জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিবিসির বিশ্লেষণ

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র কি ‘স্বেচ্ছায়’ এই যুদ্ধ বেছে নিল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৫৩
ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসায়েল ও আমেরিকার যৌথ বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধকে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের পরিণতি হতে পারে কল্পনার অতীত।

ইসরায়েল তাদের এই হামলাকে বৈধতা দিতে ‘প্রি-এমপ্টিভ’ (আক্রান্ত হওয়ার আগেই আক্রমণ করা) শব্দটি ব্যবহার করেছে। তবে তথ্যপ্রমাণ বলছে, এটি কোনো আসন্ন হুমকির প্রতিক্রিয়া নয়—যা সাধারণত ‘প্রি-এমপ্টিভ’ শব্দটির মাধ্যমে বোঝানো হয়। বরং এটি একটি ‘স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া যুদ্ধ’।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হিসাব কষে দেখেছে, ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এখন সবচেয়ে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। বছরের শুরুতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ থামাতে খামেনি সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে। সেই দগদগে ক্ষত এখনো শুকায়নি। এছাড়া গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ইরানরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সুতরাং ইরানের এমন নাজুক পরিস্থিতি যে ইসরায়েল-আমেরিকা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইবে না, তা সবাই বোঝে। আবার দেশের মানুষের সরকারবিরোধী মনোভাব অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে খামেনি সরকারের এই মুহূর্তে একটি যুদ্ধে জড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।

সে যাইহোক, আমেরিকা-ইসরায়েল এখন কী বলছে, সেদিকে নজর দেওয়া যাক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয়ই বলেছেন, ইরান তাদের দেশের জন্য হুমকি। ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘বৈশ্বিক বিপদ’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই তাদের কট্টর শত্রু। কিন্তু একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরানের মধ্যকার শক্তির যে বিশাল ব্যবধান, তাতে ‘আত্মরক্ষা’র আইনি যুক্তিটি এখানে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা বোঝা কঠিন।

সম্পর্কিত