লেখা:

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পুরো বিশ্বের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক; বলা যায়, তিনি এখন ‘গ্লোবাল পাবলিক এনিমি নাম্বার ওয়ান’ বা বিশ্বের এক নম্বর গণশত্রু। ইরানের সঙ্গে যে অবৈধ যুদ্ধ তিনি শুরু করেছিলেন, তা থামাতে তো পারছেনই না, উল্টো ধীরে ধীরে পরাজয়ের দিকেই যাচ্ছেন। ট্রাম্পের ইসরায়েলি দোসর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননেও ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন। আর ট্রাম্পের এই বেপরোয়া বোকামির বিশাল অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যাদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে।
গণতন্ত্রকে প্রতিদিন পদদলিত করা, রাশিয়ার তোষণ, শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ, জলবায়ু সংকট অস্বীকার করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা ট্রাম্পের নিত্যদিনের অভ্যাস। হোয়াইট হাউসের এই প্রহসন এবার সত্যিই অনেক দূর গড়িয়েছে। আমেরিকানদের এখন নিজেদের ঘর সামলানোর সময় এসেছে। যে মানুষ আমাদের সবার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে রুখতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্রাম্প আসলে এমন একজন মানুষ, যাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে তাঁর নিজেরই কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে—এই ভ্রান্তি বা ডিলিউশনে ভুগছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যত বেশি তেহরান এবং অন্যান্য শহরে বোমাবর্ষণ করছে, অপরাজেয় ইসলামি শাসনব্যবস্থা তত বেশি বিদ্রোহী হয়ে উঠছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্র আরব দেশগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে (শোনা যাচ্ছে, সেখানে তারা এখন মাইন পুঁতছে)। তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে ‘এনার্জি শক’ বা জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং খাদ্য ও ওষুধের চরম সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগবে দরিদ্র দেশগুলো। ট্রাম্পের তৈরি করা এই মহামারি থেকে খুব কম দেশই রেহাই পাবে। সত্যি বলতে, ট্রাম্প যেন নতুন এক ‘কোভিড’।
ট্রাম্প যখন খাবি খাচ্ছেন, নেতানিয়াহুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তখন আরও লাগামহীন হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলা আঘাত হানছে ইরানের সাধারণ ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ-পানির মতো জরুরি পরিষেবা, ব্যাংক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মসজিদে। এই হামলাগুলো হিতে বিপরীত ফল আনছে; উল্টো সাধারণ মানুষকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে।
লেবাননেও একই অপরাধমূলক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে: বেসামরিক নাগরিক হত্যা, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং দখলদারি—আর এ সবকিছুই নাকি হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাস’ দমনের জন্য অপরিহার্য! ভয়াবহ ব্যাপার হলো, লেবাননে এই হামলা আসলে ইসরায়েলের ‘স্টেট টেরর’ বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। একের পর এক জলপাই বাগান উপড়ে ফেলে এবং একের পর এক গ্রাম জনশূন্য করে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প আজ সব ফ্রন্টে এগিয়ে চলেছে।
গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে ধসের পর ভয় পেয়ে ট্রাম্প নিজের বিজয় ঘোষণার আধাখ্যাঁচড়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এত বড় মিথ্যা তিনি নিজেই গিলতে পারেননি। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময় জর্জ ডব্লিউ বুশের অন্তত তাঁর বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার সাহস ছিল। বুশ জানতেন, তাঁর লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্থলপথে সামরিক অভিযান বা ল্যান্ড ইনভেশন ছাড়া কোনো উপায় নেই। ট্রাম্পের সেই সাহসটুকুও নেই। তিনি শুধু আকাশ থেকে বোমা ফেলে ইরানে দ্রুত ও যন্ত্রণাহীন বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
এর বদলে ট্রাম্প এবং পুরো বিশ্ব যা পেল, তা হলো সম্ভাব্য আরেকটি ‘ফরেভার ওয়ার’ বা চিরস্থায়ী যুদ্ধ। ইরানের এই রেজিম যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে ‘অ্যাসিমেট্রিক’ বা অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে। যুদ্ধ চলাকালে সেখানে কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা নেই। ইসরায়েল চায় ইরান ও লেবাননকেও গাজার মতো এক স্থায়ী ‘অ্যারিয়াল ফ্রি-ফায়ার জোন’ বা আকাশপথে বাধাহীন হামলার ক্ষেত্রে পরিণত করতে। আর ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন মাঝখানে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।
