অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু নিয়ে গোপন নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০০: ০৫
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের প্রকাশ করা ছবি। ছবি: এএফপি

অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও-সংক্রান্ত আগে গোপন রাখা নথির প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর (পেন্টাগন)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর শুক্রবার (৮ মে) এসব নথি প্রকাশ করা হয়। খবর আল জাজিরা

প্রকাশিত নথিতে কয়েক দশক পুরোনো ১৬২টি ফাইল রয়েছে। এর মধ্যে এফবিআই, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর, নাসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নথিগুলো প্রকাশের জন্য একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে পেন্টাগন।

তবে এসব নথি প্রকাশ করলেও ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি পেন্টাগন। পেন্টাগনের ভাষ্য, অনেক নথি শুধু নিরাপত্তাজনিত কারণে যাচাই করা হয়েছে। তবে সেগুলোর অস্বাভাবিক দিক নিয়ে এখনো পূর্ণ বিশ্লেষণ হয়নি।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, আগের সকল প্রশাসন যেখানে জনগণকে নিরুৎসাহিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়। ফলে এখন জনগণ নিজেরাই এসব নথি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ট্রাম্পের উদ্যোগ

ট্রাম্প এই উদ্যোগকে সরকারের স্বচ্ছতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি এবং অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশও দিয়েছিলেন।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ভিনগ্রহের প্রাণ, অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা এবং ইউএফও-সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। তখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এক পডকাস্টে ওবামা বলেছিলেন, ভিনগ্রহের প্রাণ ‘বাস্তব’। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বহির্জাগতিক প্রাণ পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি।

জনগণকে বিভ্রান্তের চেষ্টা

সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ থেকে দৃষ্টি সরাতেই ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আগ্রহের এসব নথি প্রকাশ করছে। বিশেষ করে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত তদন্তের নথি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইউএফও ফাইল প্রকাশের সিদ্ধান্ত এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি এই উদ্যোগকে ‘গণবিভ্রান্তির চূড়ান্ত অস্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

যা আছে প্রকাশিত নথিতে

প্রকাশিত নথিগুলোতে বড় কোনো তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ঘটনার বিবরণ নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

একটি এফবিআই নথিতে এক ড্রোনচালকের সাক্ষাৎকার রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আকাশে একটি উজ্জ্বল ‘রৈখিক বস্তু’ দেখেছিলেন। সেটি কয়েক সেকেন্ড দৃশ্যমান থাকার পর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।

আরেকটি নথিতে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের একটি ছবি রয়েছে। সেখানে ত্রিভুজাকারে থাকা তিনটি আলোকবিন্দু দেখা যায়। পেন্টাগনের ভাষ্য, বস্তুগুলোর প্রকৃতি নিয়ে এখনো কোনো ঐকমত্য নেই।

ইউএফও ও অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বহু দশক ধরে আগ্রহ রয়েছে। ২০২২ সালে কংগ্রেস এ-সংক্রান্ত তথ্য তদন্ত ও গোপনীয়তা প্রত্যাহারের জন্য পেন্টাগনের বিশেষ দপ্তর গঠন করে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ওই দপ্তরের প্রতিবেদনে শত শত নতুন ঘটনার তথ্য উঠে এলেও ভিনগ্রহের প্রযুক্তি বা প্রাণের অস্তিত্বের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

সম্পর্কিত