leadT1ad

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট, দ্রুত নিষ্পত্তি: আইনমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। যত দ্রুত সম্ভব রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায় নিষ্পত্তি করা হবে।

রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছয় কার্যদিবসে আমরা রামিসা হত্যার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম। ১৯৮২ সালে নদীয়া সেশন কোর্ট মুল্লুক চাঁদ নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর ৯ বছরের কন্যাকে হত্যার দায়ে একদিনে বিচারকার্য শেষ করেছিল। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ছয় দিনের মধ্যে বিচার শেষ করেছি। আশা করছি, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।

এর আগে সকালে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করেন আদালত।

রায়ে বলা হয়েছে, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেন সোহেল। তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন। আর তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা ওই ঘটনায় পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১ জুন বিচার শুরুর পর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয় ৪ জুন। সবমিলে ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এই রায় হলো।

আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক ঘটনা ছিল। এ ঘটনায় জাতি গভীরভাবে বেদনাহত ছিল। আমরা রামিসাকে ফিরিয়ে আনতে পারব না। আমাদের যতটুকু করার, সেটা আমরা করার চেষ্টা করেছি। ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। নিম্ন আদালতের শিশু ট্রাইব্যুনালগুলো ১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটি। প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, শিশু ট্রাইব্যুনালগুলোর ছুটি বাতিল করতে প্রধান বিচারপতির কাছে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সম্মতি দেন প্রধান বিচারপতি। ন্যায়বিচার নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন তৈরি না হয়, সেজন্য আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল হাইকোর্ট বিভাগে যাবে। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপারবুক প্রস্তুত করা হবে।

রায় কার্যকর না হওয়ায় সমাজে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, কার্যকর না হওয়া যেমন হতাশার জায়গা, তেমনি এই কারণে এমন ঘটনা ঘটছে, সেটা আপনারা হয়ত কেউ কেউ বলতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে সেটি মনে হচ্ছে না। তবে এটি অন্যতম কারণ হতে পারে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসার হত্যাকারী সোহেল মানসিকভাবে অপরাধী। এমন একটি ঘটনা ঘটিয়ে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আবার বিচার ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মামলার রেকর্ডে নেই– এমন আরেকজনকে টেনে আনতে চেয়েছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, বিচারপ্রক্রিয়া কতটা বিলম্বিত করা যায়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত