হোসেন জিল্লুর রহমানের সাক্ষাৎকার
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর হতে চলেছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতের যাত্রা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ঢাকা স্ট্রিম-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।
হোসেন জিল্লুর রহমান

ঢাকা স্ট্রিম: শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যে পরিবর্তন এসেছে, তাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? জনগণের বিজয় এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমার দৃষ্টিতে, জনগণ যেহেতু শেখ হাসিনার মতো একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরাতে পেরেছিল—এটা তাদের এক ধরনের বিজয়। তবে স্বল্পমেয়াদে হলেও বলা যায়, এই সংস্কার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় জনগণ কার্যত অনুপস্থিত ছিল। সরকারের মনে হয়েছে, রাজনৈতিক দল ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড় নেই। সমাজকে তারা গৌণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এটি একটি ভুল ধারণা।
ঢাকা স্ট্রিম: এই পরিবর্তনে তরুণদের একটি বিশাল ভূমিকা ছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর পর সেই তারুণ্যের শক্তিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? তাদের জাগরণ কি কোনো ইতিবাচক পথে এগোতে পেরেছে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: জুলাই-অগাস্টে যে পরিবর্তন ঘটেছিল, সেটিতে তরুণদের শক্তি ছিল একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই তারুণ্যের শক্তির দেড় বছরের বিবর্তন কিছুটা হতাশাজনক হয়ে গেছে। কারণ তারা নতুন নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করতে পারেনি, নতুন ধরনের রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটাতে পারেনি। এখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও দায় আছে, কারণ তারাও তরুণদের শক্তির ওপর বেশি জোর দিয়েছিল। কিন্তু সেই তরুণশক্তিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি।
আমার মনে হয়, এই তারুণ্যের শক্তি দীর্ঘমেয়াদে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এই এই সময়ে পরিচিত মুখগুলো থেকে তেমন কোনো সংগঠিত শক্তির আবির্ভাব ঘটেনি, তবে সমাজের ভেতরে তরুণশক্তির জাগরণ ঘটেছে। এটিকে মাথায় রাখতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই শক্তি আমাদের আশা পূরণ করবে কি না—সেটা অনিশ্চিত। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, এই এনার্জি সমাজে রয়ে গেছে। সঠিক পথে না গেলে, এটিই ভবিষ্যতে অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দল, সামাজিক চিন্তাশীল নেতৃত্ব, এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—সবাইকে এই তরুণশক্তিকে সঠিক পথে লালন করার দায়িত্ব নিতে হবে।
এই কারণেই আমি মনে করি, নির্বাচন কোনো শেষ মাইলফলক নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচন শেষ হলেও জনগণ খুব সজাগ থাকবে। তাদের চাহিদা যদি পূরণ না হয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে, এই শক্তি আবারও বিস্ফোরিত হতে পারে।
ঢাকা স্ট্রিম: দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী? আপনি একটি ‘এমপ্লয়মেন্ট ইমার্জেন্সি’ বা কর্মসংস্থানে জরুরি অবস্থার কথা বলেছেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অবস্থা ভয়াবহ। আমি একটি সংস্থার (পিপ্স) মাধ্যমে সার্ভে করেছি, যেখানে দেখা গেছে এক ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ইমার্জেন্সি তৈরি হয়েছে। সার্বিক কর্মসংস্থানের অবস্থা খারাপ এবং এর প্রবণতা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারত্ব, ছদ্ম বেকারত্ব, নারীদের কর্মসংস্থান—সবই বিপরীত মুখে হাঁটছে। অথচ কর্মসংস্থান বিষয়টি যথাযথ প্রাধান্য পায়নি।
আমার কাছে এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, তরুণদের মধ্যে কোটার অসন্তোষ থেকে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, কিন্তু সার্বিক কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো জাতীয় অগ্রাধিকার দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তারা হয়তো ভাবছে, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, প্রোকিউরমেন্ট রিফর্ম ইত্যাদি করলেই ফল আসবে। কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানের জন্য আরও গভীর চিন্তাভাবনা দরকার ছিল।
ঢাকা স্ট্রিম: এই সংকটের দায় কার? এর পেছনে পূর্ববর্তী সরকারের অর্থনৈতিক মডেলের ভূমিকা কতটুকু?
হোসেন জিল্লুর রহমান: এই ব্যর্থতা শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নয়। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, নাগরিক সমাজ—সবার ঘাটতি আছে। শেখ হাসিনার সরকার পড়ে যাওয়ার পর আলোচনা হয়েছে মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসন, নির্যাতন, দমন-পীড়ন নিয়ে। কিন্তু ওই সময়ে যে অর্থনৈতিক মডেল চালু ছিল, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
সেই অর্থনৈতিক মডেলের বৈশিষ্ট্য ছিল দেনা-নির্ভর উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-নির্ভর কৌশল, এমনকি বৈধ দুর্নীতির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি। এর ভেতরে কর্মসংস্থান, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ—এসব অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছিল।
পরে বৈশ্বিক সংকট যেমন—কোভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি—এসব পরিস্থিতি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এর আগেই যে অর্থনৈতিক মডেল ১৫ বছর ধরে চলছিল, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ ছিল। এখনো সেই বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে নতুন কোনো মডেল গড়ে ওঠেনি।
ঢাকা স্ট্রিম: তাহলে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল বা নতুন প্রবৃদ্ধির চালক নিয়ে আলোচনা কেন হচ্ছে না? মূল ঘাটতিটা কোথায়?
হোসেন জিল্লুর রহমান: প্রশ্ন হলো—কোন মডেল কর্মসংস্থান বান্ধব, নারী ও তরুণদের জন্য সহায়ক, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে? গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের বাইরে আমাদের প্রবৃদ্ধির নতুন চালক কোথা থেকে আসবে? এই এক বছরে আমরা এসব প্রশ্ন নিয়ে কোনো বড় আলোচনা দেখিনি।
আমাদের মনোযোগের ৯০ শতাংশ চলে গেছে দুটি বিষয়ে—একটি হলো সংস্কার, যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা গন্তব্য ছিল না; আরেকটি হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। কিন্তু কেবল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো জরুরি।
এখানে কর্মসংস্থান, বৈষম্য হ্রাস, নতুন প্রবৃদ্ধির চালক তৈরি—এসব বিষয়ে ঘাটতি স্পষ্ট। নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সমাজ, এমনকি সংস্কার আলোচনার মধ্যেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি। সংস্কার নিয়ে সীমিত পরিসরে ধারণা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমান্তরালভাবে অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের নতুন ধারণা তুলে ধরা হয়নি। সুতরাং আমি মনে করি, শেখ হাসিনার সরকারের কর্তৃত্ববাদ নিয়ে যেমন আলোচনার ঘাটতি আছে, তেমনি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিকল্প উন্নয়ন মডেল নিয়েও দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিম: সংস্কার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকার নিয়ে আলোচনা কতটা অনুপস্থিত বলে আপনি মনে করেন?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমাদের যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তারা প্রধানত কর্তৃত্ববাদী শাসনের ওপর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার দিকে। প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং তার প্রভাবের ওপর অতি কেন্দ্রিক মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি সংসদীয় এলাকার এমপির ক্ষমতা ও ভূমিকার পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। এমপি রাজনীতি এখনো প্রধানমন্ত্রীর আদেশের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে প্রতিটি অঞ্চলে এমপির কথায় সবকিছু চলে। কিন্তু এই এমপি রাজনীতি থেকে উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

স্থানীয় সরকার এবং বিকেন্দ্রীকরণের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। শুধু স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা নয়, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। আমাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তৃণমূল স্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া হয় না। এর ফলে দায়িত্ব পালন কার্যকরভাবে সম্ভব হয় না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় কেন্দ্রিক দায়িত্ব চলে আসে, যা একটি অকার্যকর ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।
ঢাকা স্ট্রিম: প্রাতিষ্ঠানিক বা আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন কি আপনার চোখে পড়েছে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমলাতান্ত্রিক শাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলী কার্যকরভাবে মানা হয় না। ব্যক্তিগত ইচ্ছা নিয়মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। চেইন অব কমান্ড কার্যকর থাকে না; উদাহরণস্বরূপ, ডিসি বা ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে, পদোন্নতি বা প্রমোশন প্রায়ই স্বার্থের ভিত্তিতে হয়, যা অকার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত, যার ফলে শক্তি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিম: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? সামনের দিনগুলোতে করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন?
হোসেন জিল্লুর রহমান: এই ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় নয়; রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায় রয়েছে। সংস্কারের প্রক্রিয়াটি এখনো গন্তব্যহীন। এটি দ্রুত সমাপ্ত করা উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সমাজকে স্বীকার করতে হবে, ‘আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু পুরোপুরি পারিনি।’ এই সরল এবং প্রাঞ্জল স্বীকারোক্তি দিয়ে সংস্কারের ঝাঁপিটি সমাপ্ত করতে হবে।
অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলী স্পষ্ট করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা, অনুপস্থিতি এবং কার্যকরী ইমেজ পুনরুদ্ধার করা অত্যাবশ্যক। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কোর্স করেকশন এবং টিম পুনর্গঠন জরুরি।
সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল মুখের কথায় হবে না। নির্বাচনী পরিবেশ, যন্ত্রপাতি, খেলোয়াড় এবং ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলিকে মনে করিয়ে দিতে হবে, তাদের মুখোমুখি অবস্থান কি জনগণের জন্য, নাকি স্বার্থের লড়াই?
ঢাকা স্ট্রিম: সবশেষে, এই পরিবর্তনে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা কী হতে পারে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: নাগরিক সমাজ এবং পেশাজীবী সমাজকে উদ্যোগী হতে হবে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের জন্য অর্থনৈতিক নতুন মডেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারে। শুধু কর্তৃত্ববাদী শাসন শেষ করা নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালককে সহায়তা করতে হবে। এই ছয় মাসের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
সার্বিকভাবে, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী সমাজকে একটি উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পুরো দায় চাপিয়ে না দিয়ে, তারা দেশের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে পারে। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।
হোসেন জিল্লুর রহমান: ধন্যবাদ ঢাকা স্ট্রিমকে এবং ঢাকা স্ট্রিমের পাঠকদেরও।

ঢাকা স্ট্রিম: শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যে পরিবর্তন এসেছে, তাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? জনগণের বিজয় এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমার দৃষ্টিতে, জনগণ যেহেতু শেখ হাসিনার মতো একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরাতে পেরেছিল—এটা তাদের এক ধরনের বিজয়। তবে স্বল্পমেয়াদে হলেও বলা যায়, এই সংস্কার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় জনগণ কার্যত অনুপস্থিত ছিল। সরকারের মনে হয়েছে, রাজনৈতিক দল ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড় নেই। সমাজকে তারা গৌণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এটি একটি ভুল ধারণা।
ঢাকা স্ট্রিম: এই পরিবর্তনে তরুণদের একটি বিশাল ভূমিকা ছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর পর সেই তারুণ্যের শক্তিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? তাদের জাগরণ কি কোনো ইতিবাচক পথে এগোতে পেরেছে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: জুলাই-অগাস্টে যে পরিবর্তন ঘটেছিল, সেটিতে তরুণদের শক্তি ছিল একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই তারুণ্যের শক্তির দেড় বছরের বিবর্তন কিছুটা হতাশাজনক হয়ে গেছে। কারণ তারা নতুন নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করতে পারেনি, নতুন ধরনের রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটাতে পারেনি। এখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও দায় আছে, কারণ তারাও তরুণদের শক্তির ওপর বেশি জোর দিয়েছিল। কিন্তু সেই তরুণশক্তিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি।
আমার মনে হয়, এই তারুণ্যের শক্তি দীর্ঘমেয়াদে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এই এই সময়ে পরিচিত মুখগুলো থেকে তেমন কোনো সংগঠিত শক্তির আবির্ভাব ঘটেনি, তবে সমাজের ভেতরে তরুণশক্তির জাগরণ ঘটেছে। এটিকে মাথায় রাখতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই শক্তি আমাদের আশা পূরণ করবে কি না—সেটা অনিশ্চিত। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, এই এনার্জি সমাজে রয়ে গেছে। সঠিক পথে না গেলে, এটিই ভবিষ্যতে অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দল, সামাজিক চিন্তাশীল নেতৃত্ব, এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—সবাইকে এই তরুণশক্তিকে সঠিক পথে লালন করার দায়িত্ব নিতে হবে।
এই কারণেই আমি মনে করি, নির্বাচন কোনো শেষ মাইলফলক নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচন শেষ হলেও জনগণ খুব সজাগ থাকবে। তাদের চাহিদা যদি পূরণ না হয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে, এই শক্তি আবারও বিস্ফোরিত হতে পারে।
