আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখের বেশি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৯: ২০
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা প্রদানের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পাইলট পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সমগ্র বাংলাদেশে ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী অঙ্গিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শস্য, ফসল ও মৎসখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫শ ৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেটে বরাদ্দ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ১৮০দিনের কর্মসূচিতে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন বর্ষায় আমরা ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের চাইতে সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যরা এলাকার জন্য সহয়তা তহবিল পাচ্ছে বলে সংসদে অভিযোগ তুলেন মীর আহমেদ বিন কাশেম। তাঁর এই অভিযোগের উত্তর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দল থেকে এবং বিরোধী দল থেকে যেসব নারী সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছে সংবিধানে কিংবা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাঁদের কোনো আসন নেই। খুব স্বাভাবিকভাবে আমরা আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে তাঁদের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করেছি। আপনার নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার হক আছে। যেহেতু এই সংসদ এই নারী সদস্যদের নির্বাচিত করেছে খুব স্বাভাবিকভাবে তাঁদেরও একই রকমভাবে হক আছে। খুব স্বাভাবিকভাবে আমরা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এগুচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকাতে উন্নয়ন করবেন ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগীতা থাকবে বিরোধী দলীয় সদস্য যারা রয়েছেন তাঁদের এলাকাতেও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পরে আমরা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি কীভাবে দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খল ফিরে আনতে হবে। একইসঙ্গে দেশে ব্যবসাবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

সম্পর্কিত