leadT1ad

মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় পেল জিআই সনদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৮: ৫৮
প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের হাজারী গুড় জিআই সনদ (ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি) পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) সোমবার (১৫ জুন) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেনের সই করা জিআই (আর) ফরম-১ এর নিবন্ধন সনদে উল্লেখ করা হয়, মানিকগঞ্জের ‘হাজারী গুড়’ পণ্যটি জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত হাজারী গুড় অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে পণ্যটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হাজারী গুড়ের স্বাদ, গুণগত মান ও বিশেষ উৎপাদন পদ্ধতির স্বীকৃতি এই জিআই সনদ। এর ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জিআই সনদ অর্জনের ফলে হাজারী গুড়ের ব্র্যান্ডমূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরদের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল করতে এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত হাজারী গুড় অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত হাজারী গুড় অনন্য স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

ঝিটকার বাসিন্দারা জানান, তাদের গ্রামে মিনহাজ উদ্দিন হাজারী নামে দক্ষ গাছি ছিলেন। প্রায় ২০০ বছর আগে দক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সুস্বাদু এই গুড় তৈরি করেন। পরে তাঁর নামেই এই গুড়ের নামকরণ হয়। গুড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য লোভনীয় স্বাদ ও সুগন্ধ। দুই হাতে গুড়ো করে ফুঁ দিলে ছাতুর মতো বাতাসে উড়ে যায়।

কথিত আছে হাজারী গুড় ইংল্যান্ডের প্রয়াত রানী এলিজাবেথকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। তিনি গুড়ের স্বাদ আস্বাদন করে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। চার পুরুষ ধরে গুড় উৎপাদন করে আসা ৬৮ বছর বয়সী গাছি আজমত আলি হাজারী জানান, ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই গুড় উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য সময়। আগের দিন বিকেলে গাছ কেটে হাড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে (সূর্য উঠার আগে) রস সংগ্রহ করে পরিষ্কার করে ছেঁকে মাটির তৈরি (জালা) পাত্রে চুলায় (বাইনে) জ্বালিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় হাজারী গুড়। মিষ্টি ও টলটলে রস ছাড়া হাজারী গুড় হয় না। প্রতিকেজি গুড় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত