leadT1ad

টেকনাফ সীমান্তে বাড়ছে আতঙ্ক, গুলিবিদ্ধ শিশু ঢাকায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৩
গোলা ও মর্টার শেল আতঙ্কে নাফ নদীতে মাছ শিকারে যাচ্ছেন না জেলেরা। স্ট্রিম ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আফনানকে ঢাকায় আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় ৯ বছরের হুজাইফা। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে হুজাইফাকে ঢাকায় আনা হয়। তাঁর সঙ্গে পরিবারের তিনজন ও এক বিজিবি সদস্য রয়েছেন।

হুজাইফার চাচা শওকত আলী বলেন, সোমবার চমেক হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করেও ঝুঁকি থাকায় সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চমেক আইসিইউ বিভাগের প্রধান হারুনুর রশিদ বলেন, গুলিটি হুজাইফার মস্তিষ্কের পেছনের অংশে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালির খুব কাছাকাছি আটকে রয়েছে। এ অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে। মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ কমাতে হুজাইফার মাথার খুলি আংশিক খুলে রাখা হয়েছে।

রাখাইন সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় ৯ বছরের হুজাইফা আফনান। ছবি: সংগৃহীত
রাখাইন সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত হয় ৯ বছরের হুজাইফা আফনান। ছবি: সংগৃহীত

গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইনে আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দেশটির জান্তা বাহিনী, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা গ্রুপগুলো। ত্রিমুখী সংঘাতের প্রভাব সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের টেকনাফে ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি বা গোলায় টেকনাফে শিশু হুজাইফা ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে পা উড়ে গেছে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক বাংলাদেশির।

বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের ঠিক উল্টো পাশে মংডু শহর দখলের জন্য বিদ্রোহীরা ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। এবারের সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ছোট ছোট গ্রুপ যুক্ত হওয়ায় ওই এলাকার উত্তেজনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে গতকাল মঙ্গলবার তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে শিশু হুজাইফা আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে তাঁকে।

গুলি-মর্টার শেলে আতঙ্ক, কর্মহীন মানুষ

রাখাইন থেকে প্রতিনিয়ত গোলা, মর্টার শেল এসে পড়ছে টেকনাফে। আতঙ্কে কৃষক, জেলে ও মৎস্যজীবীরা কাজে যেতে পারছেন না। সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের জীবিকা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। টেকনাফ সীমান্তের কৃষক মনির আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়ে জমিতে যেতে পারছি না। নাফ নদীতে মাছ ধরাও ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জমির উদ্দিন বলেন, ‘গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি।’

স্থানীয় সমাজকর্মী সুলতান মাহমুদ বলেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অসংখ্য চিংড়ি ঘের, চাষের জমি ও লবণের মাঠ রয়েছে। কিন্তু গোলাগুলির কারণে সেখানে মানুষ যেতে পারছেন না। রোহিঙ্গা সংকট, জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত মিলিয়ে সীমান্তবাসীর জীবন চরম অনিশ্চিত।

গত ১১ জানুয়ারি আরাকান আর্মির হামলার মুখে পালিয়ে আসা ৫৩ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ সীমান্তে আটক করে বিজিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়।

সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি। স্ট্রিম ছবি
সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি। স্ট্রিম ছবি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। টহল জোরদারের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে এবং সীমান্তবাসীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত