বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন, ক্ষমতায় আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাজনৈতিক প্রতিবেদক মিরহাজুল শিবলী।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

আকরামুল হাসান মিন্টু: বিএনপির ইতিহাস মূলত আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
দুই দফায় মোট ১০ বছর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু দলের ৪৮ বছরের ইতিহাসের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী দলে থেকে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দীর্ঘ আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন অসংখ্য নেতা-কর্মী। দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার মধ্য দিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ, বেগম খালেদা জিয়াকে হারাতে হয়েছে—এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিয়োগান্ত ঘটনা।
এরপর জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের পর রাষ্ট্র পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি, প্রশাসনসহ অনেক ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছে। সে কারণে সরকার গঠনের পরপরই সাংগঠনিক কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এখন দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব নিয়েছেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিও চলছে। আমি আশাবাদী, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিএনপি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: আমার মনে হয়, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা দলের প্রতি সবচেয়ে বেশি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের যথাযথভাবে নেতৃত্বে নিয়ে আসা প্রয়োজন।
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামে যেসব নেতা-কর্মী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন এবং দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বে রাখা উচিত।
তবে শুধু তাঁদের নিয়েই দল গঠন করলে হবে না। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যাঁরা সক্রিয় থাকতে পারেননি, কিন্তু দলের আদর্শের সঙ্গে ছিলেন এবং এখনো বিএনপিকে সমর্থন করেন, তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমি এখানে ‘মূল্যায়ন’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না; বরং বলব, যাঁরা বেশি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের হাতে বেশি দায়িত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্যদেরও সম্পৃক্ত করে দলকে আরও বৃহৎ ও শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: ক্ষমতার রাজনীতিতে শৃঙ্খলা অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জ। তবে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে যদি ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই চ্যালেঞ্জ অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
যাঁরা দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের প্রতি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে হবে। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হবে যে, দলের জন্য কাজ করলে দলও তাদের যথাযথ মর্যাদা ও দায়িত্ব দেবে।
এর ব্যত্যয় ঘটলে সবাই যেকোনো উপায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর। তাই দায়িত্ব বণ্টনে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখা সহজ হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: বিএনপির নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করা উচিত। কারণ, যারা ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি শুরু করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে যত বেশি নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবে, দল তত বেশি টেকসই হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পর বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রনেতাদের জাতীয় নেতৃত্বে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ২০০৭ সালে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালেও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
কিন্তু এরপর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ধারাবাহিকতা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। আমি নিজে যখন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তখনও আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সে ধরনের সুযোগ তৈরি হয়নি।
অবশ্য বিএনপি অঙ্গসংগঠন থেকে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির ধারা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তারপরও আমার মনে হয়, ছাত্রদলের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পর্যায়ে ওঠার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ছাত্রজীবন থেকেই যারা দল ও দেশের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়ে রাজনীতি করেছেন, তাঁদের জন্য জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা হলে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই লাভবান হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: বর্তমান সময়ে রাজনীতি করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তাঁদের জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র ও তরুণদের চাহিদা, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। সেই বাস্তবতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বেকারত্বের সমস্যায় রয়েছে। হতাশা থেকে অনেকে বিপথেও যেতে পারে। এই তরুণদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করা এবং তাঁদের কর্মক্ষমতাকে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাজ করা উচিত।
ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
একজন রাজনৈতিক কর্মী কখনো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন, কখনো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন, আবার জনগণের সুযোগ দিলে সরকার পরিচালনায় অংশ নেবেন। যারা এখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি, তাঁদেরও সাংগঠনিক দায়িত্বের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং জনগণকে সেই পরিকল্পনার অংশীদার করতে হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: যারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনীতিকে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেয়, তাদের আক্ষেপ থাকার কথা নয়। আমরা ছাত্রজীবন থেকে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। আজও জাতীয় রাজনীতিতে জনগণের পাশে থাকার সেই অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করছি।
রাজনীতিতে সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী অবস্থান পাওয়া যাবে, এমন নয়। কিন্তু সে কারণে রাজনীতি ছেড়ে অন্য কিছু করলে ভালো হতো—এমন চিন্তা আমার কখনো হয়নি।
আমি মনে করি, যারা শর্টকাটে সফলতা পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসে, তাদের ক্ষেত্রে হতাশা তৈরি হতে পারে। কিন্তু যারা সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের জীবনকে যুক্ত করেছে, তাদের জন্য নিজের অবস্থান থেকে দেশ ও দলের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
আমার বিশ্বাস, একজন ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদের হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, দেশ ও দলের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকা রেখে যেতে হবে। সামনে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ আসবে—এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন, ক্ষমতায় আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাজনৈতিক প্রতিবেদক মিরহাজুল শিবলী।
.png)
আকরামুল হাসান মিন্টু: বিএনপির ইতিহাস মূলত আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
দুই দফায় মোট ১০ বছর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু দলের ৪৮ বছরের ইতিহাসের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী দলে থেকে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দীর্ঘ আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন অসংখ্য নেতা-কর্মী। দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার মধ্য দিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ, বেগম খালেদা জিয়াকে হারাতে হয়েছে—এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিয়োগান্ত ঘটনা।
এরপর জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের পর রাষ্ট্র পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি, প্রশাসনসহ অনেক ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছে। সে কারণে সরকার গঠনের পরপরই সাংগঠনিক কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এখন দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব নিয়েছেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিও চলছে। আমি আশাবাদী, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিএনপি আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: আমার মনে হয়, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা দলের প্রতি সবচেয়ে বেশি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের যথাযথভাবে নেতৃত্বে নিয়ে আসা প্রয়োজন।
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামে যেসব নেতা-কর্মী সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন এবং দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বে রাখা উচিত।
তবে শুধু তাঁদের নিয়েই দল গঠন করলে হবে না। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যাঁরা সক্রিয় থাকতে পারেননি, কিন্তু দলের আদর্শের সঙ্গে ছিলেন এবং এখনো বিএনপিকে সমর্থন করেন, তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমি এখানে ‘মূল্যায়ন’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না; বরং বলব, যাঁরা বেশি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের হাতে বেশি দায়িত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অন্যদেরও সম্পৃক্ত করে দলকে আরও বৃহৎ ও শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: ক্ষমতার রাজনীতিতে শৃঙ্খলা অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জ। তবে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে যদি ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই চ্যালেঞ্জ অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
যাঁরা দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের প্রতি কমিটমেন্ট দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে হবে। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হবে যে, দলের জন্য কাজ করলে দলও তাদের যথাযথ মর্যাদা ও দায়িত্ব দেবে।
এর ব্যত্যয় ঘটলে সবাই যেকোনো উপায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর। তাই দায়িত্ব বণ্টনে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখা সহজ হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: বিএনপির নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করা উচিত। কারণ, যারা ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি শুরু করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে যত বেশি নেতৃত্ব জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবে, দল তত বেশি টেকসই হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পর বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রনেতাদের জাতীয় নেতৃত্বে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ২০০৭ সালে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালেও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
কিন্তু এরপর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ধারাবাহিকতা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। আমি নিজে যখন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তখনও আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সে ধরনের সুযোগ তৈরি হয়নি।
অবশ্য বিএনপি অঙ্গসংগঠন থেকে জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির ধারা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তারপরও আমার মনে হয়, ছাত্রদলের নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পর্যায়ে ওঠার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ছাত্রজীবন থেকেই যারা দল ও দেশের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়ে রাজনীতি করেছেন, তাঁদের জন্য জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা হলে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই লাভবান হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: বর্তমান সময়ে রাজনীতি করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
তাঁদের জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র ও তরুণদের চাহিদা, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। সেই বাস্তবতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বেকারত্বের সমস্যায় রয়েছে। হতাশা থেকে অনেকে বিপথেও যেতে পারে। এই তরুণদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করা এবং তাঁদের কর্মক্ষমতাকে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাজ করা উচিত।
ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।
একজন রাজনৈতিক কর্মী কখনো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন, কখনো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন, আবার জনগণের সুযোগ দিলে সরকার পরিচালনায় অংশ নেবেন। যারা এখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি, তাঁদেরও সাংগঠনিক দায়িত্বের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং জনগণকে সেই পরিকল্পনার অংশীদার করতে হবে।
আকরামুল হাসান মিন্টু: যারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনীতিকে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নেয়, তাদের আক্ষেপ থাকার কথা নয়। আমরা ছাত্রজীবন থেকে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। আজও জাতীয় রাজনীতিতে জনগণের পাশে থাকার সেই অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করছি।
রাজনীতিতে সব সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী অবস্থান পাওয়া যাবে, এমন নয়। কিন্তু সে কারণে রাজনীতি ছেড়ে অন্য কিছু করলে ভালো হতো—এমন চিন্তা আমার কখনো হয়নি।
আমি মনে করি, যারা শর্টকাটে সফলতা পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসে, তাদের ক্ষেত্রে হতাশা তৈরি হতে পারে। কিন্তু যারা সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের জীবনকে যুক্ত করেছে, তাদের জন্য নিজের অবস্থান থেকে দেশ ও দলের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
আমার বিশ্বাস, একজন ক্যারিয়ার রাজনীতিবিদের হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, দেশ ও দলের প্রয়োজনে নিজের ভূমিকা রেখে যেতে হবে। সামনে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ আসবে—এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত।
.png)
.png)

স্ট্রিম: ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। দীর্ঘ সময় দলটিকে আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে দেখা গেছে। এখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। এই নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন: আমার কাছে মনে হয়, বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলটির নেতা
৩ ঘণ্টা আগে
বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তাঁর ভাষ্যে, বড় রাজনৈতিক দলে পদ বা নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য একাধিক নেতার আগ্রহী হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এখন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আগের মতো তীব্র নেই।
৮ ঘণ্টা আগে
জনস্বাস্থ্যের ওপর প্লাস্টিকের প্রভাব ভয়াবহ। পরিবেশ ও খাদ্যে প্লাস্টিক প্রবেশের ফলে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে এর প্রভাবে মানুষের গড় আয়ু বা লাইফটাইম এক্সপেকটেন্সি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।
২৪ আগস্ট ২০২৬
এই মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার সংকট। এই সংকটকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক। দেশীয় আস্থার সংকট মূলত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এখনো সন্দিহান।
১২ আগস্ট ২০২৬