এলপিজির পরীক্ষায় ফেল, বিদ্যুতে নতুন পরীক্ষা কেন?

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২: ২৭
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন তার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—বেসরকারি খাত এলে জবাবদিহিতা বাড়বে, বিল আদায় নিশ্চিত হবে, সেবার মান উন্নত হবে।

প্রশ্ন হলো, এই প্রতিশ্রুতি যাচাই করার জন্য কি আমাদের বিদেশের উদাহরণ খুঁজতে হবে? বাস্তবে না। বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি বাজারেই একটি চলমান ও জীবন্ত উদাহরণ বিদ্যমান। পণ্যটি হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার। সরকার নিয়মিত এই পণ্যের ভোক্তা-মূল্য বেঁধে দেয়। অন্যদিকে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাত এর সরবরাহ পরিচালনা করে।

এলপিজির এই বাজারে প্রতিযোগিতা আছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আছে। তারপরও রাষ্ট্র বছরের পর বছর নিজের বেঁধে দেওয়া দাম কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই নিবন্ধের মূল যুক্তিটি এখানেই। বিদ্যুৎ বিতরণ খাত বেসরকারি করার আগে নীতিনির্ধারকদের প্রথমে এলপিজি বাজারের এই ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

এলপিজি বাজার: প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত অবাধ্যতা

বাংলাদেশের এলপিজি বাজার গত দেড় দশকে প্রায় পঁচিশ গুণ বড় হয়েছে। বর্তমানে এই বাজারের আটানব্বই শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে, প্রায় দশটি বড় কোম্পানি প্রতিযোগিতা করে। তত্ত্বগতভাবে এটি এমন একটি বাজার, যেখানে একাধিক বিক্রেতার প্রতিযোগিতাই দামকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে বারো কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ দাম ঘোষণা করে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে এর চেয়ে বেশি দামে কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিশন দাম নির্ধারণ করে ১৩৪১ টাকা, অথচ সরবরাহ-সংকটের অজুহাতে বাজারে প্রতি সিলিন্ডারে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা বেশি নেওয়া হয়। এপ্রিলে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৭২৮ টাকা, তবু নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। জুলাইয়ে সরকার দাম নির্ধারণ করে ১৫২৮ টাকা, অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তা তিনশ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হয়েছে—বরিশালের মতো এলাকায় ক্রেতাকে প্রায় আঠারোশ টাকা গুনতে হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসের ঘোষণা একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে, বাস্তব বাজার-মূল্যের সঙ্গে যার সম্পর্ক ক্ষীণ।

‘বেসরকারি খাত ভালো নাকি খারাপ’—প্রশ্নটি এখন আর এই সরল তর্কে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিয়ে। তারা নিজেদের ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর করতে যথেষ্ট সক্ষম কি না, সেটাই এখন মূল বিষয়।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই অবাধ্যতা কোনো একক অসাধু বিক্রেতার ব্যতিক্রমী আচরণ নয়—এটি প্রায় সামগ্রিক বাজার-প্রবণতা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার দাম বেঁধে দেয় ১৪২১ টাকা, অথচ ঢাকার বাজারে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারও পরদিনই বিক্রি হয় ১৫৫০ টাকায়, আর অন্য ব্র্যান্ডগুলোর গড় দামও প্রায় একই কাছাকাছি। যখন বাজারের প্রায় সব প্রতিযোগী ব্র্যান্ড একযোগে নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে প্রায় একই পরিমাণ বেশি দাম রাখে, তখন তা নিছক সরবরাহ-সংকট নয়—বরং একটি কাঠামোগত বাজার-ব্যর্থতার লক্ষণ। প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও তা মূল্য-শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারছে না।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারেই যদি নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হয়, একচেটিয়া বাজারে কী হবে?

এখানেই যুক্তির কেন্দ্রীয় বিন্দু। এলপিজির বাজারে অন্তত তাত্ত্বিকভাবে ভোক্তার সামনে দশটি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ড আছে, একাধিক দোকান আছে, এবং কেউ চাইলে অন্তত ভিন্ন দোকানে বা ভিন্ন ব্র্যান্ডে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অথচ এই ন্যূনতম প্রতিযোগিতা-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিইআরসি-র মাসিক মূল্য-আদেশ কার্যকর করা যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিতরণ এর ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থিত একটি ব্যবসা। একটি নির্দিষ্ট এলাকায়—ধরা যাক ডিপিডিসি বা ডেসকোর কোনো সাবেক অঞ্চল যদি একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরিত হয়—সেই এলাকার প্রতিটি গ্রাহকের জন্য একটিমাত্র তার-সংযোগ, একটিমাত্র মিটার, একটিমাত্র বিল প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থাকবে। গ্রাহকের সামনে ‘অন্য দোকানে যাওয়ার’ কোনো বিকল্পই থাকবে না।

যদি এলপিজির মতো একটি বহু-বিক্রেতা, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সরকারের মাসিক মূল্য-আদেশ নিয়মিতভাবে উপেক্ষিত হয়, তাহলে যুক্তিসংগতভাবেই প্রশ্ন ওঠে—একটি সম্পূর্ণ একচেটিয়া, বিকল্পহীন বাজারে একই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে শুল্কহার, সংযোগ-মাশুল ও সেবার মান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে? এলপিজি ক্রেতা অন্তত অসন্তুষ্ট হয়ে ভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন; বিতরণ-গ্রাহকের সেই সুযোগও থাকবে না।

কেন প্রয়োগ ব্যর্থ হচ্ছে: প্রতীকী নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা

এলপিজির অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে প্রয়োগ-ব্যর্থতার কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট হয়, যেগুলো বিদ্যুৎ বিতরণেও পুনরাবৃত্ত হওয়ার ঝুঁকি রাখে। প্রথমত, মূল্য-নির্ধারণ ও মূল্য-প্রয়োগ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সক্ষমতা—বিইআরসি প্রতি মাসে একটি সংখ্যা ঘোষণা করতে পারলেও সারা দেশের হাজার হাজার বিক্রয়কেন্দ্রে বাস্তবে সেই দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করার মাঠপর্যায়ের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো তার নেই। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতারা নিয়মিতভাবে ‘পুরোনো মজুত বেশি দামে কেনা ছিল’ বা ‘সরবরাহ-সংকট চলছে’-জাতীয় অজুহাত দেখিয়ে নতুন কমানো দামেও সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানান—এমনকি এমন অভিযোগও উঠেছে যে সরবরাহ-সংকট আংশিকভাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়, যাতে বাড়তি দাম আদায় ন্যায্য মনে হয়। তৃতীয়ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—যেমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—বিক্ষিপ্ত ও সংবাদভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মিত নয়; ফলে তা বিক্রেতাদের আচরণে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে পারছে না। চতুর্থত, বাজার ক্রমেই কয়েকটি বড় গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে—অর্থাৎ যে ‘প্রতিযোগিতা’র ওপর ভরসা করে নিয়ন্ত্রণকে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা নিজেই ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যদি এই একই ধরনের দুর্বল, বিক্ষিপ্ত প্রয়োগ-কাঠামো বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়—যেখানে প্রতিটি গ্রাহকের বিল আলাদা, যাচাই জটিল এবং সংঘবদ্ধ ভোক্তা-প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত—তাহলে প্রয়োগ-ব্যর্থতার মাত্রা এলপিজির চেয়েও বেশি হওয়ার আশঙ্কা যুক্তিসংগত।

এই চারটি সীমাবদ্ধতা—তদারকি-সক্ষমতার অভাব, কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ, বিক্ষিপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান বাজার-কেন্দ্রীকরণ—এলপিজি খাতে যেমন কার্যকর, বিদ্যুৎ বিতরণেও ঠিক একইভাবে প্রাসঙ্গিক হবে, বরং আরও তীব্র আকারে। কারণ এলপিজিতে অন্তত মূল্য প্রতি মাসে নতুন করে ঘোষণা করার এবং জনসমক্ষে তুলনা করার সুযোগ আছে; বিদ্যুতের বিল প্রতিটি বাড়িতে আলাদাভাবে আসে, মিটার রিডিং যাচাই করার প্রযুক্তিগত জ্ঞান সাধারণ গ্রাহকের থাকে না, এবং একটি ভুল বা স্ফীত বিলের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

বাজার কেন্দ্রীকরণ: প্রতিযোগিতাও ক্ষয়িষ্ণু

এলপিজি খাতের যুক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে যখন দেখা যায়, যে সীমিত প্রতিযোগিতার ওপর ভরসা করে নিয়ন্ত্রণকে হালকা রাখা হয়েছিল, তা নিজেই ক্রমশ কমে আসছে। দশটি কোম্পানির হাতে থাকা বাজার যদি ধীরে ধীরে তিন-চারটি বৃহৎ গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে মূল্য-আচরণে সমন্বয় বা তাত্ক্ষণিক সমান্তরাল মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা—আরও সহজ হয়ে উঠবে, প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হবে।

বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ ছয়টি বিতরণ প্রতিষ্ঠান যদি ধাপে ধাপে বেসরকারি করা হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই লাইসেন্সগুলোও অল্প কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়—এবং তখন প্রতিটি লাইসেন্স এলাকায় যেহেতু ইতিমধ্যেই কোনো প্রতিযোগিতা নেই, সেই কেন্দ্রীকরণ ভোক্তার জন্য অতিরিক্ত কোনো নতুন ঝুঁকি তৈরি না করলেও, একই গোষ্ঠীর একাধিক এলাকায় প্রভাব-বলয় তৈরি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপেক্ষিক দর-কষাকষির ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

প্রয়োগ-হাতিয়ারের বাস্তব সীমাবদ্ধতা

আইনগতভাবে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ও জরিমানা করতে পারে। বাস্তবে এই অভিযানগুলো সংবাদভিত্তিক ও কালেভদ্রে সংঘটিত হয়—একটি বাজারে হানা দেওয়া হলে পার্শ্ববর্তী বাজারে একই আচরণ অব্যাহত থাকে, এবং একবার জরিমানা হওয়া প্রতিষ্ঠানও পরের মাসেই একই কাজ পুনরাবৃত্তি করে। এর কারণ সহজ—একটি বা দুটি বিক্ষিপ্ত অভিযানে ধরা পড়ার সম্ভাবনা ও তার শাস্তির আর্থিক পরিমাণ, পুরো মৌসুম জুড়ে বাড়তি দাম আদায় করে অর্জিত মুনাফার তুলনায় নগণ্য থেকে যায়। ফলে এটি বিক্রেতার জন্য একটি ‘গণনাযোগ্য ঝুঁকি’ মাত্র, প্রকৃত নিধারক নয়।

বিদ্যুৎ বিতরণ হলো দেশের সবচেয়ে বড় ও জটিল একচেটিয়া নেটওয়ার্ক-ব্যবসা। এটি দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এমন একটি বড় খাত বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণের একটি স্পষ্ট ও সময়-নির্ধারিত পরিকল্পনা জনসমক্ষে থাকা উচিত।

যদি এই একই ধরনের দুর্বল, বিক্ষিপ্ত প্রয়োগ-কাঠামো বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়—যেখানে প্রতিটি গ্রাহকের বিল আলাদা, যাচাই জটিল এবং সংঘবদ্ধ ভোক্তা-প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত—তাহলে প্রয়োগ-ব্যর্থতার মাত্রা এলপিজির চেয়েও বেশি হওয়ার আশঙ্কা যুক্তিসংগত।

শেষ কথা: প্রথমে একটি ছোট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া দরকার

নীতিনির্ধারকরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রকের শর্ত মেনে চলবে এবং জবাবদিহিতা বাড়াবে, তবে এর প্রথম পরীক্ষাক্ষেত্র হওয়া উচিত এলপিজির বাজার। এই বাজারটি তুলনামূলক সহজ এবং আগে থেকেই বিদ্যমান। এখানে একাধিক বিক্রেতা রয়েছে। নতুন করে কোনো অবকাঠামো হস্তান্তরেরও প্রয়োজন নেই। এখানে কেবল বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক আদেশ কার্যকর করার সদিচ্ছা ও সক্ষমতা দরকার।

তাই প্রথমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) শক্তিশালী করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত তদারকি-জনবল, দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ মূল্য-তথ্য প্রকাশের কাঠামো। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি প্রথমে এলপিজির বাজারে মূল্য-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তবেই বিদ্যুৎ বিতরণ খাতের ক্ষেত্রেও ভরসা পাওয়া যাবে। তখন বিশ্বাস করা যাবে যে, একই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সেখানেও কাজ করবে। এর আগে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবসা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া মোটেও যৌক্তিক হবে না। এমনটি করা মানে নতুন করে এমন এক পরীক্ষায় বাজি ধরা, যেটিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বারবার ফেল করেছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ‘বেসরকারি খাত ভালো নাকি খারাপ’—প্রশ্নটি এখন আর এই সরল তর্কে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিয়ে। তারা নিজেদের ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর করতে যথেষ্ট সক্ষম কি না, সেটাই এখন মূল বিষয়।

এলপিজির মাসিক মূল্য-আদেশ এক্ষেত্রে একটি ছোট ও সহজে পরিমাপযোগ্য সূচক। কিন্তু এই সহজ সূচকেই রাষ্ট্রের বারবার ব্যর্থতা ধরা পড়ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিতরণ হলো দেশের সবচেয়ে বড় ও জটিল একচেটিয়া নেটওয়ার্ক-ব্যবসা। এটি দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এমন একটি বড় খাত বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণের একটি স্পষ্ট ও সময়-নির্ধারিত পরিকল্পনা জনসমক্ষে থাকা উচিত।

  • এম এম মুসা: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক
Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত