জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় বিএনপির অর্ধশত নেত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ০৬
সংরক্ষিত আসনে সাবেক-বর্তমান মিলে অন্তত ৫০ নারী নেত্রী আলোচনায় আছেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বে থাকা অন্তত ৫০ নেত্রী মনোনয়নের জন্য তদবির করছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮ আসন। বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একটি সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়োজন।

এই হিসাবে, ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি ৩৫, জামায়াত ১১ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। বাকি তিন আসন নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জোট করলে এবং নিজস্ব প্রতীকে জয়ী দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছলে, তারা পাবেন।

সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীরা থেমে নেই। যে যার মতো দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বিগত দিনে দলের জন্য নিজের অবদান তুলে ধরছেন। অনেকেই আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের মনোযোগ কাড়তে সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করছেন।

বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, যোগ্য প্রার্থী হয়েও সাধারণ নির্বাচনে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, দল তাদের সংরক্ষিত আসনে প্রাধান্য দেবে। পাশাপাশি বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় মহিলা দল, ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান নেত্রীদের গুরুত্ব পাবেন।

আলোচনায় যেসব নেত্রী

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এবারও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে আফরোজা আব্বাস ছাড়া অন্য দুজন আগে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, এক পরিবার থেকে দুজনকে এবার সংসদ সদস্য না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের। এটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে আফরোজা, হাসিনা ও রুমানা মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নে আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরিন সুলতানা, নিলুফার চৌধুরী মনি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেত্রী অপর্না রায়, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রুখসানা খানম মিতু, আয়েশা সিদ্দিকা, নেওয়াজ হালিমা, ফরিদা ইয়াসমীন, হেলেন জেরিন, আইনজীবী শাকিলা ফারজানা ও চট্টগ্রাম মহিলা দলের মনোয়ারা বেগম মনির।

এর বাইরে আলোচনায় আছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, শাম্মী আখতার, মহিলা দলের ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক রুমা আক্তার, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিনা খান, সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নাভীলা চৌধুরী, রেহানা আক্তার রানু, বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রথম ভিপি বেগম খায়রুন নাহার, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, প্রয়াত নাছির উদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, জাসাস কেন্দ্রীয় নেত্রী ও অভিনেত্রী শায়লা ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকতারা আক্তার উর্মি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনোয়ারা শিখা, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম সাগর, সাবরিনা বিনতে আহমেদ, মহিলা দলের সহস্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মানি, চিকিৎসক ডা. ইলমা মোস্তফা ও মহিলা দলের নেত্রী সাবিনা খান পপি।

যা বলছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

মনোনয়নপ্রত্যাশী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘আমি জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল আমার পরিবর্তে যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁর পক্ষে কাজ করেছি। ’৯৬ সালে থেকে বিএনপির রাজনীতি করছি। একাধিকবার কারাগারে গেছি। রিমান্ডে নির্যাতন সয়েছি। আশা করছি, দল বিবেচনা করবে।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর মাঠে সম্মুখসারিতে ছিলাম। দলের দুঃসময়ে সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। ত্যাগীদের মূল্যায়ন হলে দল আমাকেও বিবেচনা করবে।’

প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে নিজের সংগঠনের ব্যানারে মানুষের জন্য এবং দলের গুম-খুনের শিকার নেতার পরিবারকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছি। ঢাকা-১৭ আসনে এবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নিয়মিত অংশ নিয়েছি। দল আমাকে নিরাশ করবে না।’

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে রয়েছি। রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে টানা ছয় মাস জেল খেটেছি। দলের প্রতি আমার নিবেদন দেখে অবশ্যই হাইকমান্ড বিবেচনা করবে।

স্পিকার, উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে আলোচনা যারা

আগামী ১২ মার্চ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ওইদিন সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ উপনেতা হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনা রয়েছে। স্পিকার পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আলোচনায় আছেন। তবে আগের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এগিয়ে আছেন জয়নুল আবেদীন।

ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজামের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয় সূত্র জানায়, চিপ হুইপ পদে সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও নরুল ইসলাম মনির নাম চাউর হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন ঠিক হয়েছে। এসব পদে কারা আসবেন, তা পরে জানানো হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত