leadT1ad

এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২১
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার চলমান প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত রুল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে দ্বিধাবিভক্ত রায় এসেছিল। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় বেঞ্চ হিসেবে এই একক বেঞ্চে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।

ঘোষিত রায়ে আদালত বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে, তা আইনগতভাবেই হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, যে প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা ২০১৭ সালের প্রকিউরমেন্ট পলিসি ও সমঝোতা স্মারকের অধীনে। ওই পলিসিতে কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি বাছাই বা নির্বাচন করার সুযোগ আছে। আবার দরপত্রের কথাও রয়েছে। আইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। এখানে আইন চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছিলেন। তৎকালীন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর মতে, ২০১৫ সালের পিপিপি আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে একই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। হাইকোর্টের নিয়ম অনুসারে কোনো দ্বৈত বেঞ্চে মতভেদ দেখা দিলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। সেই ধারাবাহিকতায় আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

ঘটনার সূত্রপাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে পিপিপি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অন্তর্বর্তী সরকারও জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়।

এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং উন্মুক্ত দরপত্রের দাবিতে গত বছর রিট দায়ের করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এই আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নির্মিত এই টার্মিনালটির নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার আগপর্যন্ত এটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। তারা গত ৬ জুলাই সাইফ পাওয়ারটেকের চুক্তির মেয়াদ শেষে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। এর আগে টার্মিনালটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলন করেছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত