লেখা:

১২ মার্চ ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ২০ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি কেবল একটি নতুন সংসদের যাত্রা নয়, বরং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত প্রথম আইনসভার অভিষেক। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার এই মুহূর্তটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য। ১২ মার্চের এই অধিবেশন সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ২০ মাস পর জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংসদ সচিবালয় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা—এই সংসদ কেবল ক্ষমতাচর্চার কেন্দ্র হবে না, বরং এখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও ইনসাফ কায়েমের আইন তৈরি হবে।
সংসদ নেতাসহ অধিবেশন কক্ষ যখন ভরপুর সেই সময়টিতে স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা ছিল। সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে অধিবেশন শুরুর জন্য প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ নেতার প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দলের উপনেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাতে সায় দেয়। এর মধ্য দিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই অধিবেশন পরিচালনা করেন। স্পিকার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হন। নির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। একইভাবে অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত যে, সংসদীয় নেতৃত্বের শুরুতে প্রধান দলগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং এখানে দীর্ঘ সময় পর সংসদীয় রীতির প্রকৃত প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।
অধিবেশনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শোক প্রস্তাব উত্থাপন। স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বিশেষ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ থেকে শুরু করে নাম না জানা হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের কথা যখন সংসদ কক্ষে পাঠ করা হচ্ছিল, তখন পুরো সংসদ স্তম্ভিত হয়ে যায়। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও বিগত দেড় বছরে মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাবেক সংসদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল প্রথাগত কৃত্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণে উঠে আসে আগামীর বাংলাদেশের এক মহাপরিকল্পনা। তিনি বিশেষত অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রয়োদশ সংসদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি শক্তিশালী ও সরব বিরোধী দলের উপস্থিতি। সংসদীয় কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটল। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সংসদে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের সদস্যরা চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এই ঘটনাকে সংসদীয় রাজনীতির একটি স্বাভাবিক কৌশল হিসেবে দেখা যায়।
অনেক গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দল এমন প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে। তবে প্রশ্ন হলো—এ ধরনের ওয়াক আউট কি সংসদের ভেতরে নীতিগত বিতর্ককে শক্তিশালী করে, নাকি রাজনৈতিক প্রতীকী বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে বিরোধী দল কতটা সক্রিয়ভাবে বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর এবং কমিটি কার্যক্রমে অংশ নেয় তার ওপর।
প্রথম দিনের কার্যসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক অংশ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ একযোগে সংসদে উত্থাপন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমেই জরুরি আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষায় এই অধ্যাদেশগুলোকে সংসদে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল। সংসদে উপস্থিত সকল সদস্য এই আইনি প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এ অধ্যাদেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে আইন হিসেবে পাসের লক্ষ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ৫টি অত্যাবশ্যকীয় কমিটি গঠন করা হয়। স্পিকার দিনের সকল কার্যসূচি সম্পন্ন করে সংসদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রমকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক দিক সামনে আসে। সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত একটি সংবিধানসম্মত ও আনুষ্ঠানিক সূচনা, যার মাধ্যমে নির্বাচনের পর নতুন আইনসভা কার্যকরভাবে কাজ শুরু করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি রয়েছে সাংবিধানিক বিধানগুলোতে (অনুচ্ছেদ ৭২, ১৪৮ )। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন মূলত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা সংসদে প্রবেশ করেন এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সংঘটিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল শর্ত।
নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে সংসদের প্রথম দিনেই সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব শুরু করেন। এর মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার আইনগত কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠেন। এটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বাস্তবায়নের একটি দৃশ্যমান ধাপ।
প্রথম অধিবেশনে প্রধানত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। এই নির্বাচন প্রমাণ করে যে সংসদ নিজস্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
প্রথম দিন থেকেই সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে সংসদের বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং প্রশ্নোত্তর কার্যক্রমের কাঠামো তৈরি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই সংসদে অংশগ্রহণ করে এবং এই প্রথম অধিবেশন রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার-বিরোধী মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য, যা আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে বিতর্ক ও সমালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের গুণগত মান বাড়ায়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রতিফলিত করে—সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সংসদীয় শাসনব্যবস্থার নিয়মতান্ত্রিক সূচনা।
তবে গতকালের অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হলো—রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের সদস্যগণ প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং পরে ওয়াকআউট করেন। এটি সংসদীয় রাজনীতিতে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।
নতুন সংসদের শুরুতেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারসহ রাজনৈতিক প্রশ্নে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এটি গণতন্ত্রে অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং বিরোধী দল যদি স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরে, তাহলে তা সংসদের ভিতরে আদর্শগত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, যা কার্যকর সংসদের একটি বৈশিষ্ট্য।
বিরোধী দলের নেতা আগে থেকেই বলেছেন যে তারা সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন না; বরং দেশের স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত ভালো হবে তা সমর্থন করবেন এবং ক্ষতিকর হলে বিরোধিতা করবেন। এই বক্তব্যটি সংসদীয় রাজনীতির ভাষায় একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ বিরোধী দল নিজেদেরকে কেবল প্রতিবাদী শক্তি নয়, বরং নীতিগত সমালোচক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।
প্রথম দিনের বিরোধীদলের কার্যক্রম দেখে একটি দ্বৈত চিত্র পাওয়া যায়; একদিকে বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত হয়েছে, রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে, প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে মতপার্থক্য দেখিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াকআউটের কারণে সংসদীয় বিতর্কে সরাসরি অংশগ্রহণ কমেছে, বিকল্প নীতির বিস্তারিত উপস্থাপন এখনো দৃশ্যমান হয়নি (কমপক্ষে প্রথম দিনের কার্যক্রমে)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের চালচিত্র একটি দ্বৈত বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে; অন্যদিকে সংসদের সামনে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ পরিচালিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। অতীতে বহু সংসদই কার্যত একদলীয় প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা ভিন্ন। তারা একটি এমন সংসদ দেখতে চায় যেখানে বিতর্ক হবে, প্রশ্ন উঠবে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া জনসম্মুখে পরীক্ষা করা হবে।
প্রথম দিনের চাঞ্চল্য ও আইনি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে যে, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত এই সংসদ ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর। ত্রয়োদশ সংসদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে: এটি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংসদ থাকবে, নাকি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হবে?
প্রথম দিন সূচনা মাত্র; উত্তর মিলবে ধারাবাহিক কার্যক্রমে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
লেখকঃ শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১২ মার্চ ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ২০ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি কেবল একটি নতুন সংসদের যাত্রা নয়, বরং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত প্রথম আইনসভার অভিষেক। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার এই মুহূর্তটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের পথে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য। ১২ মার্চের এই অধিবেশন সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ২০ মাস পর জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংসদ সচিবালয় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা—এই সংসদ কেবল ক্ষমতাচর্চার কেন্দ্র হবে না, বরং এখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও ইনসাফ কায়েমের আইন তৈরি হবে।
সংসদ নেতাসহ অধিবেশন কক্ষ যখন ভরপুর সেই সময়টিতে স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা ছিল। সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে অধিবেশন শুরুর জন্য প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ নেতার প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান বিরোধী দলের উপনেতা, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাতে সায় দেয়। এর মধ্য দিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই অধিবেশন পরিচালনা করেন। স্পিকার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হন। নির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। একইভাবে অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত যে, সংসদীয় নেতৃত্বের শুরুতে প্রধান দলগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং এখানে দীর্ঘ সময় পর সংসদীয় রীতির প্রকৃত প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে।
অধিবেশনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শোক প্রস্তাব উত্থাপন। স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বিশেষ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ থেকে শুরু করে নাম না জানা হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের কথা যখন সংসদ কক্ষে পাঠ করা হচ্ছিল, তখন পুরো সংসদ স্তম্ভিত হয়ে যায়। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও বিগত দেড় বছরে মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাবেক সংসদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল প্রথাগত কৃত্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণে উঠে আসে আগামীর বাংলাদেশের এক মহাপরিকল্পনা। তিনি বিশেষত অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ত্রয়োদশ সংসদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি শক্তিশালী ও সরব বিরোধী দলের উপস্থিতি। সংসদীয় কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটল। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সংসদে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের সদস্যরা চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এই ঘটনাকে সংসদীয় রাজনীতির একটি স্বাভাবিক কৌশল হিসেবে দেখা যায়।
অনেক গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দল এমন প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে। তবে প্রশ্ন হলো—এ ধরনের ওয়াক আউট কি সংসদের ভেতরে নীতিগত বিতর্ককে শক্তিশালী করে, নাকি রাজনৈতিক প্রতীকী বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে বিরোধী দল কতটা সক্রিয়ভাবে বিতর্ক, প্রশ্নোত্তর এবং কমিটি কার্যক্রমে অংশ নেয় তার ওপর।
