leadT1ad

সরকারের ফ্যাসিস্ট হওয়ার পথ বন্ধ করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ৩০
ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা। ছবি: সংগৃহীত

ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনা করবেন, তাঁরা যেন আর কখনো ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ । বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণেই শাসকরা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে এই পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

ভোটের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আলী রীয়াজ জানান, আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি বা এমপি নির্বাচনের ব্যালটটি হবে সাদা। আর গণভোটের ব্যালটটি হবে রঙিন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে চলবে।

আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। গণভোটে জনগণের সম্মতির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়িত হলে সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং যারা এখনো হাসপাতালে ধুঁকছেন, তাঁদের আত্মদানের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, এনজিও ও উন্নয়নকর্মীদের ওপর প্রান্তিক মানুষের বিশেষ আস্থা রয়েছে। তাই গ্রামের সাধারণ মানুষকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে এনজিওগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তবেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের অভিপ্রায় সরাসরি ব্যক্ত করার সুযোগ পাবে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়ার সঞ্চালনায় কর্মাশালায় প্রায় সাড়ে চারশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রতিনিধি অংশ নেন। ব্যুরো জানায়, এনজিওগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০-৬০ লাখ উপকারভোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনজিওগুলো ও ব্যুরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত