leadT1ad

ইসিতে বিএনপির একগুচ্ছ অভিযোগ, নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ

তৌফিক হাসান
তৌফিক হাসান

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৫০
বিএনপির দলীয় লোগো ও নির্বাচন কমিশনের লোগো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির অভিযোগের মাত্রাও তত বাড়ছে। একাধিকবার বৈঠক ও চিঠির মাধ্যমে তাঁরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁদের এই অভিযোগ। বিএনপির দাবি, নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রচার শুরু করেছে। কিছু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এতে সহযোগিতা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি বিএনপি। অবশ্য অভিযোগের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দলকে ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তবে যেসব দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। আর পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে যে অভিযোগ ছিল, সেটিও পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

চিঠি দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের নালিশ
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েকটি দলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের স্বাক্ষর রয়েছে।

ইসিকে দেওয়া বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনি প্রচার অব্যাহত রেখেছে। তফশিল অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে এ ধরনের প্রচারণা নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধি এবং আরপিওর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নিজ গ্রাম ও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারতের সফরসূচি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তিনি সেই সফর স্থগিত করেন। অথচ প্রতিপক্ষ দলগুলো আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছে। এটি নির্বাচনি আইনের লঙ্ঘন এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হলো।

কর্মকর্তাদের পক্ষপাত মির্জা ফখরুলের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১৮ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, এসপি ও ওসিরা একটি দলের পক্ষে ন্যাক্কারজনকভাবে কাজ করছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো আমরা তাঁদের গোচরীভূত করেছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের প্রত্যাহার করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আমরা নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছি। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের অনুরোধ করেছি।’

জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডির কপি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধ। এ বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে জানিয়েছি। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল ব্যাপক হারে ভোটার স্থানান্তর করেছে। কোন এলাকা থেকে কত ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, তাঁর বিস্তারিত বিবরণ আমরা চেয়েছি।’

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের বিষয়েও অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি। গত ১৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রথম অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান। সে সময় তিনি বলেন, ‘তিনটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও প্রতীকের নাম প্রথম লাইনে এসে গেছে। ব্যালটে কলাম সংখ্যা এমন করা হয়েছে যেন নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়া যায়। যারা এই কাজটি করেছে, তারা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই করেছে।’

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ দেওয়ার দুই দিন পর ইসিতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা এই কাজের দায়িত্বে ছিল, তাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি বাসায় ২০০ থেকে ৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন ব্যালট গ্রহণ করছে। এভাবে অনেক অনিয়ম হয়েছে।’ তবে বিএনপির অভিযোগের পর পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসি।

চার দলকে ইসির সতর্কবার্তা
বিএনপির পক্ষ থেকে আসা একগুচ্ছ অভিযোগের পর চার দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসি। আজ মঙ্গলবার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রচার চালাচ্ছে। এটি আচরণ বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধির পরিপন্থী। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় আজ শেষ হয়েছে। আগামীকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

Ad 300x250

সম্পর্কিত