প্রথম দিনের কার্যসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক অংশ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ একযোগে সংসদে উত্থাপন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমেই জরুরি আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষায় এই অধ্যাদেশগুলোকে সংসদে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল। সংসদে উপস্থিত সকল সদস্য এই আইনি প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এ অধ্যাদেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে আইন হিসেবে পাসের লক্ষ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ৫টি অত্যাবশ্যকীয় কমিটি গঠন করা হয়। স্পিকার দিনের সকল কার্যসূচি সম্পন্ন করে সংসদ অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রমকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক দিক সামনে আসে। সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত একটি সংবিধানসম্মত ও আনুষ্ঠানিক সূচনা, যার মাধ্যমে নির্বাচনের পর নতুন আইনসভা কার্যকরভাবে কাজ শুরু করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি রয়েছে সাংবিধানিক বিধানগুলোতে (অনুচ্ছেদ ৭২, ১৪৮ )। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন মূলত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিরা সংসদে প্রবেশ করেন এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সংঘটিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল শর্ত।
নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে সংসদের প্রথম দিনেই সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব শুরু করেন। এর মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার আইনগত কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠেন। এটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বাস্তবায়নের একটি দৃশ্যমান ধাপ।
প্রথম অধিবেশনে প্রধানত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। এই নির্বাচন প্রমাণ করে যে সংসদ নিজস্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
প্রথম দিন থেকেই সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে সংসদের বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং প্রশ্নোত্তর কার্যক্রমের কাঠামো তৈরি হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই সংসদে অংশগ্রহণ করে এবং এই প্রথম অধিবেশন রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার-বিরোধী মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য, যা আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে বিতর্ক ও সমালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের গুণগত মান বাড়ায়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রতিফলিত করে—সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, সংসদীয় শাসনব্যবস্থার নিয়মতান্ত্রিক সূচনা।
তবে গতকালের অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হলো—রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের সদস্যগণ প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং পরে ওয়াকআউট করেন। এটি সংসদীয় রাজনীতিতে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।
নতুন সংসদের শুরুতেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারসহ রাজনৈতিক প্রশ্নে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এটি গণতন্ত্রে অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং বিরোধী দল যদি স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরে, তাহলে তা সংসদের ভিতরে আদর্শগত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে, যা কার্যকর সংসদের একটি বৈশিষ্ট্য।
বিরোধী দলের নেতা আগে থেকেই বলেছেন যে তারা সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন না; বরং দেশের স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত ভালো হবে তা সমর্থন করবেন এবং ক্ষতিকর হলে বিরোধিতা করবেন। এই বক্তব্যটি সংসদীয় রাজনীতির ভাষায় একটি গঠনমূলক বিরোধীদলের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ বিরোধী দল নিজেদেরকে কেবল প্রতিবাদী শক্তি নয়, বরং নীতিগত সমালোচক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।
প্রথম দিনের বিরোধীদলের কার্যক্রম দেখে একটি দ্বৈত চিত্র পাওয়া যায়; একদিকে বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত হয়েছে, রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে, প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে মতপার্থক্য দেখিয়েছে। অন্যদিকে ওয়াকআউটের কারণে সংসদীয় বিতর্কে সরাসরি অংশগ্রহণ কমেছে, বিকল্প নীতির বিস্তারিত উপস্থাপন এখনো দৃশ্যমান হয়নি (কমপক্ষে প্রথম দিনের কার্যক্রমে)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের চালচিত্র একটি দ্বৈত বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে; অন্যদিকে সংসদের সামনে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ পরিচালিত হওয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। অতীতে বহু সংসদই কার্যত একদলীয় প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা ভিন্ন। তারা একটি এমন সংসদ দেখতে চায় যেখানে বিতর্ক হবে, প্রশ্ন উঠবে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া জনসম্মুখে পরীক্ষা করা হবে।
প্রথম দিনের চাঞ্চল্য ও আইনি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে যে, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত এই সংসদ ১৬ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর। ত্রয়োদশ সংসদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে: এটি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংসদ থাকবে, নাকি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হবে?
প্রথম দিন সূচনা মাত্র; উত্তর মিলবে ধারাবাহিক কার্যক্রমে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
লেখকঃ শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
২১ ঘণ্টা আগে
গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রতিক্রিয়াশীল ও খণ্ডিত নিরাপত্তা কাঠামো থেকে সুসংগঠিত আইন-ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের ইঙ্গিত—যা ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্
১ দিন আগে