ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ

পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এসব হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ, পুলিশ ও সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতার বেশিরভাগের জন্য দায়ী জিহাদি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তানি তালিবান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো।
কাবুলকে দায়ী করে ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান তালিবান তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত পাকিস্তানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করছে।
কাবুল পাল্টা অভিযোগ করে বলছে, টিটিপি বিদ্রোহ পাকিস্তানের নিজস্ব সমস্যা।
উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগান তালেবান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কাবুল যদি সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় তবে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে আবার সংলাপ শুরু করতে কাজ করা উচিত।
ইসলামাবাদের উচিত বাণিজ্য পুনরায় চালু করে কাবুলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কার্যকর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাতে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগগুলো সমাধান করা এবং সামরিক বাহিনী ও প্রাদেশিক পুলিশের মধ্যে জরুরি সমন্বয় বাড়ানো। পাশাপাশি পুলিশকে জঙ্গিবিরোধী সক্ষম করে গড়ে তোলা।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গি হামলা বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে তাঁরা পাকিস্তানি তালেবানকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে। আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবানের জাতিগত ও আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে।
আফগান তালেবান ও ভারতের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইসলামাবাদ বলছে, এ বিষয়ে কাবুল নয়া দিল্লির সঙ্গে যোগসাজশ করছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে আফগান তালেবান বলছে টিটিপি দমন করা পুরোপুরি পাকিস্তানের দায়িত্ব।
ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে আসায় ইসলামাবাদ কূটনীতি থেকে কঠোর অবস্থানে গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গি হামলায় তাদের ডজনখানেক সেনা নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সশস্ত্র জবাব দেয়। ওই মাসে পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনীর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ আরও গুরুতর আকার নিতে পারত যদি বাইরের মধ্যস্থতা না হতো।
কাতার ও তুরস্কের উদ্যোগে আলোচনায় কাবুল ও ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যদিও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। তবে নভেম্বর থেকে আলোচনা থমকে আছে এবং সামনে কীভাবে এগোনো হবে সে বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। জঙ্গি হামলা চলতে থাকায় ইসলামাবাদ সতর্ক করেছে যে তাঁরা সীমান্তের ওপারে হামলা চালাবে। এতে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
ইসলামাবাদ অন্যভাবেও কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁরা সীমান্ত বন্ধ করে ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ রেখে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাকিস্তানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের প্রতিও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হাজার হাজার শরণার্থীকে দেশ থেকে বিতাড়ন করেছে। এদের মধ্যে নারী, কন্যাশিশু, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরাও রয়েছেন। এখন পাকিস্তানে থাকতে চাইলে এমনকি জাতিসংঘের শরণার্থী মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও যেকোনো আফগান নাগরিককে ভিসা নিতে হচ্ছে।
তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে শুধু আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশই একমাত্র সমস্যা নয়। শক্তিশালী সেনাবাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারণ প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনী তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু সেনা ও পুলিশের সমন্বয়হীনতা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে দুর্বল করেছে। রাজনৈতিক বিভক্তি ও বাধা তৈরি করছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার সরকার (প্রাদেশিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ) পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের হাতে, যার নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি। ইমরান খানের দল মনে করে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর হাতে থাকা উচিত নয়। তারা আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের কঠোর নীতিও সমর্থন করে না।
ইসলামাবাদ জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে আছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তায় একমত হলেও তাঁরা মনে করে, সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়েছে। প্রদেশের মানুষ টিটিপির হাত থেকে তাঁদের রক্ষা করতে না পারায় সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। আবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কৌশলেও বিরক্ত। যেমন: ব্যাপক উচ্ছেদ যা জীবন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই ব্যাপক জঙ্গি তৎপরতার সহজ কোনো সমাধান নেই। তবে শুরুটা করা যেতে পারে সেনাবাহিনী ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। পাশাপাশি ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে। স্থানীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাসিন্দাদের বিশেষ করে নারীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিতে হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক তদন্ত ও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম, ভালোভাবে প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনী যারা বেসামরিক ক্ষতি এড়াতে সচেষ্ট থাকবে এবং জঙ্গি তৎপরতা দমনে বেশি কার্যকর হবে।
আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা কমানো যাতে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে। টিটিপির হামলায় ইসলামাবাদের ক্ষোভ যৌক্তিক। কাবুলের উচিত সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি করে জঙ্গি হামলা ঠেকানো। অন্যদিকে, কাবুলের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে পাকিস্তানের উচিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। এতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার অর্থনীতি, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও কর্মজীবীদের আয় যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বাণিজ্য পুনরায় চালু করলে পাকিস্তানি নাগরিকদের পাশাপাশি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল আফগানরাও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
এই মুহূর্তে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন সংলাপের সম্ভাবনা কম। কিন্তু লড়াই কোনো সমাধান নয়। বরং কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসে অন্তত নিজেদের সীমারেখা একে অপরকে জানাতে পারে দুই দেশ। এমন আলোচনায় উভয় পক্ষের ধৈর্য প্রয়োজন হবে। তবে বিকল্প হিসেবে আবার সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়া আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এসব হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ, পুলিশ ও সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতার বেশিরভাগের জন্য দায়ী জিহাদি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তানি তালিবান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো।
কাবুলকে দায়ী করে ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান তালিবান তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত পাকিস্তানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করছে।
কাবুল পাল্টা অভিযোগ করে বলছে, টিটিপি বিদ্রোহ পাকিস্তানের নিজস্ব সমস্যা।
উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগান তালেবান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কাবুল যদি সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় তবে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে আবার সংলাপ শুরু করতে কাজ করা উচিত।
ইসলামাবাদের উচিত বাণিজ্য পুনরায় চালু করে কাবুলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কার্যকর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাতে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগগুলো সমাধান করা এবং সামরিক বাহিনী ও প্রাদেশিক পুলিশের মধ্যে জরুরি সমন্বয় বাড়ানো। পাশাপাশি পুলিশকে জঙ্গিবিরোধী সক্ষম করে গড়ে তোলা।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গি হামলা বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে তাঁরা পাকিস্তানি তালেবানকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে। আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবানের জাতিগত ও আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে।
আফগান তালেবান ও ভারতের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইসলামাবাদ বলছে, এ বিষয়ে কাবুল নয়া দিল্লির সঙ্গে যোগসাজশ করছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে আফগান তালেবান বলছে টিটিপি দমন করা পুরোপুরি পাকিস্তানের দায়িত্ব।
ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে আসায় ইসলামাবাদ কূটনীতি থেকে কঠোর অবস্থানে গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গি হামলায় তাদের ডজনখানেক সেনা নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সশস্ত্র জবাব দেয়। ওই মাসে পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনীর পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ আরও গুরুতর আকার নিতে পারত যদি বাইরের মধ্যস্থতা না হতো।
কাতার ও তুরস্কের উদ্যোগে আলোচনায় কাবুল ও ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যদিও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। তবে নভেম্বর থেকে আলোচনা থমকে আছে এবং সামনে কীভাবে এগোনো হবে সে বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। জঙ্গি হামলা চলতে থাকায় ইসলামাবাদ সতর্ক করেছে যে তাঁরা সীমান্তের ওপারে হামলা চালাবে। এতে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।
ইসলামাবাদ অন্যভাবেও কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁরা সীমান্ত বন্ধ করে ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ রেখে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাকিস্তানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের প্রতিও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হাজার হাজার শরণার্থীকে দেশ থেকে বিতাড়ন করেছে। এদের মধ্যে নারী, কন্যাশিশু, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরাও রয়েছেন। এখন পাকিস্তানে থাকতে চাইলে এমনকি জাতিসংঘের শরণার্থী মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও যেকোনো আফগান নাগরিককে ভিসা নিতে হচ্ছে।
তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে শুধু আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশই একমাত্র সমস্যা নয়। শক্তিশালী সেনাবাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারণ প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনী তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু সেনা ও পুলিশের সমন্বয়হীনতা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে দুর্বল করেছে। রাজনৈতিক বিভক্তি ও বাধা তৈরি করছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার সরকার (প্রাদেশিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ) পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের হাতে, যার নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি। ইমরান খানের দল মনে করে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর হাতে থাকা উচিত নয়। তারা আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের কঠোর নীতিও সমর্থন করে না।
ইসলামাবাদ জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে আছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তায় একমত হলেও তাঁরা মনে করে, সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়েছে। প্রদেশের মানুষ টিটিপির হাত থেকে তাঁদের রক্ষা করতে না পারায় সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। আবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কৌশলেও বিরক্ত। যেমন: ব্যাপক উচ্ছেদ যা জীবন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই ব্যাপক জঙ্গি তৎপরতার সহজ কোনো সমাধান নেই। তবে শুরুটা করা যেতে পারে সেনাবাহিনী ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। পাশাপাশি ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে। স্থানীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাসিন্দাদের বিশেষ করে নারীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিতে হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক তদন্ত ও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম, ভালোভাবে প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনী যারা বেসামরিক ক্ষতি এড়াতে সচেষ্ট থাকবে এবং জঙ্গি তৎপরতা দমনে বেশি কার্যকর হবে।
আরও বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উত্তেজনা কমানো যাতে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে। টিটিপির হামলায় ইসলামাবাদের ক্ষোভ যৌক্তিক। কাবুলের উচিত সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি করে জঙ্গি হামলা ঠেকানো। অন্যদিকে, কাবুলের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে পাকিস্তানের উচিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। এতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার অর্থনীতি, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও কর্মজীবীদের আয় যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বাণিজ্য পুনরায় চালু করলে পাকিস্তানি নাগরিকদের পাশাপাশি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল আফগানরাও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
এই মুহূর্তে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নতুন সংলাপের সম্ভাবনা কম। কিন্তু লড়াই কোনো সমাধান নয়। বরং কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসে অন্তত নিজেদের সীমারেখা একে অপরকে জানাতে পারে দুই দেশ। এমন আলোচনায় উভয় পক্ষের ধৈর্য প্রয়োজন হবে। তবে বিকল্প হিসেবে আবার সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়া আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

পৃথিবীর নানা প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে গবেষণা চালিয়ে ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
শ্রেণিকক্ষ এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ঘোচাতে আমাদের দেশে বর্তমানে কোনো ‘জাতীয় শিক্ষানবিশ আইন’ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার ফলাফলকে প্রকৃত বাজার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক টিকে থাকার স্বার্থে এটি এখন অপরিহার্য।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও ক্রান্তিকালের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশকে জাতি গঠনের নানা জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় আমাদের যেমন নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি দেশ গঠনের অনেক সুযোগও আমাদের সামনে এসেছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ বর্তমানে এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং বহু বছরের অবহেলার চূড়ান্ত পরিণতি। অর্থনৈতিক সুশাসনের অভাব এবং নীতি নির্ধারণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ধারাবাহিক অবক্ষয় এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
১ দিন আগে