leadT1ad

সরকারি নিয়ন্ত্রণে কেমন চলছে বেনজীরের সাভানা রিসোর্ট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গোপালগঞ্জ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৭: ৪৭
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বানানো রিসোর্ট। গোপালগঞ্জের জেলাপ্রশাসকের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ছবি

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পরিবারের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জের ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক’ এখন সম্পূর্ণ সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে ক্রোক হওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় থাকা এই বিনোদন কেন্দ্রটির ইজারা ও রক্ষণাবেক্ষণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।

রিসোর্টটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে বর্তমানে দুটি আলাদা লটে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি লটে পার্কের রাইড, কটেজ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা রয়েছে এবং অন্য লটে ৩৭ একর জায়গার ওপর অবস্থিত ২০টি বড় পুকুর।

পার্কের অংশটি (লট-২) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ববর্তী মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ বর্ধিত হারে নতুন করে ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বছর লট-২ বা পার্ক অংশটি ৭৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

পার্কের অংশটি ইজারা হলেও লট-১ এর ২০টি পুকুর নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। পূর্বের ইজারাদার লোকসানের কারণে এবার টেন্ডারে অংশ নেননি। নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হলে ‘নাসের ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সিডিউল কিনলেও তা জমা দেয়নি। ফলে আগামী ২৮ জুন পুনরায় টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পার্কের বর্তমান ইজারাদার মেসার্স সুরুচি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হীরক রায় জানান, গত বছর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় পুরো রিসোর্ট ইজারা নিয়ে ২০টি পুকুরের কারণে তাকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। সে কারণে এবার তিনি শুধু পার্কের অংশটি ইজারা নিয়েছেন। তবে প্রতিকূল পরিবেশ ও পর্যটক সমাগম কম হওয়ায় পার্কের ব্যবসাও বর্তমানে আশানুরূপ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

২০২৪ সালের মে মাসে আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আসার পর ৭ জুন পার্কটি জেলা প্রশাসন ও দুদকের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসককে এর ‘রিসিভার’ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের তদারকি কমিটির সরাসরি নজরদারিতে ইজারাদারের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে।

বেনজীর আহমেদ ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এ সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্ক। রিসোর্ট এবং অন্যান্য স্থাপনা মিলে ওই এলাকায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমি বেনজীরের দখলে। অভিযোগ রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে এই পার্কটি করেন বেনজির আহমেদ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত