জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত

এআই জেনারেটেড ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও ক্রান্তিকালের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশকে জাতি গঠনের নানা জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় আমাদের যেমন নানাবিধ সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি দেশ গঠনের অনেক সুযোগও আমাদের সামনে এসেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপান্তরের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই, ৯০-এর দশক ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি বড় ঐতিহাসিক সময়পর্ব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুরো রূপান্তর সে সময় না ঘটলেও গণমানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আকাঙ্ক্ষা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। যার পেছনে রয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একটি ইতিহাস।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা আবারও হোঁচট খায় বিগত আওয়ামী সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার রূপান্তরের মধ্য দিয়ে; যে শাসন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের এক নতুন স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আর আমাদের দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বিগত দেড় বছর আমরা সংস্কার ও রাষ্ট্র গঠনের নানা প্রচেষ্টা বা আলোচনা দেখেছি। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের সত্যিকার বাস্তবায়ন কতটুকু হবে তা নির্ভর করছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত বিএনপি সরকার এবং বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার ওপর।

রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে এই সরকারের একটি বিশদ কর্মপরিকল্পনা আমরা দেখতে পাই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ভেতর—যেখানে তারা একত্রিশটি প্রধান খাতকে চিহ্নিত করেছে। বিএনপির ইশতেহারের বিষয়গুলো কেন্দ্রে রেখে উন্নয়নের একটি বিশদ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষা গুরুত্ব পেয়েছে। এর সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, তরুণদের চাহিদা মাথায় রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিস্তারিত পরিকল্পনা, ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার মতো বিষয়। কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণায় আমরা এসব বিষয়বস্তুকে প্রবলভাবে দেখতে পাই। তবে এসব কল্যাণমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিগত সময়ে গড়ে ওঠা শোষণমূলক ব্যবস্থার বিলোপ ঘটানো জরুরি।

বিগত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গড়ে ওঠা এই শোষণমূলক ব্যবস্থা সমাজে একটি সুবিধাভোগী অংশের উদ্ভব ঘটিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই শোষণমূলক ব্যবস্থার বিলুপ্তির জন্য নতুন সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করে যেতে হবে।

বিগত দেড় দশকে গড়ে ওঠা শোষণমূলক ব্যবস্থাটি আমাদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে যেহেতু রাজনৈতিক দলের হাত ধরে এমন একটি শোষণমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সেহেতু তার সমাধান মূলত রাজনৈতিক দলের হাত থেকেই আসতে হবে। সেজন্য বিএনপিকে অর্থাৎ বর্তমান সরকারি দলকে খুব সচেতন থেকে বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পরিসরে গড়ে ওঠা গণবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যক্রম থেকে সরে আসতে হবে। জনগণকে কেন্দ্রে রেখে অর্থাৎ জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে যদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গড়ে তোলা যায় তাহলে শাসকের প্রতি জনগণের ভরসার অভাব দূর করা সম্ভব।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জনগণের আস্থা ও ভরসা জায়গা তৈরি করা। আওয়ামী সরকারের নানা গণবিরোধী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে যে বিশাল দূরত্ব তৈরি করেছে বিগত অন্তর্ভুক্তি সরকারও সে দূরত্ব খুব বেশি ঘোচাতে পারেনি। জনগণের সঙ্গে আস্থা ও ভরসার সম্পর্ক তৈরি করতে হলে মাথায় রাখতে হবে জনগণের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো।

প্রথমেই দরকার বাজার-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জিনিসপত্রের দাম এবং জনগণের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে, সরকার প্রায় সময় রাষ্ট্রের একটি অংশের স্বার্থকে মাথায় রেখে তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। এমন প্রচেষ্টা আমরা অন্তবর্তী সরকারের মধ্যেও দেখেছি। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তারা বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে। যৌক্তিকতা থাকলেও অর্থনৈতিক পূর্ব-মূল্যায়ন ব্যতীত হুট করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে অর্থনীতিবিদেরাও সমালোচনা করছেন।

এই ধরনের জনতুষ্টিমূলক কিংবা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থকে সামনে রেখে পদক্ষেপ হাতে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে সাধারণ জনগণের স্বার্থ এবং তাদের জীবনের ওপর তার প্রভাবের দিকেও নজর রাখতে হবে। তা না হলে বাজার-ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অতীতের অভিজ্ঞতা এই বলে যে, যখনই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয় তখনই তার প্রভাব পড়ে বাজার-ব্যবস্থায়, জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি হয়ে পড়ে লাগামহীন।

সরকারকে নজর দিতে হবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও। আওয়ামী সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় আমরা দেখেছি নিরাপত্তাহীনতা কতটা সমস্যাজনক ও ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও জনগণের নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, আমরা দেখেছি ‘মবে’র মতো বিষয়কে সাধারণীকরণের মাধ্যমে তারা তাকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর নেতিবাচক প্রভাব আমরা এই নতুন সরকারের সময়ও দেখতে পাচ্ছি। ফলে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে করণীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিকশিত ‘মব’ নামক তথাকথিত ‘প্রেসার গ্রুপে’র নিয়ন্ত্রণ করাও এই সরকারের জন্য একটি অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কেননা সেই ‘মব‘ দেশের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি এক ধরনের উপহাস ছুঁড়ে দেয়।

দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে সরকারের অন্যতম একটি অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে সরকারকে শুরু থেকেই বেশ কঠোর একটি অবস্থান নিতে হবে। কেননা আমাদের মনে রাখতে হবে ‘উঠতি মুলা পত্তনেই চেনা যায়’। ঠিক তেমনি শুরুতেই সরকারকে বুঝিতে দিতে হবে দুর্নীতি বিষয়ে তাঁদের অবস্থান কী। তবে আমরা আশান্বিত হই যখন দেখি আমাদের নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইতিমধ্যে জাতীয় পরিসরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাধারণ মানুষের প্রতিদিনকার জীবনাচরণে এই বিষয়গুলোর প্রভাব নানাভাবে দেখে আসছি, যার নিয়ন্ত্রণ আমরা খুব একটা দেখিনি। আমাদের সমাজের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি জড়িয়ে আছে। এখন তা যেন একটি বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। এই সরকারের একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো এই দুর্নীতির রাশ টেনে ধরা এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ হাতে নেয়া।

সংস্কার প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলাই সনদের আলোকে প্রাতিষ্ঠনিক সংস্কারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনার বিষয়ে নতুন সরকার ও বিরোধী দলকে সংসদীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি ইতিবাচক জায়গায় পৌঁছুতে হবে।

উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতির যোগাযোগ বেশ পুরনো। বাংলাদেশের নানা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন হাতে নেওয়া হয় কিছু মানুষের অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য, যারা শোষণমূলক ব্যবস্থার প্রধান অংশীজন হিসেবে বিবেচিত। আর তাই বিগত সময়ের চটকদার একটি বিষয় ছিল মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের মহাবয়ান তৈরি করা।

মেগা প্রকল্প ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের বয়ান তৈরির প্রধান হাতিয়ার। উন্নয়নের বয়ান না মেটাতে পেরেছে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, না অর্জন করতে পেরেছে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা। এসব প্রকল্পে জড়িয়ে ছিল দুর্নীতি ও শোষণমূলক প্রক্রিয়া। এই সুযোগে দুর্নীতিবাজ ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা মুনাফা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিভিন্ন দেশে। তাই বর্তমান সরকারকে খুব ভেবেচিন্তে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সংস্কারকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত করতে হবে। তা না হলে তাদের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখার আগেই দুর্নীতির বেড়াজালে আটকে যেতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের মডেলের দিকে তাকালে দেখতে পাই, তারা উন্নয়ন ও সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া বিবেচনা করে সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশকেও সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা—দুটি বিষয়কে পাশাপাশি রেখে চালিয়ে যেতে হবে। তাই অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তাদের উচিত হবে অর্থনৈতিক সংস্কারের মৌলিক বিষযয়ে অতি দ্রুত কাজ করা। যেমন জাতীয় ঋণের লাগাম টেনে ধরা, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ইতিবাচক সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতায়ন করা।

সংস্কার প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলাই সনদের আলোকে প্রাতিষ্ঠনিক সংস্কারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনার বিষয়ে নতুন সরকার ও বিরোধী দলকে সংসদীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি ইতিবাচক জায়গায় পৌঁছুতে হবে। ভাবা জরুরি, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা দেশের স্বার্থে জারি রাখতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, বিএনপি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী রূপ প্রদান করবে, ভবিষ্যতে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে এবং গণতান্ত্রিক যাত্রা থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

গণতন্ত্রহীন একটি ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে আমাদের দীর্ঘ সময় লেগেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অনেক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা চাই না এবারের গণতান্ত্রিক রূপান্তরও আমাদের হাতছাড়া হোক। বিগত সরকারের ক্ষমতার চূড়ান্ত কেন্দ্রীকরণের দুষ্টচক্রের মতো ব্যবস্থা আমরা আর দেখতে চাইনা। আমরা চাই বিএনপি গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা থেকে দূরে থাকুক এবং আমাদের জন্য একটি সুখকর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসুক। সে জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জন করে বিরোধী দলের প্রতি বিগত সময়ের দমন-পীড়নের চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কেননা একটি জনবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে ওঠার জন্য যেমন সরকার দলের দায় আছে, তেমনই দায় আছে বিরোধী দলের।

তাই আমরা প্রত্যাশা করব বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এমন একটি কার্যকরী সংসদীয় ব্যবস্থার চর্চা গড়ে তুলবে যা আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আপামর জনগণের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটাবে। সামগ্রিকভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা চলমান রাখবে। জাতি হিসেবে আমরা আর হোঁচট খেতে চাইনা, বরং আমরা একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাম্যের রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।

  • বুলবুল সিদ্দিকী: অধ্যাপক, রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত