স্ট্রিম ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ নারী, যদিও ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।
এবারের এই নির্বাচন দুটি দিক থেকে ব্যতিক্রমী। প্রথমত, দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দল থেকেই নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এ ছাড়াও, বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির কারণে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
গণতন্ত্রপন্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করেছেন। কারণ এতে জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের এই সিদ্ধান্তে নীরব সম্মতি দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের দেশের রাজনৈতিক পরিসর থেকে অনেকটাই সরিয়ে দিয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। এছাড়াও দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেছেন। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতেও নারী প্রার্থীদের বেশ সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। অথচ গণঅভ্যুত্থানে নারীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে এবাবের নির্বাচনে আগের যেকোনোবারের চেয়ে অধিক নারী প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন, এমনটাই ভাবছিলেন দেশের সাধারণ জনগণ।
এবার নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টিরও বেশি দল একজনও নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি।
জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নারী প্রার্থীরা দিয়েছেন মাত্র ১০৯টি। এটি মোট মনোনয়নপত্রের ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। পর্যালোচনা ও সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র ৭৬ জন নারী। অর্থাৎ নারী প্রার্থীর হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
তবে ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা জাতীয় ঐকমত্য অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ১৩তম সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা, যা ভবিষ্যতে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত করা হয়েছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশ শুধু লঙ্ঘনই করা হয়নি বরং, এবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১২তম সংসদে নারী সদস্য ছিলেন ২০ জন, যা মোট সংসদের ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ—গত চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবার ৫১টি দলের মধ্যে মাত্র সাতটি দল নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ১৫টি আসনে নারী মনোনয়ন দিলেও বৈধতা পেয়েছে ১১টি। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) দিয়েছে ৯ জন নারী প্রার্থী। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ দিয়েছে ৬ জন করে। এছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির নারী প্রার্থী ৫ জন। গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র ৩ জন নারী।
অবাক করার মতো হলেও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন নারী রেখেছে। জুলাই আন্দোলনে নারী নেতৃত্বের যে অনস্বীকার্য অবদান, তা যেন অনেকটাই অবহেলা করা হয়েছে দলটির নারী প্রার্থীদের মনোনয়নে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মাত্র ২ জন নারী মনোনয়ন দিয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, সিপিবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাসদ (বাসদ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, এনপিপি, আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি—প্রত্যেকটি দল মাত্র একজন করে নারী প্রার্থী দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ জন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮ জন), জাতীয় পার্টি (২২৪ জন), গণঅধিকার পরিষদ (১০৪ জন), খেলাফত মজলিস (৯৪ জন) এবং অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীদের মধ্যে একজন নারীও নেই।
ভোটার হিসেবে সংখ্যা প্রায় সমান হলেও নারীরা রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বেশ বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নারী মনোনয়নকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানায় এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করতে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি তোলে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ‘নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রিতু সাত্তার বলেন, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আসন্ন নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হওয়ার অধিকার কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে।
নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অন্যতম কারণ সহিংসতা ও হয়রানি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম এই পরিস্থিতির জন্য নারীর চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত করতে চাওয়া উগ্র গোষ্ঠীগুলোর উত্থানকে দায়ী করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে এসব গোষ্ঠী অন্তর্বর্তী সরকারের নারীসমতা উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং তথাকথিত ‘ইসলামবিরোধী’ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি তোলে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা অনুসরণ এবং সিডো সনদ ও আইসিসিপিআর চুক্তির বাধ্যবাধকতা মানার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও শিক্ষিত বাংলাদেশি নারীরা আমলাতন্ত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৮ জন নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি), ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ৬৩ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ১৪১ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রশাসনে রয়েছেন ১৪ জন সচিব (এর মধ্যে একজন সিনিয়র সচিব), ৬৯ জন অতিরিক্ত সচিব, ১৭৩ জন যুগ্ম সচিব, ৩৯০ জন উপসচিব, ৬৬৮ জন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ৩০৬ জন সহকারী সচিব।
এরপরও নেতৃত্ব পর্যায়ে নারী কর্মকর্তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার ডিসি বানানী বিশ্বাস বলেন, ‘ডিসি হওয়া পুরুষ ও নারী—উভয়ের জন্যই কঠিন। তবে নারী হিসেবে চ্যালেঞ্জ দ্বিগুণ। এজন্য নারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং সমাজের মানসিকতা বদলাতে হবে।’
কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও ফাইজুল ওয়াসিমা নাহাত বলেন, ‘নারী কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে দ্বিগুণ সংগ্রাম করতে হয়। মানুষ এখনো ইউএনওর চেয়ারে নারী দেখতে অভ্যস্ত নয়।’
অন্যদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন তুলনামূলক ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করলে কেউ নারী কর্মকর্তাকে ছোট করে না; বরং সাধারণ মানুষ তাকে উৎসাহ দেয়।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ নারী, যদিও ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।
এবারের এই নির্বাচন দুটি দিক থেকে ব্যতিক্রমী। প্রথমত, দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দল থেকেই নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এ ছাড়াও, বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নারীর প্রতি অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির কারণে নারী প্রার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
গণতন্ত্রপন্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করেছেন। কারণ এতে জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের এই সিদ্ধান্তে নীরব সম্মতি দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের দেশের রাজনৈতিক পরিসর থেকে অনেকটাই সরিয়ে দিয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। এছাড়াও দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেছেন। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতেও নারী প্রার্থীদের বেশ সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। অথচ গণঅভ্যুত্থানে নারীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে এবাবের নির্বাচনে আগের যেকোনোবারের চেয়ে অধিক নারী প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন, এমনটাই ভাবছিলেন দেশের সাধারণ জনগণ।
এবার নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টিরও বেশি দল একজনও নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি।
জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নারী প্রার্থীরা দিয়েছেন মাত্র ১০৯টি। এটি মোট মনোনয়নপত্রের ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। পর্যালোচনা ও সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র ৭৬ জন নারী। অর্থাৎ নারী প্রার্থীর হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
তবে ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা জাতীয় ঐকমত্য অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ১৩তম সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা, যা ভবিষ্যতে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত করা হয়েছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশ শুধু লঙ্ঘনই করা হয়নি বরং, এবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১২তম সংসদে নারী সদস্য ছিলেন ২০ জন, যা মোট সংসদের ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ—গত চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবার ৫১টি দলের মধ্যে মাত্র সাতটি দল নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ১৫টি আসনে নারী মনোনয়ন দিলেও বৈধতা পেয়েছে ১১টি। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) দিয়েছে ৯ জন নারী প্রার্থী। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ দিয়েছে ৬ জন করে। এছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির নারী প্রার্থী ৫ জন। গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র ৩ জন নারী।
অবাক করার মতো হলেও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন নারী রেখেছে। জুলাই আন্দোলনে নারী নেতৃত্বের যে অনস্বীকার্য অবদান, তা যেন অনেকটাই অবহেলা করা হয়েছে দলটির নারী প্রার্থীদের মনোনয়নে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মাত্র ২ জন নারী মনোনয়ন দিয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, সিপিবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাসদ (বাসদ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, এনপিপি, আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি—প্রত্যেকটি দল মাত্র একজন করে নারী প্রার্থী দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ জন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮ জন), জাতীয় পার্টি (২২৪ জন), গণঅধিকার পরিষদ (১০৪ জন), খেলাফত মজলিস (৯৪ জন) এবং অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীদের মধ্যে একজন নারীও নেই।
ভোটার হিসেবে সংখ্যা প্রায় সমান হলেও নারীরা রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বেশ বঞ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নারী মনোনয়নকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানায় এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করতে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি তোলে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ‘নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রিতু সাত্তার বলেন, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আসন্ন নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হওয়ার অধিকার কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে।
নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অন্যতম কারণ সহিংসতা ও হয়রানি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়ে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম এই পরিস্থিতির জন্য নারীর চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণ সীমিত করতে চাওয়া উগ্র গোষ্ঠীগুলোর উত্থানকে দায়ী করেন।
২০২৫ সালের মে মাসে এসব গোষ্ঠী অন্তর্বর্তী সরকারের নারীসমতা উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং তথাকথিত ‘ইসলামবিরোধী’ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি তোলে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা অনুসরণ এবং সিডো সনদ ও আইসিসিপিআর চুক্তির বাধ্যবাধকতা মানার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও শিক্ষিত বাংলাদেশি নারীরা আমলাতন্ত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৮ জন নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি), ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ৬৩ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ১৪১ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রশাসনে রয়েছেন ১৪ জন সচিব (এর মধ্যে একজন সিনিয়র সচিব), ৬৯ জন অতিরিক্ত সচিব, ১৭৩ জন যুগ্ম সচিব, ৩৯০ জন উপসচিব, ৬৬৮ জন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ৩০৬ জন সহকারী সচিব।
এরপরও নেতৃত্ব পর্যায়ে নারী কর্মকর্তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার ডিসি বানানী বিশ্বাস বলেন, ‘ডিসি হওয়া পুরুষ ও নারী—উভয়ের জন্যই কঠিন। তবে নারী হিসেবে চ্যালেঞ্জ দ্বিগুণ। এজন্য নারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং সমাজের মানসিকতা বদলাতে হবে।’
কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও ফাইজুল ওয়াসিমা নাহাত বলেন, ‘নারী কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে দ্বিগুণ সংগ্রাম করতে হয়। মানুষ এখনো ইউএনওর চেয়ারে নারী দেখতে অভ্যস্ত নয়।’
অন্যদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন তুলনামূলক ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করলে কেউ নারী কর্মকর্তাকে ছোট করে না; বরং সাধারণ মানুষ তাকে উৎসাহ দেয়।’

বয়স বাড়লে ত্বকে ভাঁজ পড়বে, এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু যদি সেই ভাঁজ বিশ কিংবা ত্রিশের কোঠাতেই চোখে পড়তে শুরু করে, তখন তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জানলে অবাক হবেন যে নিত্যদিন ব্যবহার করা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো বা ব্লু-লাইটের
২ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ জানুয়ারি আমরা হারিয়েছি জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিজ্ঞানের এক কিংবদন্তি উইলিয়াম হার্বার্ট ফোজ-কে। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন রোগতত্ত্ববিদ, জনস্বাস্থ্যকর্মী, বিজ্ঞানী এবং টিকা বিশেষজ্ঞ। আজ পর্যন্ত টিকা ও রোগ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে যে একমাত্র প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ পুরোপুরি ন
১ দিন আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর তৃতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়। এবারের পর্বে থাকছে নিউইয়র্কের কুইন্সে মধ্যরাতের আড্ডা আর বিশ্বখ্যাত ‘মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট’-এ কাটানো শিল্প ও বিস্ময়ে ভরা এক দিনের গল্প।
১ দিন আগে
বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং জানিয়েছেন, তিনি আর নতুন কোনো প্লেব্যাক গানের কাজ নেবেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সংগীত থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং আবার নতুন করে শুরু করতে চান বাঙালি এই গায়ক, ফিরতে চান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে।
১ দিন আগে