জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইউনিফর্মধারী হলেও মাফ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩৩
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রীয় পদে থেকে বা ইউনিফর্ম পরে গুম ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যে যত বড় অফিসার বা ইউনিফর্মধারী হোক না কেন, যদি অপরাধ করে—তাঁকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। আইনের কাছে তাঁকে জবাবদিহি করতেই হবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জাতির কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্তি দেওয়া। গত ১৭ বছরের ভয়াবহ অন্ধকার রাজত্বের অবসান ঘটানোর স্বার্থেই আসামিদের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাটিই দিতে চাই।’

চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, গত সরকারের আমলে গুমকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে যেকোনো মানুষকে নাই করে দেওয়া হতো এবং এর জন্য কোনো জবাবদিহি করতে হতো না। জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষীর জবানবন্দির বিষয়বস্তু তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, গোপন বন্দিশালায় বা আয়নাঘরে বন্দিদের কী অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে, তার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে সাক্ষ্যে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কীভাবে বাসা থেকে উঠিয়ে নেওয়ার পর আটকের কথা অস্বীকার করা হতো, কীভাবে জমটুপি পরিয়ে রাখা হতো সাক্ষী তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। গোপন বন্দিশালায় দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝা যেত না। অসুস্থ হলে কী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বা ওষুধের গায়ে কী লেখা থাকত, তা জানারও সুযোগ ছিল না বন্দিদের।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আট বছর পর্যন্ত আটকে রাখার নজির রয়েছে। যারা দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ বা বাকস্বাধীনতার জন্য গুম হয়েছিলেন, বিচার না হলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে না। তাই গুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে এই বিচার প্রক্রিয়া একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

সম্পর্কিত