ট্রাম্প এবং পেন্টাগনের মুখপাত্র পিট হেগসেথ হয়তো খুব শিগগিরই ‘মিশন আকমপ্লিশড’ বা সফলভাবে অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিতে চান। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অপমানজনক ব্যর্থতা বা হিউমিলিয়েটিং ফেইলিওর হাতছানি দিচ্ছে। এই ব্যর্থতা বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং জাতীয় মর্যাদাকে ঠিক আফগানিস্তান বা ইরাকের মতোই ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। ইতিমধ্যে বডি ব্যাগ বা সেনাদের কফিন দেশে ফিরতে শুরু করেছে। আর এই যুদ্ধের আর্থিক খরচ দাঁড়াচ্ছে সপ্তাহে এক হাজার ১০০ কোটি (১১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে মধ্যবর্তী বা মিডটার্ম নির্বাচনের ভোটাররা ইতিমধ্যেই আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে আবারও আমেরিকাকে হারের স্বাদ দিচ্ছেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যে সন্দেহ ছিল, সেই মূল সমস্যার কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো একবার নয়, দুই-দুইবার ধ্বংস করা হয়েছে। তারপরও তাদের কাছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুদ রয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আছে পারমাণবিক জ্ঞান—যা বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ট্রাম্প যদি কূটনীতির পথে এগোতেন, তবে হয়তো এই মজুদ শান্তিপূর্ণভাবেই সমর্পণ বা নিষ্ক্রিয় করা যেত।
শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার নিশ্চয়তার জন্য ইরানের কিছু কট্টরপন্থীও চাইছেন উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে। সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ফতোয়ার কারণে ইরান এত দিন সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু এখন যেহেতু খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক বোমার দিকে ঝোঁকে, তার জন্য ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুই দায়ী থাকবেন।
অন্যদিকে, ইরানের অব্যাহত হামলা প্রমাণ করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার সক্ষমতা কমলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। পেন্টাগন যে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ‘চিরতরে’ ধ্বংস করার দম্ভ করছে, তা নিতান্তই বোকামি। কারণ, ইরান মার্কিন প্রতিরক্ষার দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফল আঘাত হানছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাহতের ঘটনাও ঘটছে। তেহরান তাদের প্রক্সি মিলিশিয়াদেরও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন এই পরাজয় কেবল সামরিক নয়, বরং নৈতিক ও আইনি দিক থেকেও। ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার দায় এড়াতে ট্রাম্প মিথ্যাচার করেছেন। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, মিনাবের ঘটনা একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ (ওয়ার ক্রাইম), যার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যুদ্ধে জড়িয়েছেন, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। মার্কিন সেনারা যুদ্ধের কোনো নিয়মনীতি বা ‘রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট’ মানছেন না। নৈতিকভাবে দেউলিয়া হেগসেথ দাবি করেছেন, কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারেন। বাস্তবতা হচ্ছে, না, তাঁরা পারেন না।
ট্রাম্পের এই অভিযানের বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি বা জিওপলিটিক্যাল কনসিকোয়েন্স দেখা দিতে যাচ্ছে। ইরানে রেজিম চেঞ্জের যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা এখন মার্কিন এজেন্ডা থেকে বাদ পড়ছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এখনো ইরানের সরকার পতনের আশায় আছেন। ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও নেতানিয়াহু তাঁর সুবিধামতো ইরান ও লেবাননে (এবং গাজায়) বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতে চাইবেন।
ব্রিটেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের এই একগুঁয়েমি পরিকল্পনায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ। হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের চরম ব্যর্থতা বা ফিয়াস্কো এর বড় প্রমাণ। তিনি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছেন। ট্রাম্প তাঁর মিত্রদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে! এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর এই ডাকে সাড়া দেয়নি। এদিকে রাশিয়া ‘সাময়িকভাবে’ মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে। চীন ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী বোকামি ও বিশ্বজনমতের প্রতি অবজ্ঞার পুরো ফায়দা লুটছে।
বিশ্বে যদি এখনো বিন্দুমাত্র ন্যায়বিচার অবশিষ্ট থাকে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলকে এর শাস্তি পেতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে মামলা হওয়া উচিত। ব্রিটেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা। ইরান ও লেবাননের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। আর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের দায়ে কংগ্রেসে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন হওয়া উচিত।
অনেকেই হয়তো বলবেন, এসব কখনোই হবে না। কিন্তু আসল কথা হলো, এসব হওয়া উচিত এবং হতেই হবে! নৈতিকতার এবং গণতন্ত্রের এই মানদণ্ড বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতাদেরও মেনে চলতে বাধ্য করা উচিত; তা না হলে সব শেষ হয়ে যাবে। ক্ষমতায় থাকতে ট্রাম্পের হাতে এখনো প্রায় তিন বছর সময় আছে। তাঁকে এভাবে লাগামহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেওয়া হলে তিনি আরও কী কী করবেন, কে জানে!
ব্যর্থ ও দিকভ্রান্ত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের জন্য স্পষ্ট ও ‘ক্লিয়ার অ্যান্ড প্রেজেন্ট ডেঞ্জার’। তাঁকে এখনই ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো উচিত।
(সাইমন টিসডাল: দ্য গার্ডিয়ান-এর ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমেন্টেটর)

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পুরো বিশ্বের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক; বলা যায়, তিনি এখন ‘গ্লোবাল পাবলিক এনিমি নাম্বার ওয়ান’ বা বিশ্বের এক নম্বর গণশত্রু। ইরানের সঙ্গে যে অবৈধ যুদ্ধ তিনি শুরু করেছিলেন, তা থামাতে তো পারছেনই না, উল্টো ধীরে ধীরে পরাজয়ের দিকেই যাচ্ছেন। ট্রাম্পের ইসরায়েলি দোসর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননেও ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন। আর ট্রাম্পের এই বেপরোয়া বোকামির বিশাল অর্থনৈতিক মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যাদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে।
গণতন্ত্রকে প্রতিদিন পদদলিত করা, রাশিয়ার তোষণ, শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ, জলবায়ু সংকট অস্বীকার করা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা ট্রাম্পের নিত্যদিনের অভ্যাস। হোয়াইট হাউসের এই প্রহসন এবার সত্যিই অনেক দূর গড়িয়েছে। আমেরিকানদের এখন নিজেদের ঘর সামলানোর সময় এসেছে। যে মানুষ আমাদের সবার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে রুখতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্রাম্প আসলে এমন একজন মানুষ, যাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে তাঁর নিজেরই কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে—এই ভ্রান্তি বা ডিলিউশনে ভুগছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যত বেশি তেহরান এবং অন্যান্য শহরে বোমাবর্ষণ করছে, অপরাজেয় ইসলামি শাসনব্যবস্থা তত বেশি বিদ্রোহী হয়ে উঠছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্র আরব দেশগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে (শোনা যাচ্ছে, সেখানে তারা এখন মাইন পুঁতছে)। তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে ‘এনার্জি শক’ বা জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং খাদ্য ও ওষুধের চরম সংকট দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগবে দরিদ্র দেশগুলো। ট্রাম্পের তৈরি করা এই মহামারি থেকে খুব কম দেশই রেহাই পাবে। সত্যি বলতে, ট্রাম্প যেন নতুন এক ‘কোভিড’।
ট্রাম্প যখন খাবি খাচ্ছেন, নেতানিয়াহুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তখন আরও লাগামহীন হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলা আঘাত হানছে ইরানের সাধারণ ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ-পানির মতো জরুরি পরিষেবা, ব্যাংক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মসজিদে। এই হামলাগুলো হিতে বিপরীত ফল আনছে; উল্টো সাধারণ মানুষকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে।
লেবাননেও একই অপরাধমূলক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটছে: বেসামরিক নাগরিক হত্যা, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি, ধ্বংসযজ্ঞ এবং দখলদারি—আর এ সবকিছুই নাকি হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাস’ দমনের জন্য অপরিহার্য! ভয়াবহ ব্যাপার হলো, লেবাননে এই হামলা আসলে ইসরায়েলের ‘স্টেট টেরর’ বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে এর তুলনা করা যায়। একের পর এক জলপাই বাগান উপড়ে ফেলে এবং একের পর এক গ্রাম জনশূন্য করে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প আজ সব ফ্রন্টে এগিয়ে চলেছে।
গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে ধসের পর ভয় পেয়ে ট্রাম্প নিজের বিজয় ঘোষণার আধাখ্যাঁচড়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এত বড় মিথ্যা তিনি নিজেই গিলতে পারেননি। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময় জর্জ ডব্লিউ বুশের অন্তত তাঁর বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার সাহস ছিল। বুশ জানতেন, তাঁর লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্থলপথে সামরিক অভিযান বা ল্যান্ড ইনভেশন ছাড়া কোনো উপায় নেই। ট্রাম্পের সেই সাহসটুকুও নেই। তিনি শুধু আকাশ থেকে বোমা ফেলে ইরানে দ্রুত ও যন্ত্রণাহীন বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
এর বদলে ট্রাম্প এবং পুরো বিশ্ব যা পেল, তা হলো সম্ভাব্য আরেকটি ‘ফরেভার ওয়ার’ বা চিরস্থায়ী যুদ্ধ। ইরানের এই রেজিম যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে ‘অ্যাসিমেট্রিক’ বা অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে। যুদ্ধ চলাকালে সেখানে কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা নেই। ইসরায়েল চায় ইরান ও লেবাননকেও গাজার মতো এক স্থায়ী ‘অ্যারিয়াল ফ্রি-ফায়ার জোন’ বা আকাশপথে বাধাহীন হামলার ক্ষেত্রে পরিণত করতে। আর ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন মাঝখানে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।
ট্রাম্প এবং পেন্টাগনের মুখপাত্র পিট হেগসেথ হয়তো খুব শিগগিরই ‘মিশন আকমপ্লিশড’ বা সফলভাবে অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিতে চান। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অপমানজনক ব্যর্থতা বা হিউমিলিয়েটিং ফেইলিওর হাতছানি দিচ্ছে। এই ব্যর্থতা বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং জাতীয় মর্যাদাকে ঠিক আফগানিস্তান বা ইরাকের মতোই ধুলোয় মিশিয়ে দেবে। ইতিমধ্যে বডি ব্যাগ বা সেনাদের কফিন দেশে ফিরতে শুরু করেছে। আর এই যুদ্ধের আর্থিক খরচ দাঁড়াচ্ছে সপ্তাহে এক হাজার ১০০ কোটি (১১ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে মধ্যবর্তী বা মিডটার্ম নির্বাচনের ভোটাররা ইতিমধ্যেই আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে আবারও আমেরিকাকে হারের স্বাদ দিচ্ছেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যে সন্দেহ ছিল, সেই মূল সমস্যার কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো একবার নয়, দুই-দুইবার ধ্বংস করা হয়েছে। তারপরও তাদের কাছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুদ রয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আছে পারমাণবিক জ্ঞান—যা বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ট্রাম্প যদি কূটনীতির পথে এগোতেন, তবে হয়তো এই মজুদ শান্তিপূর্ণভাবেই সমর্পণ বা নিষ্ক্রিয় করা যেত।
শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার নিশ্চয়তার জন্য ইরানের কিছু কট্টরপন্থীও চাইছেন উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে। সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ফতোয়ার কারণে ইরান এত দিন সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু এখন যেহেতু খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক বোমার দিকে ঝোঁকে, তার জন্য ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুই দায়ী থাকবেন।
অন্যদিকে, ইরানের অব্যাহত হামলা প্রমাণ করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার সক্ষমতা কমলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। পেন্টাগন যে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ‘চিরতরে’ ধ্বংস করার দম্ভ করছে, তা নিতান্তই বোকামি। কারণ, ইরান মার্কিন প্রতিরক্ষার দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফল আঘাত হানছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাহতের ঘটনাও ঘটছে। তেহরান তাদের প্রক্সি মিলিশিয়াদেরও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন এই পরাজয় কেবল সামরিক নয়, বরং নৈতিক ও আইনি দিক থেকেও। ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার দায় এড়াতে ট্রাম্প মিথ্যাচার করেছেন। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, মিনাবের ঘটনা একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ (ওয়ার ক্রাইম), যার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যুদ্ধে জড়িয়েছেন, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। মার্কিন সেনারা যুদ্ধের কোনো নিয়মনীতি বা ‘রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট’ মানছেন না। নৈতিকভাবে দেউলিয়া হেগসেথ দাবি করেছেন, কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারেন। বাস্তবতা হচ্ছে, না, তাঁরা পারেন না।
ট্রাম্পের এই অভিযানের বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি বা জিওপলিটিক্যাল কনসিকোয়েন্স দেখা দিতে যাচ্ছে। ইরানে রেজিম চেঞ্জের যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা এখন মার্কিন এজেন্ডা থেকে বাদ পড়ছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এখনো ইরানের সরকার পতনের আশায় আছেন। ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও নেতানিয়াহু তাঁর সুবিধামতো ইরান ও লেবাননে (এবং গাজায়) বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতে চাইবেন।
ব্রিটেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্পের এই একগুঁয়েমি পরিকল্পনায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ। হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্পের চরম ব্যর্থতা বা ফিয়াস্কো এর বড় প্রমাণ। তিনি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছেন। ট্রাম্প তাঁর মিত্রদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে! এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর এই ডাকে সাড়া দেয়নি। এদিকে রাশিয়া ‘সাময়িকভাবে’ মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে। চীন ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী বোকামি ও বিশ্বজনমতের প্রতি অবজ্ঞার পুরো ফায়দা লুটছে।
বিশ্বে যদি এখনো বিন্দুমাত্র ন্যায়বিচার অবশিষ্ট থাকে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলকে এর শাস্তি পেতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে মামলা হওয়া উচিত। ব্রিটেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা। ইরান ও লেবাননের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। আর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের দায়ে কংগ্রেসে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন হওয়া উচিত।
অনেকেই হয়তো বলবেন, এসব কখনোই হবে না। কিন্তু আসল কথা হলো, এসব হওয়া উচিত এবং হতেই হবে! নৈতিকতার এবং গণতন্ত্রের এই মানদণ্ড বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতাদেরও মেনে চলতে বাধ্য করা উচিত; তা না হলে সব শেষ হয়ে যাবে। ক্ষমতায় থাকতে ট্রাম্পের হাতে এখনো প্রায় তিন বছর সময় আছে। তাঁকে এভাবে লাগামহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে দেওয়া হলে তিনি আরও কী কী করবেন, কে জানে!
ব্যর্থ ও দিকভ্রান্ত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের জন্য স্পষ্ট ও ‘ক্লিয়ার অ্যান্ড প্রেজেন্ট ডেঞ্জার’। তাঁকে এখনই ক্ষমতা থেকে টেনে নামানো উচিত।
(সাইমন টিসডাল: দ্য গার্ডিয়ান-এর ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমেন্টেটর)

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই আগুন জ্বালায়নি। এর ভয়াবহ ধাক্কা হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে জাপান সাগর পর্যন্ত পুরো এশিয়া জুড়ে অনুভূত হচ্ছে। এই সংঘাত এশিয়ার আঞ্চলিক জ্বালানি ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মূলত আওয়ামী লীগের লোক। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগ তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়। তখন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। পেশায় আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন সবশেষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রায়ই আলোচনা করি—দুর্বল বাস্তবায়ন, সেবায় বিলম্ব, সিদ্ধান্তে অস্থিরতা, জবাবদিহির ঘাটতি ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করি। কিন্তু সমস্যার একটি গভীর ও মৌলিক উৎস নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কথা হয়, আর তা হলো, রাজনৈতিক বিবেচনা বা তদবিরভিত্তিক নিয়োগ...
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে এক নতুন বাংলাদেশ, যার মূল স্পন্দন হলো রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন।
২ দিন আগে