত কমে যায়। এবার ভবানীপুর-সরভোগ আসনে জয়ী হন রণজিৎ কুমার দাস।
মধ্য আসামে ডিলিমিটেশনের ফলে পুনর্গঠিত হওয়া রাহা এবং নগাঁও-বটদ্রবা আসনেও বিজেপি লাভবান হয়েছে।
আসামের টিটাবর আসনে ডিলিমিটেশনের ফলে চা-জনজাতির জনসংখ্যা বেড়ে যায়, যা কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের সম্প্রদায় ‘আহোম’দের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়। ডিলিমিটেশনের আগে আহোমরাই ছিল আসনটির প্রধান ভোটারগোষ্ঠী। কিন্তু পরে চা-জনজাতিরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারে পরিণত হয়।
টিটাবর ২০০১ সাল থেকে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এই আসন থেকেই গৌরব গগৈয়ের বাবা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই দলই এবার চা-জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রার্থী দেয়। কিন্তু চা-জনজাতিদের দৃঢ় সমর্থনের ভিত্তিতে বিজেপি প্রার্থী ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
(স্ক্রল ডট ইন থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

একবিংশ শতাব্দীর রণক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে নিঃশব্দে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কোটি ডলারের ট্যাংক বা অত্যাধুনিক ফাইটার প্লেন এখন কয়েক হাজার ডলারের ড্রোনের কাছে অসহায়।
৫ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে: ভারতে তো বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বা অন্য রাজ্যগুলোতে আবার আলাদা করে নির্বাচন কেন? রাজ্যগুলোতে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী বা নতুন সর
১৮ ঘণ্টা আগে
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির ক্ষমতা দখল—পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড়। টানা ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার পর এই ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
১ দিন আগে
২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের পর তাই অনেকেই সন্দেহ করছেন, পাঁচ বছরে বাংলায় গেরুয়া ঝড় থামবে না। দীর্ঘদিনের জন্যই হয়তো পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বিজেপি টিকে থাকবে।
২ দিন আগে