ঢাকা স্ট্রিম: দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী? আপনি একটি ‘এমপ্লয়মেন্ট ইমার্জেন্সি’ বা কর্মসংস্থানে জরুরি অবস্থার কথা বলেছেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অবস্থা ভয়াবহ। আমি একটি সংস্থার (পিপ্স) মাধ্যমে সার্ভে করেছি, যেখানে দেখা গেছে এক ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ইমার্জেন্সি তৈরি হয়েছে। সার্বিক কর্মসংস্থানের অবস্থা খারাপ এবং এর প্রবণতা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারত্ব, ছদ্ম বেকারত্ব, নারীদের কর্মসংস্থান—সবই বিপরীত মুখে হাঁটছে। অথচ কর্মসংস্থান বিষয়টি যথাযথ প্রাধান্য পায়নি।
আমার কাছে এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, তরুণদের মধ্যে কোটার অসন্তোষ থেকে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, কিন্তু সার্বিক কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো জাতীয় অগ্রাধিকার দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তারা হয়তো ভাবছে, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, প্রোকিউরমেন্ট রিফর্ম ইত্যাদি করলেই ফল আসবে। কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানের জন্য আরও গভীর চিন্তাভাবনা দরকার ছিল।
ঢাকা স্ট্রিম: এই সংকটের দায় কার? এর পেছনে পূর্ববর্তী সরকারের অর্থনৈতিক মডেলের ভূমিকা কতটুকু?
হোসেন জিল্লুর রহমান: এই ব্যর্থতা শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নয়। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, নাগরিক সমাজ—সবার ঘাটতি আছে। শেখ হাসিনার সরকার পড়ে যাওয়ার পর আলোচনা হয়েছে মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসন, নির্যাতন, দমন-পীড়ন নিয়ে। কিন্তু ওই সময়ে যে অর্থনৈতিক মডেল চালু ছিল, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
সেই অর্থনৈতিক মডেলের বৈশিষ্ট্য ছিল দেনা-নির্ভর উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-নির্ভর কৌশল, এমনকি বৈধ দুর্নীতির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি। এর ভেতরে কর্মসংস্থান, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ—এসব অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছিল।
পরে বৈশ্বিক সংকট যেমন—কোভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি—এসব পরিস্থিতি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এর আগেই যে অর্থনৈতিক মডেল ১৫ বছর ধরে চলছিল, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ ছিল। এখনো সেই বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে নতুন কোনো মডেল গড়ে ওঠেনি।
ঢাকা স্ট্রিম: তাহলে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল বা নতুন প্রবৃদ্ধির চালক নিয়ে আলোচনা কেন হচ্ছে না? মূল ঘাটতিটা কোথায়?
হোসেন জিল্লুর রহমান: প্রশ্ন হলো—কোন মডেল কর্মসংস্থান বান্ধব, নারী ও তরুণদের জন্য সহায়ক, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে? গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের বাইরে আমাদের প্রবৃদ্ধির নতুন চালক কোথা থেকে আসবে? এই এক বছরে আমরা এসব প্রশ্ন নিয়ে কোনো বড় আলোচনা দেখিনি।
আমাদের মনোযোগের ৯০ শতাংশ চলে গেছে দুটি বিষয়ে—একটি হলো সংস্কার, যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা গন্তব্য ছিল না; আরেকটি হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। কিন্তু কেবল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো জরুরি।
এখানে কর্মসংস্থান, বৈষম্য হ্রাস, নতুন প্রবৃদ্ধির চালক তৈরি—এসব বিষয়ে ঘাটতি স্পষ্ট। নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সমাজ, এমনকি সংস্কার আলোচনার মধ্যেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি। সংস্কার নিয়ে সীমিত পরিসরে ধারণা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমান্তরালভাবে অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের নতুন ধারণা তুলে ধরা হয়নি। সুতরাং আমি মনে করি, শেখ হাসিনার সরকারের কর্তৃত্ববাদ নিয়ে যেমন আলোচনার ঘাটতি আছে, তেমনি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিকল্প উন্নয়ন মডেল নিয়েও দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিম: সংস্কার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকার নিয়ে আলোচনা কতটা অনুপস্থিত বলে আপনি মনে করেন?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমাদের যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তারা প্রধানত কর্তৃত্ববাদী শাসনের ওপর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার দিকে। প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং তার প্রভাবের ওপর অতি কেন্দ্রিক মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি সংসদীয় এলাকার এমপির ক্ষমতা ও ভূমিকার পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। এমপি রাজনীতি এখনো প্রধানমন্ত্রীর আদেশের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে প্রতিটি অঞ্চলে এমপির কথায় সবকিছু চলে। কিন্তু এই এমপি রাজনীতি থেকে উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

স্থানীয় সরকার এবং বিকেন্দ্রীকরণের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। শুধু স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা নয়, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। আমাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তৃণমূল স্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া হয় না। এর ফলে দায়িত্ব পালন কার্যকরভাবে সম্ভব হয় না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় কেন্দ্রিক দায়িত্ব চলে আসে, যা একটি অকার্যকর ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।
ঢাকা স্ট্রিম: প্রাতিষ্ঠানিক বা আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন কি আপনার চোখে পড়েছে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: আমলাতান্ত্রিক শাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলী কার্যকরভাবে মানা হয় না। ব্যক্তিগত ইচ্ছা নিয়মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। চেইন অব কমান্ড কার্যকর থাকে না; উদাহরণস্বরূপ, ডিসি বা ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে, পদোন্নতি বা প্রমোশন প্রায়ই স্বার্থের ভিত্তিতে হয়, যা অকার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত, যার ফলে শক্তি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ঢাকা স্ট্রিম: এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? সামনের দিনগুলোতে করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন?
হোসেন জিল্লুর রহমান: এই ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় নয়; রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায় রয়েছে। সংস্কারের প্রক্রিয়াটি এখনো গন্তব্যহীন। এটি দ্রুত সমাপ্ত করা উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সমাজকে স্বীকার করতে হবে, ‘আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু পুরোপুরি পারিনি।’ এই সরল এবং প্রাঞ্জল স্বীকারোক্তি দিয়ে সংস্কারের ঝাঁপিটি সমাপ্ত করতে হবে।
অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলী স্পষ্ট করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা, অনুপস্থিতি এবং কার্যকরী ইমেজ পুনরুদ্ধার করা অত্যাবশ্যক। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কোর্স করেকশন এবং টিম পুনর্গঠন জরুরি।
সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল মুখের কথায় হবে না। নির্বাচনী পরিবেশ, যন্ত্রপাতি, খেলোয়াড় এবং ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলিকে মনে করিয়ে দিতে হবে, তাদের মুখোমুখি অবস্থান কি জনগণের জন্য, নাকি স্বার্থের লড়াই?
ঢাকা স্ট্রিম: সবশেষে, এই পরিবর্তনে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা কী হতে পারে?
হোসেন জিল্লুর রহমান: নাগরিক সমাজ এবং পেশাজীবী সমাজকে উদ্যোগী হতে হবে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের জন্য অর্থনৈতিক নতুন মডেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারে। শুধু কর্তৃত্ববাদী শাসন শেষ করা নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালককে সহায়তা করতে হবে। এই ছয় মাসের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
সার্বিকভাবে, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী সমাজকে একটি উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পুরো দায় চাপিয়ে না দিয়ে, তারা দেশের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে পারে। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য।
ঢাকা স্ট্রিম: আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।
হোসেন জিল্লুর রহমান: ধন্যবাদ ঢাকা স্ট্রিমকে এবং ঢাকা স্ট্রিমের পাঠকদেরও।

পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা ইরানের অস্তিত্বের সবথেকে বড় হুমকি চিহ্নিত করতে পারছেন না। এই হুমকি খোদ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজের সন্তানেরা।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে কেমন করবেন তারেক রহমান? ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হন তিনি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে মূলত তিনিই দল পরিচালনা করেছেন।
১ দিন আগে
দুই যুগ—শুনে মনে হয় কত যে দীর্ঘ পথ, কত যে ক্লান্তি, কত যে সংগ্রাম! কিন্তু না, জাহাঙ্গীরনগর শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, প্রেয়সী বিচ্ছেদের মতো এক প্রগাঢ় বেদনা। ২০০২ সাল, ৩১ ব্যাচের পরিচয়ে জাহাঙ্গীরনগরে প্রথম পদার্পণ আমার।
২ দিন আগে
১২ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) দিবস। দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬ বছরে পদার্পণ করল। স্বাধীনতার প্রায় সমবয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয় ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর নানা পরিবর্তন এসেছে। সেসব নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
২ দিন আগে