leadT1ad

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে হাইকোর্টেও টিকল না বিএনপি মনোনীত গফুরের প্রার্থিতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। ফাইল ছবি

নির্বাচনী হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে শেষ আইনি প্রচেষ্টাতেও ব্যর্থ হলেন কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা তার রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ (সামারি রিজেকশন) করে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। মূলত হলফনামায় তথ্য গোপনই এই প্রার্থীর অযোগ্যতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইসির আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আব্দুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য তার নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আগে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দিয়েছিল। আজ মহামান্য আদালতও সেই রায় বহাল রেখেছেন।’

মামলার নথিপত্র ও কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়া তার হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এই তথ্য গোপনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন একই আসনের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিক।

সেই আপিলের ওপর গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে নির্বাচন কমিশন তথ্য গোপনের অভিযোগে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের রায় দেয়। কমিশনের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন গফুর ভূঁইয়ার আইনজীবীরা।

আজ বৃহস্পতিবার আদালতে রিটকারী বা আবদুল গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে অভিযোগকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনি অবস্থান তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী ও অ্যাডভোকেট ফয়জুল্লাহ ফয়েজ।

আইনি জটিলতায় একটি বড় দলের প্রার্থীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার মধ্যেই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে চলছে। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল গত ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত