২৫ দিনের ছুটিতে জাহাঙ্গীরনগর

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: ছুটিতে মাঠ ছাড়লেও অনলাইনে সরব শিক্ষার্থীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ২৩: ৫৩
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে ২৫ দিনের ছুটিতে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন লম্বা ছুটিতে স্তিমিত হতে দিতে চান না শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এখন অনলাইনে সরব থেকে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের নির্জন সড়কে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালায় এক বহিরাগত যুবক। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আন্দোলনকে সংগঠিত করতে শিক্ষার্থীরা ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ এবং ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে দুটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। ২১ মে থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় সশরীরে আন্দোলন আপাতত বন্ধ থাকলেও ভার্চুয়ালি প্রচারণা সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই ছুটির সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা দাবি নিয়ে তাঁরা জনমত তৈরি করবেন।

‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর প্রতিনিধি লামিশা জামান বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কারণে আমরা এতদিন অনলাইনে প্রচারণা চালাতে পারিনি। এই ছুটিতে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

অন্যদিকে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’-এর জাইবা জাফরিন জানান, ক্যাম্পাসে সীমানাপ্রাচীরের অভাব ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনলাইনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর আশঙ্কা, ছুটির কারণে অপরাধী শনাক্তের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে।

ছুটি শেষে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ চালিয়ে যাব। আশা করি এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অপরাধী অবশ্যই শনাক্ত হবে। কিন্তু যদি সেটি না ঘটে, তাহলে আমরা এটিকে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করব এবং সে ক্ষেত্রে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, লম্বা ছুটিতে শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় আন্দোলনের গতি কমতে পারে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এখন লোকবল নেই। দীর্ঘ বিরতিতে যেকোনো আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা হারানোর একটা ভয় থাকে।’

তবে আন্দোলনকারীরা এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ১৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিনই নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পড়রিকল্পনা রয়েছে। যদি এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হয় বা অপরাধী শনাক্ত না হয়, তবে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে না পারায় তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পুলিশও ওই যুবককে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। তবে এখনো কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সম্পর্কিত