প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ওসমান হাদি স্বাধীনতার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী ঐতিহাসিক সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। তিনি বিপ্লবী নতুন বাংলাদেশের মুখ।’
আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই টার্গেট করা হয়েছিল এবং তাঁর কণ্ঠরোধ করাই ছিল হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এটি এখন স্পষ্ট যে এই বর্বর হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামক ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীরা। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা কোটি কোটি তরুণ বাংলাদেশির মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।’
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হাদির ওপর ঘটা এই বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ‘ঠিক ৫৪ বছর আগে এই সপ্তাহেই পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল। সে সময়ও তাদের লক্ষ্য ছিল একটি উদীয়মান জাতির কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাদি হয়তো আমাদের শহীদ পণ্ডিতদের মতো শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিক বুদ্ধিজীবী নন, কিন্তু তিনি লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি এমন এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, যে জাতি আর কোনো বিদেশি-সমর্থিত পুতুল শাসকের দ্বারা শাসিত নয়।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে প্রেস সচিব লেখেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বহু আওয়ামী লীগ কর্মী ইতিহাসের সঠিক পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে এবং জুলাই বিপ্লবের আগের ১৬ বছর ধরে দলটি ইতিহাসের ভুল পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এর কর্মকর্তা-কর্মীরা নতুন রাজাকার ও আল-বদর হয়ে উঠেছিলেন। তারা একটি গোটা প্রজন্মকে স্তব্ধ করার জন্য অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন, তবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জেন জি তাদের পরাজিত করেছে ‘
১৯৭১ বা ১৯৭৫-এর মতোই ২০২৫ সালেও জাতি নীরব থাকবে না বলে হুঁশিয়ার করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘হাসিনা এবং বাঙালির কসাইখ্যাত আসাদুজ্জামান খান কামাল যাই পরিকল্পনা করুন না কেন, তা সফল হবে না।’
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো আপাতত হাদিকে চুপ করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সারা দেশে লাখ লাখ হাদি রয়েছে। এই হাদিরাই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়বে যেখানে ফ্যাসিবাদী ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান থাকবে না।